খেলাধুলা

তিন পেসার দুই স্পিনার, ছয় নম্বর ব্যাটার কি তবে আফিফ?

ঘরের মাঠে গত এক বছর প্রায় টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটই বেশি খেলেছে বাংলাদেশ। অবশেষে ৫০ ওভারের ম্যাচ। আগামীকাল ১১ মার্চ দুপুরে পাকিস্তানের বিপক্ষে তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম ওয়ানডে খেলতে নামবে মেহেদী হাসান মিরাজের দল।

ইতিহাস জানাচ্ছে, শেরে বাংলায় টাইগাররা প্রায় ৪ মাস পর ওয়ানডে ম্যাচ খেলবে। গত বছর অক্টোবরে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ৩ ম্যাচের সিরিজ ২–১ ব্যবধানে জিতেছিল টিম বাংলাদেশ।

বরাবরের ‘আনপ্রেডিক্টেবল’, ‘টিপিক্যাল’ শেরে বাংলার পিচে সেই সিরিজে বাংলাদেশের সাফল্যের প্রধান কারিগর ছিলেন স্পিনাররা। লেগস্পিন গুগলি বোলার রিশাদ হোসেন বল ও ব্যাট হাতে ক্যারিয়ারসেরা নৈপুণ্য দেখিয়ে ৬৮ রানের পাশাপাশি ১২ উইকেট তুলে নিয়ে হয়েছিলেন সিরিজসেরা।

লেগি রিশাদ একা নন। ওই সিরিজে দৌর্দন্ত প্রতাপ ছিল দুই স্পিনার নাসুম আহমেদ ও তানভীর ইসলামের (প্রত্যেকে ৫টি করে উইকেট)। অফস্পিনার মিরাজও কম যাননি। তার ঝুলিতে জমা পড়ে ৩ উইকেট।

পুরো সিরিজে ৩ ম্যাচে ২ জন মাত্র পেসার খেললেও তারা সাকুল্যে ১৫ ওভার বোলিং করে মাত্র ২ উইকেট পেয়েছিলেন। তার দুটিই জমা পড়ে মোস্তাফিজুর রহমানের ঝুলিতে। প্রথম খেলায় ৫ ওভার বোলিং করে ১৬ রানে ২ উইকেট শিকারি ছিলেন কাটার মাস্টার।

তাসকিন প্রথম ম্যাচ খেলেও ২ ওভার বোলিং করে উইকেট পাননি। তারপর আর তাকে খেলানো হয়নি। শেষের ২ ম্যাচে একমাত্র পেসার হিসেবে খেলেন মোস্তাফিজ। কিন্তু কোনো ম্যাচেই ১০ ওভারের বোলিং কোটা পূর্ণ করা হয়নি এ বাঁহাতি ফাস্ট বোলারের। এর মধ্যে শেষ ম্যাচে তার বোলিংয়েরই দরকার পড়েনি। ৪ স্পিনারই কাজের কাজ করে দিয়েছিলেন।

এখন ৪ মাস পর মার্চের প্রথমভাগ অতিক্রম করে সেই শেরে বাংলার তুলনামূলক নির্জীব, নিষ্প্রাণ ও খানিক স্লো-টার্নিং পিচে ৩ পেসার নিয়ে খেলার কথা বলেছেন বাংলাদেশ কোচ। এবং দেখে ও শুনে মনেও হচ্ছে তাই। আগামীকাল ১১ মার্চ বুধবার দুপুরে শাহিন শাহ আফ্রিদির পাকিস্তানের বিপক্ষে ৩ পেসার নিয়ে খেলার কথাই নাকি ভাবছে বাংলাদেশ ম্যানেজমেন্ট।

যদি ৩ পেসার খেলেন, তাহলে একাদশটা কেমন দাঁড়াবে? ব্যাটার খেলবেন কয়জন? অলরাউন্ডার বলতে অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ একা। আর স্কোয়াডে থাকা ৪ দ্রুতগতির বোলারের সবাই স্পেশালিস্ট পেসার। কেউই অলরাউন্ডার নন। তাহলে তো ৩ ফ্রন্টলাইন পেস বোলার নিয়েই খেলবে বাংলাদেশ।

