যাত্রী তোলাকে কেন্দ্র করে ভোলার চরফ্যাশনে বাস ও সিএনজি শ্রমিকদের মধ্যে দফায় দফায় হাতাহাতি ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে জেলার সব রুটে বাস চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে বাস ও মিনি বাস শ্রমিক ইউনিয়ন।
সোমবার (৯ মার্চ) দুপুর থেকে জেলার বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামাল স্ট্যান্ডসহ সব রুটে অনির্দিষ্টকালের জন্য বাস বন্ধ করে দেন তারা। আকস্মিক এই ধর্মঘটে ভোলার অভ্যন্তরীণ সড়কগুলোতে যাতায়াতকারী হাজারো যাত্রী চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দুপুর ১২টার দিকে চরফ্যাশন সরকারি টাফনাল বারেট মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকায় সিএনজিতে যাত্রী তোলাকে কেন্দ্র করে বাস ও সিএনজি শ্রমিকদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে উভয় পক্ষ সংঘর্ষে লিপ্ত হলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এই ঘটনার প্রতিবাদে দুপুর ১টার দিকে বাস শ্রমিকরা বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামাল বাস স্ট্যান্ড এলাকায় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন। পরে পুলিশের হস্তক্ষেপে সড়ক থেকে বাস সরানো হলেও শ্রমিকরা সব রুটে বাস চলাচল বন্ধ করে দেন।
বাস চলাচল বন্ধ থাকায় ঘাটে ও বাস স্ট্যান্ডে আটকা পড়েছেন শতশত যাত্রী। যাত্রী মো. ইকবাল হোসেন ও নাজমা বেগম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, চরফ্যাশন যাওয়ার জন্য স্ট্যান্ডে এসে দেখি সব বন্ধ। এই তীব্র রোদের মধ্যে পরিবার নিয়ে দাঁড়িয়ে আছি। শ্রমিকদের দ্বন্দ্বে আমাদের কেন ভোগান্তি পোহাতে হবে?
ভোলা বাস ও মিনিবাস শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মন্নান জানান, আমাদের বাস শ্রমিকদের ওপর হামলার ঘটনায় ভোলা-চরফ্যাশন রুটের বাস চলাচল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। সিএনজি শ্রমিকদের বিচার না হওয়া পর্যন্ত বাস চলাচল বন্ধ থাকবে।
তিনি আরও জানান, কয়েকদিন পরপর সিএনজি শ্রমিকরা কারণে অকারণে আমাদের লোকজনের ওপর হামলা করে। এটার সঠিক সমাধান হওয়া উচিত। এখন ঈদ মৌসুম, তার মধ্যে এমন ঘটনা দুঃখজনক।
ভোলা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুল ইসলাম জানান, পরিস্থিতি বর্তমানে স্বাভাবিক রয়েছে। বাস স্ট্যান্ডে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। বাস শ্রমিক ও বাস মালিক সমিতির কমিটির লোকজন নিয়ে সমঝোতায় বসা হবে।
জুয়েল সাহা বিকাশ/কেএইচকে/এএসএম