দুই দলে খেলা ৬ পেসারের মধ্যে বয়সে সবার ছোট হলেও প্রথম ম্যাচের উইকেটে কোন লাইন ও লেন্থে বল করলে সফল হওয়া যাবে, তা খুব ভালোই বুঝেছিলেন তরুণ নাহিদ রানা।
রানার বোলিং লেন্থ দেখেই বোঝা গেছে, তিনি ধরেই নিয়েছিলেন উইকেট খটখটে শুকনো এবং শেরে বাংলার পিচের তুলনায় শক্ত হয়ে আছে। এই উইকেটে ওপরে ওপরে বল না করে খানিক শর্ট অফ লেন্থ কিংবা থ্রি কোয়ার্টার লেন্থে বল করলে বাড়তি বাউন্স আদায় করে নেওয়া যাবে। বাস্তবে ঠিক ঐ কাজটিই করেই প্রথম দিন ৫ উইকেটের মধ্যে তিন উইকেটই পেয়েছেন শর্ট অফ লেন্থ থেকে খানিক লাফিয়ে ওঠা ডেলিভারিতে।
ধারণা ছিল, আজ শুক্রবারও শেরে বাংলায় খানিক হার্ড উইকেটে খেলা হবে এবং ছয় ফুট দুই ইঞ্চি উচ্চতার নাহিদ রানা সেই উইকেটে বাড়তি বাউন্স আদায় করে এদিনও পাকিস্তানিদের পথের কাঁটা হবেন। কিন্তু বাস্তবে আজকের উইকেট প্রথম ম্যাচের মতো ছিল না। পিচের ওপরে দুদিকেই সবুজ ঘাসের সমারোহ, যা আগের ম্যাচের উইকেটের চেয়ে অনেক বেশি সবুজাভ। খুব স্বাভাবিকভাবেই মনে হচ্ছিল সেই সবুজ ঘাসে বল পড়লেই সুইং করবে।
কিন্তু বাস্তবে তা হয়নি। খালি চোখে যতই ঘাসযুক্ত উইকেট থাকুক না কেন এটা কিছুতেই ফাস্ট বোলারদের হান্টিং পিচ ছিল না। বরং প্রথম দিনের উইকেটের তুলনায় আজকের পিচ কম হার্ড ছিল। কিছু ডেলিভারি উঠলেও বেশির ভাগ শর্ট লেন্থের বলও তেমন বাড়তি উচ্চতায় লাফিয়ে ওঠেনি।
পর্যাপ্ত বাউন্স না থাকায় সবচেয়ে বেশি সমস্যা হলো নাহিদ রানাসহ (১০ ওভারে ১/৫৯) বাংলাদেশের অপর দুই পেসার তাসকিন আহমেদ (৮ ওভারে ১/৫৯) ও মোস্তাফিজুর রহমানের (৯ ওভারে ১/৫৩)। প্রথম ম্যাচে নাহিদ রানা একাই পতন ঘটিয়েছিলেন ২৪ রানে ৫ উইকেটের। আজ তিন পেসার মিলে ৩ উইকেট পেলেও তাদের করা ২৭ ওভারে রান উঠেছে ১৭১।
উইকেটের আচরণ ও গতি-প্রকৃতি ঠাউরে জায়গামতো বল ফেলতে না পারায় আজ কয়েক স্পেলে বল করেও নিজেকে খুঁজে পাননি নাহিদ রানা। এ প্রচণ্ড দ্রুতগতির বোলারের প্রথম ম্যাচের টানা ৭ ওভারের স্পেলটি ছিল ৭–০–২৪–৫। তার বলে ফিরে গিয়েছিলেন ৫ পাকিস্তানি ফ্রন্টলাইনার—সাহেবজাদা ফারহান, মাজ সাদাকাত, শামিল হোসেন, মোহাম্মদ রেজওয়ান ও সালমান আগা।
সেখানে আজকে নাহিদ রানা প্রথম স্পেলেই বেদম মার খেলেন। ৫ নম্বর ওভারে প্রথম বোলিং করতে এসেই বাঁহাতি পাক ওপেনার মাজ সাদাকাতের হাতে বিশাল ছক্কা হজম করেন। আগের দিন থ্রি কোয়ার্টার লেন্থ থেকে মাঝে মধ্যে ১৪৫ কিলোমিটারের বেশি গতিতে ঠুকে দিয়ে পাকিস্তানিদের মাথাব্যথার কারণ হয়েছিলেন রানা।
আজকে শুরু থেকে উইকেটে ঘাস আছে দেখেই হয়তো তার মনে হলো ঐ সবুজ ঘাসে ফেলতে পারলে বল সুইং করবে। তাই আজ একটু ওপরে ওপরে বল করার চেষ্টা। আর সেটাই হলো ভুল।
সুইং করল না একচুলও। আর সেই সোজা ডেলিভারিগুলোর বিপক্ষেই আজ অনেক স্বস্তিতে খেললেন আগের ম্যাচেই অভিষেক হওয়া মাজ সাদাকাত। নাহিদ রানাকে প্রথম ওভারের চতুর্থ বলটি করেছিলেন সাদাকাতের একদম পায়ের নাগালে। মুহূর্তে বোলারের মাথার ওপর দিয়ে বল গিয়ে ছিটকে পড়ল সীমানার ওপারে, ৯৭ মিটার দূরে।
৩ ওভারের প্রথম স্পেলে আরও কিছু ডেলিভারিতে বেদম মার খেলেন প্রথম ম্যাচে বিধ্বংসী বোলিং করা রানা। তার শর্ট বল কোমর উচ্চতায় থাকা অবস্থায় এক পায়ের ওপর ভর করে পুল খেলে মিড উইকেটের ওপর দিয়ে আবার ছক্কা হাঁকান সাদাকাত। ৩২ রান দিয়ে ফেললেন।
পরে আসলেন আবার ২০ নম্বর ওভারে। এসে শর্ট বলে শামিল হোসেনের উইকেটও পেলেন। পুল খেলতে গিয়ে মাঝ ব্যাটে আনতে পারেননি শামিল হোসেন। বল ব্যাটের বাইরের কোনায় লেগে চলে যায় থার্ড ম্যানের দিকে। পরের ৪ ওভারে নাহিদ আরও ১৫ রান দিলেন।শেষ পর্যন্ত ১০ ওভারে ৫৯ রান দিয়ে এক উইকেট নিয়ে শেষ বোলিং কোটা।
সে তুলনায় দুই স্পিনার মেহেদী হাসান মিরাজ আর রিশাদ হোসেন ভালো বোলিং করেছেন। অধিনায়ক মিরাজ কয়েক স্পেলে বোলিং করে ১০ ওভারে ৩৪ রানে দখল করেন ২ উইকেট। রিশাদ রান দিলেও (৯.৩ ওভারে ৫৬) তিন-তিনটি উইকেট ঝুলিতে পুরে পাকিস্তানকে ৩০০’র নিচে আটকে রাখেন।
এআরবি/এমএমআর/এএসএম