বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ধর্ষণ ও নির্যাতনের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় আলোচিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর আশরাফুল হোসেন আলম ওরফে হিরো আলমের জামিন পেয়েছেন। বিষয়টি নিজেই নিশ্চিত করেছেন তিনি।
জামিন পাওয়ার পর নিজের প্রতিক্রিয়ায় হিরো আলম দাবি করেন, তিনি ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছেন। তার ভাষ্য, ‘আমাকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে আটক করে রাখার চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু তারা পারেনি। আজকে আমি জামিন পেয়েছি।’
তিনি আরও জানান, বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত কথা বলতে শিগগিরই সংবাদ সম্মেলন করবেন। হিরো আলম বলেন, ‘আগামীকাল দুপুর ১২টায় ঢাকায় আমার অফিসে সংবাদ সম্মেলন করব। সেখানে পুরো বিষয়টি সাংবাদিকদের সামনে তুলে ধরব।’
মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, বিয়ের প্রতিশ্রুতি এবং চলচ্চিত্রে নায়িকা বানানোর আশ্বাস দিয়ে এক নারীকে একাধিকবার ধর্ষণের অভিযোগ আনা হয়েছে হিরো আলমের বিরুদ্ধে। অভিযোগে বলা হয়, পরবর্তীতে এক মৌলভি ডেকে কবুল করিয়ে ওই নারীকে বিয়ে করার কথা বলা হয়। এরপর বিভিন্ন স্থানে বাসা ভাড়া নিয়ে তারা একসঙ্গে বসবাস করেন।
একপর্যায়ে ওই নারী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন। অভিযোগ অনুযায়ী, গত বছরের ১৮ এপ্রিল তাকে বগুড়ায় হিরো আলমের নিজ বাড়িতে নিয়ে গর্ভপাতের জন্য চাপ দেওয়া হয়। কিন্তু তিনি এতে রাজি না হওয়ায় ২১ এপ্রিল হিরো আলমসহ অন্য অভিযুক্তরা তাকে মারধর করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এতে গুরুতর রক্তক্ষরণ হলে তাকে বগুড়া শহরের একটি ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। সেখানে তার গর্ভপাত ঘটে বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ রয়েছে। পরে ২৪ থেকে ২৬ এপ্রিল পর্যন্ত ওই নারী বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন বলেও মামলার নথিতে বলা হয়েছে।
এ ছাড়া অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, সিনেমা তৈরির কথা বলে হিরো আলম ওই নারীর কাছ থেকে প্রায় ১৫ লাখ টাকা ধার নেন।
এদিকে হিরো আলম বগুড়ার বাড়িতে আত্মগোপনে ছিলেন। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে বগুড়া থেকে তিনি ব্যক্তিগত গাড়িতে ঢাকায় পালিয়ে যাচ্ছিলেন। গোয়েন্দা তথ্যে খবর পেয়ে সদর থানা পুলিশ তার গাড়ির পিছু নেয়। পরে তাকে ধাওয়া করে শাজাহানপুর থানা-পুলিশের সহযোগিতায় মহাসড়কে ব্যারিকেড দিয়ে গাড়ি থামিয়ে গ্রেপ্তার করা হয়। তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানোর হয়।
এমআই/এলআইএ