প্রবাস

মালয়েশিয়ায় ৮০ প্রবাসী শ্রমিকের কান্নায় কাটছে ঈদ আনন্দ

মালয়েশিয়ার জোহর রাজ্যে কর্মরত প্রায় ৮০ জন প্রবাসী শ্রমিকের ভাগ্যে এবার জুটছে না ঈদের আনন্দ। যেখানে সারা বিশ্বের মুসলিম উম্মাহ উৎসবের প্রস্তুতি নিচ্ছে, সেখানে পাসির গুদাং এলাকার একটি নির্মাণ প্রতিষ্ঠানে কর্মরত শ্রমিকরা লড়ছেন অর্থকষ্ট আর অনিশ্চয়তার সঙ্গে। গত ছয় মাস ধরে বেতন না পাওয়ায় তাদের জীবনে নেমে এসেছে চরম মানবিক বিপর্যয়।

মালয়েশিয়ার জোহর রাজ্যের এসস্টার ভিশন এসডিএন বিএইচডি (ইভিএসবি) নামের প্রতিষ্ঠানে কর্মরত এই শ্রমিকরা অভিযোগ করেছেন, তারা বর্তমানে এক গুরুতর মানবিক সংকটের মুখোমুখি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শ্রমিক বলেন, টানা ৬ মাস ধরে বেতন ও ওভারটাইম বন্ধ রয়েছে। দৈনন্দিন খাবারের জন্য অন্যের ওপর বা সামান্য সঞ্চয়ের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। নিয়োগকর্তা কোনো কার্যকর সহায়তা দিচ্ছে না।

‘আমাদের দেশে পরিবার আছে, যাদের ভরণপোষণ করতে হয়। এছাড়া মালয়েশিয়ায় আসার জন্য নেওয়া ঋণ পরিশোধের চাপও মাথার ওপর। আমরা এখন দিশেহারা।’

শ্রমিকরা গত জানুয়ারিতে মালয়েশিয়ার শ্রম বিভাগে অভিযোগ করলেও এখন পর্যন্ত কোনো সমাধান পাননি। উল্টো অভিযোগ করার পর থেকে তারা নানা হয়রানির শিকার হচ্ছেন। অভিযোগের পর ম্যানেজমেন্টের পক্ষ থেকে শ্রমিকদের হুমকি দেওয়া হয়েছে। ৮ জন শ্রমিকের চাকরির চুক্তি আর নবায়ন করা হবে না বলে জানানো হয়েছে।

এছাড়া ৬ জনের ওয়ার্ক পারমিট নবায়ন না করায় এবং একজন শ্রমিক ৮ মাস ধরে ভিসা ছাড়াই কাজ করায় তারা এখন গ্রেপ্তারের আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন।

অভিযোগের বিষয়ে ইভিএসবির মুখপাত্র ল’ ইয়িক হুই জানান, কোম্পানি বিষয়টি নিয়ে শ্রম বিভাগের সঙ্গে কাজ করছে। কোম্পানি বেতন দিতে অস্বীকার করেনি এবং পূর্ণ সহযোগিতা করছে। শ্রমিকদের খাদ্য ও কিছু আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে।বাংলাদেশ হাইকমিশনের সঙ্গে আলোচনা করে একটি সমঝোতা কাঠামো প্রস্তাব করা হয়েছে। এরই মধ্যে কিছু শ্রমিক অভিযোগ প্রত্যাহার করে সমঝোতায় পৌঁছেছেন।

মালয়েশিয়ার শ্রম বিভাগ আগামী ১৭ এপ্রিল নিয়োগকর্তার সঙ্গে একটি বিশেষ বৈঠকের আয়োজন করেছে। তবে শ্রমিকদের দাবি, ঈদের আগেই যেন তাদের বকেয়া বেতন পরিশোধ করা হয় এবং অন্য কোথাও কাজ খোঁজার জন্য ‘রিলিজ লেটার’ প্রদান করা হয়। তারা এই সংকটে বাংলাদেশ হাইকমিশন ও মালয়েশিয়া সরকারের সরাসরি এবং জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

এমআরএম/জেআইএম