জাতীয়

অগ্নিঝরা মার্চ-১৪: ৩৫ দফা ঘোষণা, সর্বত্র মিছিল-সমাবেশ

অসহযোগ আন্দোলনের উত্তাল প্রেক্ষাপটে ১৯৭১ সালের ১৪ মার্চ ৩৫ দফা নির্দেশনা ঘোষণা করেন শেখ মুজিবুর রহমান। একই দিনে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ ও গণমিছিল অনুষ্ঠিত হয়। রাজনৈতিক অঙ্গনে অস্থায়ী সরকার গঠনের দাবিও জোরালো হয়ে উঠে।

শেখ মুজিবুর রহমান ধানমন্ডির বাসভবনে ন্যাপ নেতা আবদুল ওয়ালী খানের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক করেন। বৈঠকে আওয়ামী লীগের অন্যান্য শীর্ষ নেতারাও উপস্থিত ছিলেন। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের উদ্দেশে শেখ মুজিবুর রহমান বলেন, ‌‘আমাদের সংগ্রাম স্বাধীন দেশের স্বাধীন নাগরিক হিসেবে বেঁচে থাকার সংগ্রাম। জনগণের সার্বিক স্বাধীনতা অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত এই সংগ্রাম চলবে।’

রাতে এক বিবৃতিতে তিনি দেশবাসীকে অসহযোগ আন্দোলন অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়ে ৩৫ দফা নির্দেশনা জারি করেন। এতে প্রশাসন, অর্থনীতি ও জনজীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় নির্দেশনা অনুসরণের কথা বলা হয়।

ঢাকায় বিক্ষোভ, চট্টগ্রামে গণমিছিল

আগের দিনের জারি করা সামরিক ফরমানের প্রতিবাদে ঢাকায় প্রতিরক্ষা দপ্তরের বেসামরিক কর্মচারীরা মিছিল করেন। একই সঙ্গে ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ সম্পদপাচার রোধে রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে চেকপোস্ট বসায়।

অন্যদিকে চট্টগ্রাম সংগ্রাম পরিষদের উদ্যোগে সারা শহরে বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। হাজার হাজার মুক্তিকামী মানুষের অংশগ্রহণে ‘জয় বাংলা’ ধ্বনিতে প্রকম্পিত হয় পুরো নগরী।

অস্থায়ী সরকার গঠনের আহ্বান

জাতীয় লীগ নেতা আতাউর রহমান খান শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি অস্থায়ী সরকার গঠনের আহ্বান জানান। রাজনৈতিক অঙ্গনে এ আহ্বান নতুন মাত্রা যোগ করে।

এদিকে করাচিতে এক সমাবেশে পাকিস্তান পিপলস পার্টির চেয়ারম্যান জুলফিকার আলী ভুট্টো এক পাকিস্তানের কাঠামোর মধ্যে দুই অঞ্চলে দুই দলের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের দাবি জানান। তিনি এ লক্ষ্যে একটি ‘ফর্মুলা উদ্ভাবনের’ প্রস্তাবও দেন।

যৌথ সম্পাদকীয়: ‘আর সময় নেই’

ঢাকার দৈনিক পত্রিকাগুলো একটি যৌথ সম্পাদকীয় প্রকাশ করে, যার শিরোনাম- ‘আর সময় নেই’ (Time is Running Out)। সম্পাদকীয়তে চলমান রাজনৈতিক সংকট নিরসনে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

তথ্যসূত্র: রবীন্দ্রনাথ ত্রিবেদীর ‘৭১ এর দশমাস’, বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর ও ১৯৭১ সালে প্রকাশিত সংবাদপত্র।

এমএএস/এমআরএম