ধরেই নেয়া হচ্ছে, পরিণত ও অভিজ্ঞ তাসকিনের সাথে বৈচিত্র্যময় পেস বোলার মোস্তাফিজ এবং আরেক দ্রুতগতির বাঁহাতি ফাস্ট বোলার শরিফুলকে খেলানোর চিন্তা টিম ম্যানেজমেন্টের। কেউ কেউ নাহিদ রানার কথাও বলছেন। টপ অর্ডারে ৩ অভিষেকের অপেক্ষায় থাকা ব্যাটারের বিপক্ষে নাহিদ রানার বাড়তি গতি দিয়ে একটা বৈচিত্র্য আনার চিন্তাও থাকতে পারে টাইগারদের।

নাহিদ রানা আর শরিফুলের যেই খেলুন না কেন, পেস বোলিং কোটায় থাকা ওই ৪ জনের অন্তত তিনজন খেলবেন, এটা নিশ্চিত।

তাহলে বাকি ৯ পজিশন মিলাতে গেলে দলে দুজনের বেশি স্পিনার খেলানোর সুযোগ নেই। তাহলে ৫ ব্যাটার নিয়ে খেলতে হয়। বাংলাদেশ কি কখনো তা খেলে?

স্পিনার কোটায় অধিনায়ক মিরাজের সাথে ধরা হচ্ছে লেগস্পিনার রিশাদ হোসেনকে। তাহলে ৩ পেসার আর ২ স্পিনার মিলে হয়ে গেল ৫। রইলো বাকি ৬। ওই ছয়জন হবেন ব্যাটার। তারা কারা? তা নিয়েই ভক্ত ও সমর্থকদের কৌতূহল।

স্বয়ং হেড কোচ সিমন্স জানিয়ে দিয়েছেন, লিটন দাসকে মিডল অর্ডারে খেলানোর কথা বলেই দলে ফেরানো হয়েছে। তাই লিটন ওপেন করবেন কিংবা ওয়ানডাউন খেলবেন, এমন চিন্তার কোনই যুক্তি নেই।

তাহলে ওপেনার হিসেবে তানজিদ হাসান তামিম ফার্স্ট চয়েস। সাইফ হাসানও আছেন ফর্মে। সেটা ডান ও বাঁহাতি কম্বিনেশনও হয়। তিন নম্বরে নাজমুল হোসেন শান্তর সম্ভাবনাই বেশি। চারে তাওহিদ হৃদয় এবং পাঁচ নম্বরে লিটন দাস।

তাহলে ৬ নম্বরে কে? যেহেতু ৩ জন পেসার আছেন, তাই হয় বাড়তি স্পিন অপশনের কথা ভেবে বাঁহাতি আফিফ হোসেন ধ্রুবকে বিবেচনায় আনার সম্ভাবনা বেশি। সৌম্য সরকারও এখানে ভালো বিকল্প হতে পারেন। কিন্তু কন্ডিশন আর ফর্ম বিবেচনায় বাঁহাতি ব্যাটার কাম স্পিনার আফিফ হোসেন ধ্রুবকে খেলানোর কথাই ভাবছে টিম ম্যানেজমেন্ট।

১৫ মাস পর (২০২৪ সালের ডিসেম্বরে শেষ ম্যাচ খেলেছেন আফিফ) আবার হয়তো লাল-সবুজ জার্সিতে দেখা যেতে পারে বাঁহাতি আফিফকে।

তাহলে টাইগারদের একাদশটা কি দাঁড়ালো? মিলিয়ে নিন একটু...তানজিদ হাসান তামিম, সাইফ হাসান, নাজমুল হোসেন শান্ত, তাওহিদ হৃদয়, লিটন দাস, আফিফ হোসেন ধ্রুব, মেহেদী হাসান মিরাজ (অধিনায়ক), রিশাদ হোসেন, তাসকিন আহমেদ, মোস্তাফিজুর রহমান, শরিফুল ইসলাম।

এআরবি/এমএমআর