বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য আরও কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) ঢাকায় বাংলাদেশে নিযুক্ত মালয়েশিয়ার হাইকমিশনার মোহদ শুহাদা ওসমানের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এ আহ্বান জানান।
মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশ হাইকমিশনের একটি সূত্রে জানা গেছে, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এ সৌজন্য সাক্ষাতে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার হলো দেশের যুবক ও নারীদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা। তিনি বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে জনশক্তি সহযোগিতা আরও জোরদারের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন এবং দক্ষ কর্মী বিদেশে পাঠানোর বিষয়ে সরকারের গুরুত্বের কথাও উল্লেখ করেন।
এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বৈঠকে শামা ওবায়েদ আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে প্রতিযোগিতার জন্য বাংলাদেশি তরুণদের দক্ষ করে তুলতে মানবসম্পদ উন্নয়ন ও কারিগরি প্রশিক্ষণের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য মালয়েশিয়া সরকারের মাল্টিপল-এন্ট্রি ভিসা সুবিধা প্রদানের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য আরও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে উভয় দেশের ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার আহ্বান জানান।
বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য বৈচিত্র্যকরণ, কৃষি, ক্রীড়া, জ্বালানি বাণিজ্য এবং সাপ্লাই চেইন অংশীদারত্বসহ বিভিন্ন খাতে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা জোরদারের বিষয়েও আলোচনা হয়। প্রতিমন্ত্রী সাম্প্রতিক উচ্চপর্যায়ের সফরের সময় সাবেক প্রধান উপদেষ্টার মালয়েশিয়া সফরে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকগুলো কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন।
এছাড়া সেমিকন্ডাক্টর শিল্প, হালাল খাতের উন্নয়ন এবং কৃষিভিত্তিক শিল্পসহ উদীয়মান বিভিন্ন খাতে সহযোগিতার সম্ভাবনাও আলোচনায় আসে।
মালয়েশিয়ার হাইকমিশনার প্রযুক্তি স্থানান্তরের সুযোগের কথা উল্লেখ করে বলেন, মালয়েশিয়ার অটোমোবাইল কোম্পানিগুলো বাংলাদেশে গাড়ি সংযোজন কারখানা স্থাপনের সম্ভাবনা বিবেচনা করতে পারে এবং এক্ষেত্রে তরুণ বাংলাদেশি পেশাজীবীদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার সুযোগও রয়েছে।
বৈঠকে আরও জানানো হয়, বর্তমানে মালয়েশিয়ার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ১০ হাজারের বেশি বাংলাদেশি শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছেন এবং অনেক বাংলাদেশি শিক্ষক ও গবেষক মালয়েশিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন।
উভয় পক্ষই আশা প্রকাশ করেন, অর্থনৈতিক সহযোগিতা, জনশক্তি বিনিময় এবং জনগণের পারস্পরিক যোগাযোগ বৃদ্ধির মাধ্যমে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ভবিষ্যতে আরও সম্প্রসারিত হবে।
এমআরএম/এমএস