দেশজুড়ে

সড়কে পড়ে আছে ফিডার-ভাঙা চশমা ও রক্তাক্ত কাপড়

পড়ে আছে শিশুর ফিডার (বেবি নিপল), আলাদা আলাদা পায়ের জুতা। পাশে ভাঙা চশমা, রক্তাক্ত কাপড় আর চারদিকে অসংখ্য কাঁচের টুকরো। শুক্রবার (১৩ মার্চ) সকালে খুলনা-মোংলা মহাসড়কের বেলাই ব্রিজ এলাকায় দেখা যায় এ চিত্র।

দুর্ঘটনার সময় ঘটনাস্থলের একটু দূরে বসে ছিলেন সিয়াম শেখ নামের এক যুবক। তিনি বলেন, ‘এত ভয়াবহ দুর্ঘটনা আগে দেখিনি। দুটো গাড়ি দুমড়ে-মুচড়ে গেছে। মাইক্রোবাসের বেশিরভাগ যাত্রী ঘটনাস্থলে মারা গেছেন। দুই-একজন যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছিলেন। হাসপাতালে নিতে নিতে তারাও মারা যান।’

ঘটনাস্থলের পাশের বাড়ি রফিকুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তির। তিনি বলেন, ‘জীবনে এতো বড় দুর্ঘটনা দেখিনি। মাঠে গরু বেঁধে ঘরে ফিরছিলাম মাত্র। হঠাৎ বিকট শব্দ শুনি, দূর থেকে দেখি শুধু ধোঁয়া আর ধোঁয়া। এসে দেখি দুই গাড়ির সংঘর্ষ। রক্তের নদী আর মৃত মানুষ।’

দুর্ঘটনায় নিহত ১৪ জনের মধ্যে ৪ জন শিশু। তাদের মধ্যে দুই শিশুর বয়স দুই বছরের নিচে। মারা গেছেন তাদের মায়েরা। নিহত ১৪ জনের মধ্যে মোংলায় ৯টি, কয়রায় চারটি মরদেহ দাফন করা হবে। আর রামপালে নেওয়া হয়েছে মাইক্রোবাস চালকের মরদেহ।

এ বিষয়ে কাটাখালি হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাফর আহমেদ বলেন, ‘পরিবারের আবেদনের প্রেক্ষিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।’

এর আগে, বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) মোংলা উপজেলার বেলাই ব্রিজ এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায়া একই পরিবারের ১৩ জন ও মাইক্রোবাস চালক নিহত হন।

নাহিদ ফরাজী/আরএইচ/জেআইএম