যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ এবং মধ্যপ্রাচ্যের বাড়তে থাকা সংঘাতের কারণে তেল ও গ্যাস সরবরাহে বিঘ্ন সৃষ্টি হওয়ায় পাকিস্তান জরুরি মিতব্যয়ী ব্যবস্থা ঘোষণা করেছে।
জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক টেলিভিশন ভাষণে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ জানান, গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালিতে নৌযান চলাচল ব্যাহত হওয়ায় পাকিস্তানের অর্থনীতি সরাসরি হুমকির মুখে পড়েছে।
ভাষণে তিনি বলেন, পুরো অঞ্চল এখন কার্যত যুদ্ধাবস্থায় রয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার বেশ কয়েকটি কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে।
ঘোষিত পদক্ষেপগুলোর মধ্যে রয়েছে—সরকারি কর্মচারীদের জন্য চার দিনের কর্মসপ্তাহ চালু করা। ১৬ মার্চ থেকে মাসের শেষ পর্যন্ত স্কুলে বসন্তকালীন ছুটি ঘোষণা। সরকারি কর্মীরা ৫০ শতাংশ রোটেশন ভিত্তিতে বাসা থেকে কাজ করবেন।
বেসরকারি খাতকেও একই ব্যবস্থা অনুসরণের সুপারিশ করা হয়েছে, তবে ব্যাংকিং খাত এতে ছাড় পাবে।
স্কুল দুই সপ্তাহ বন্ধ থাকলেও নির্ধারিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। বিশ্ববিদ্যালয় ও উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে জ্বালানি সাশ্রয়ের জন্য অনলাইনে ক্লাস নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মিতব্যয়ী ব্যবস্থার অংশ হিসেবে ফেডারেল ও প্রাদেশিক মন্ত্রিসভার সদস্যরা আগামী দুই মাস তাদের বেতন ও ভাতা নেবেন না। একই সময়ে জাতীয় ও প্রাদেশিক আইনসভার সদস্যদের বেতন ২৫ শতাংশ কমানো হবে।
মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও সরকারি কর্মকর্তারা কেবল জরুরি প্রয়োজনে বিদেশ সফর করতে পারবেন এবং তাদের ইকোনমি শ্রেণিতে ভ্রমণ করতে হবে।
ফেডারেল ও প্রাদেশিক সরকারের সব সরাসরি বৈঠক নিষিদ্ধ করে অনলাইনে করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সরকারি দপ্তরগুলোর জ্বালানি ভাতাও কমানো হয়েছে।
এছাড়া সাধারণ মানুষকেও সামাজিক অনুষ্ঠান সীমিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে। বিয়ে বা অন্যান্য অনুষ্ঠানে সর্বোচ্চ ২০০ জন অতিথি থাকতে পারবেন এবং খাবারের মেনুতেও একটি প্রধান পদে সীমাবদ্ধ থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ ও জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা পাকিস্তানের অর্থনীতিতে বড় চাপ তৈরি করায় সরকার এই জরুরি পদক্ষেপ নিয়েছে।
সূত্র: আল-জাজিরা
এমএসএম