সৌদি আরবে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহিনীর পাঁচটি ট্যাংকার বা রিফুয়েলিং প্লেন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রভাবশালী মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটিতে অবস্থান করা যুক্তরাষ্ট্রের পাঁচটি ট্যাংকার প্লেন মাটিতে থাকা অবস্থায় হামলার শিকার হয়। যুক্তরাষ্ট্রের দুই কর্মকর্তার বরাতে জানানো হয়েছে, প্লেনগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হলেও ধ্বংস হয়নি। সেগুলো মেরামত করা হচ্ছে।
এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)।
এই হামলার ফলে চলমান যুদ্ধে এখন পর্যন্ত অন্তত সাতটি মার্কিন রিফুয়েলিং প্লেন ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। এর আগে, গত ১ মার্চ সৌদি আরবের ওই ঘাঁটিতে হামলায় গুরুতর আহত হয়ে একজন মার্কিন সেনাসদস্যের মৃত্যু হয়।
এছাড়া, ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের মধ্যে পশ্চিম ইরাকে যুক্তরাষ্ট্রের একটি কেসি-১৩৫ রিফুয়েলিং প্লেন বিধ্বস্ত হয়ে ছয়জন ক্রু সদস্য নিহত হয়েছেন। শুক্রবার এক বিবৃতিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে সেন্টকম।
বিবৃতিতে বলা হয়, ঘটনাটি তদন্তাধীন রয়েছে। তবে এটি শত্রুপক্ষের হামলা বা নিজেদের গোলাবর্ষণের কারণে ঘটেনি বলে দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের বিরুদ্ধে যৌথ হামলা শুরু করে। ওই হামলায় এখন পর্যন্ত ইরানে ১ হাজার ৩৪৮ জন নিহত এবং ১৭ হাজারের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন।
ট্যাংকার প্লেনের বিশাল বহর মোতায়েনইরানের বিরুদ্ধে হামলার দ্বিতীয় সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ১৬০টির বেশি ট্যাংকার প্লেন মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপ অঞ্চলে মোতায়েন করেছে। এসবের মধ্যে রয়েছে ১৭টি কেসি-৪৬এ পেগাসাস এবং ৬২টি কেসি-১৩৫ স্ট্র্যাটোট্যাংকার।
এসব প্লেন মধ্যপ্রাচ্যের ঘাঁটির পাশাপাশি ভারত মহাসাগরের দিয়েগো গার্সিয়া ঘাঁটিতেও রাখা হয়েছে।
২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের প্লেনবাহিনীর কাছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ট্যাংকার প্লেন বহর রয়েছে। এতে ৩৯৬টি কেসি-১৩৫ ও ১০০টি কেসি-৪৬এ রয়েছে।
সূত্র: ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল, তুর্কিয়ে টুডেকেএএ/