দেশজুড়ে

জিয়াউর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত তিলকখালি খালের নাম পরিবর্তনের দাবি

নেত্রকোনা সদরের মেদিনী ইউনিয়নে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত তিলকখালি খালের পুনঃখনন কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। এ সময় স্থানীয় এলাকাবাসী খালটির নাম পরিবর্তন করে ‘জিয়াখালি’ রাখার জোরালো দাবি তোলেন।

সোমবার (৯ মার্চ) দুপুরে সদর উপজেলার কৃষ্ণাখালি এলাকায় এই খনন কাজের উদ্বোধন করেন নেত্রকোনা-২ আসনের সংসদ সদস্য ডা. মো. আনোয়ারুল হক।

জানা যায়, ১৯৭৯ সালে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান কোদাল দিয়ে মাটি কেটে তিলকখালি খালটি খনন কাজের উদ্বোধন করেন। দলীয় নেতাকর্মী ছাড়াও এলাকার লোকজন স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে খালটি খনন করেন। তবে চার দশকের ব্যবধানে খালটি ভরাট হয়ে যাওয়ায় মানুষের দুর্ভোগ পোহাতে হয়।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মো. আনোয়ারুল হক বলেন, নির্বাচিত সরকার যে খাল পুনঃখননের কর্মসূচি হাতে নিয়েছে, সেটির অংশ হিসেবে এই তিলকখালি খাল পুনঃখনন কাজ উদ্বোধন করা। শহীদ প্রেসিডেন্ট নিজে এসে খালটি খনন কাজের উদ্বোধন করেন। এই খাল খননের মাধ্যমে জনগুরুত্বপূর্ণ এবং জনদাবি পূরণ হবে। এই কর্মসূচির কাজ শেষ হলে এলাকার সাধারণ মানুষ সুবিধা পাবে। এখানে প্রচুর জলাবদ্ধতা হয়। এই খালটা খননের মধ্য দিয়ে জলাবদ্ধতা দূর হবে। খালের পানি যখন সেচ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে খেতে যাবে, সেখানে উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে।

তিনি বলেন, আজ থেকে ৪৭ বছর আগে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ঠিকই বুঝেছিলেন এসব খাল, পুকুর, নদ-নদী নালা, ডোবা ভরাট হয়ে যাবে। তাই এগুলো খনন না করলে মানুষের দুর্ভোগ হবে। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা হবে না। তাই এই কর্মসূচিটা একটা আন্দোলন, একটা বিপ্লব।

এই সংসদ সদস্য বলেন, দেশকে স্বনির্ভর করাই আমাদের বর্তমান সরকার প্রধান তারেক রহমানের লক্ষ্য। খননকাজে কোনো ধরনের দুর্নীতি যাতে না হয় সেদিকে আমাদের লক্ষ্য রাখতে হবে। সম্পূর্ণভাবে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে আমাদের কাজ করতে হবে। স্থানীয়রা খালটির নাম জিয়াখালি করার দাবি তুলেছেন। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে। কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এসময় সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. মুজিবুর রহমান খানের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক তাজউদ্দিন ফারাসের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি নুরুজ্জামান নুরু, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুল হক, সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক বজলুর রহমান খান পাঠান প্রমুখ।

জেলা এলজিইডি কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সারা দেশে পুকুর খাল উন্নয়ন (দ্বিতীয় সংশোধিত) প্রকল্পের আওতায় তিলকখালি খালটির দৈর্ঘ্য ৪ কিলোমিটার ২০ মিটার। ১ কোটি ৩৬ লাখ ৮৮ হাজার টাকা ব্যয়ে ‘আর এস জেড’ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়। গত ২৭ জানুয়ারি কাজ শুরু করে আগামী জুনের মধ্যে শেষ করার কথা রয়েছে। স্থানভেদে খালের উপরিভাগের প্রশস্ত হবে ১৪ থেকে ১৫ মিটার। আর বটমে থাকবে ৪ মিটার। গভীর হবে পাঁচ থেকে সাত ফুট পর্যন্ত।

এইচ এম কামাল/কেএইচকে/এমএস