দেশজুড়ে

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক নেতাসহ দুজন রিমান্ডে, কারাগারে ৫

ঝিনাইদহে বাস পোড়ানো মামলায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন সাবেক নেতাসহ ‘দ্য রেড জুলাই’র ২ নেতার রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। বাকি ৫ জনকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ঝিনাইদহ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট-২য় আদালতের বিচারক মোখলেছুর রহমান এ আদেশ দেন।

রিমান্ড মঞ্জুরকৃত দুই ছাত্রনেতা হলেন- ঝিনাইদহ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জেলা কমিটির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক হুমায়ন কবির ও ‘দ্য রেড জুলাই’ এর জেলা কমিটির আহ্বায়ক আবু হাসনাত তানাইম।

ঝিনাইদহ আদালত পরিদর্শক মোক্তার হোসেন বলেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক হুমায়ন কবির ও দ্য রেড জুলাই-এর আহ্বায়ক আবু হাসনাত তানাইমকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করে পুলিশ। আদালত ১ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। পুলিশ হেফাজতে রেখে জিজ্ঞাসাবাদের আদেশ দিয়েছেন আদালত। গত ৭ মার্চ দিবাগত রাতে ঝিনাইদহ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে বাসে অগ্নিসংযোগের অভিযোগে দায়েরকৃত মামলায় তাদের আসামি করা হয়েছে।

এদিকে একই দিন আওয়ামী লীগ নেতা হারুণ অর রশিদের সৃজনী ফিলিং স্টেশনে ভাঙচুরের ঘটনায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ৫ নেতার জামিন নামঞ্জুর করেছেন আদালত। আসামিদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেওয়া হয়েছে।

আসামিরা হলেন- বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জেলা আহ্বায়ক সাইদুর রহমান, সদস্য সচিব আশিকুর রহমান জীবন, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক তাশদীদ হাসান, যুগ্ম-আহ্বায়ক এজাজ হোসেন অন্তর, রাসেল হুসাইন।

ঝিনাইদহ আদালত পরিদর্শক মোক্তার হোসেন জানান, ফিলিং স্টেশনে ভাঙচুরের মামলায় আটক আসামিদের ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করে পুলিশ। তবে আদালত রিমান্ড নামঞ্জুর করে আসামিদের কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দেন।

উল্লেখ্য, গত ৭ মার্চ ঝিনাইদহ শহরের কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে আওয়ামী লীগ নেতা হারুণ অর রশিদের তাজ ফিলিং স্টেশনে পাম্প কর্মীদের হামলায় নিহত হন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা ফারদিন আহমেদ নিরব। পাম্পে তেল নিতে গিয়ে বাকবিতণ্ডার জেরে বৈষম্যবিরোধী ওই নেতাকে প্রকাশ্যে পিটিয়ে আহত করে পাম্পের কর্মীরা। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে তার মৃত্যু হয়।

ওই ঘটনার পরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীরা রাতে আওয়ামী লীগ নেতার একটি ফিলিং স্টেশনের ভাঙচুর চালায়। একই দিন মধ্যরাতে ঝিনাইদহ টার্মিনালে দাঁড়িয়ে থাকা বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। পরদিন ৮ মার্চ অগ্নিসংযোগ ও ফিলিং স্টেশনে ভাঙচুরের ঘটনায় পৃথক দুটি মামলা দায়ের হয়। মামলায় অজ্ঞাতদের আসামি করা হয়। এরপর ওইদিন মধ্যরাতে শহরের বিভিন্ন মেসে অভিযান চালিয়ে পুলিশ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীদের আটক করে। পরে তাদের ওই দুই মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়।

এম শাহাজান/এনএইচআর/এএসএম