দেশে ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে ঋণগ্রহণের সর্বোচ্চ সীমা বাড়িয়ে ৪০ লাখ টাকা নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এতদিন গ্রাহকরা ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ সুবিধা পেতেন। নতুন নীতিমালা অনুযায়ী এ সীমা দ্বিগুণ করা হয়েছে। রোববার (১৫ মার্চ) কেন্দ্রীয় ব্যাংক এ সংক্রান্ত নতুন নীতিমালা জারি করে।
নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, আগে ক্রেডিট কার্ডের বিপরীতে জামানত ছাড়া সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা এবং জামানতের বিপরীতে ২৫ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ দেওয়া যেত। এখন সেই সীমা বাড়িয়ে জামানতহীন ঋণ ২০ লাখ টাকা এবং জামানতের বিপরীতে ঋণের সীমা ৪০ লাখ টাকা করা হয়েছে। ব্যাংক হিসাবে জমা থাকা অর্থের ভিত্তিতে এই ঋণসীমা নির্ধারণ করা হয়, যা নিরাপদ জামানত হিসেবে বিবেচিত হয়। পাশাপাশি কার্ডধারীরা তাদের মোট ক্রেডিট সীমার সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত নগদ অর্থ উত্তোলন করতে পারবেন।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, দৈনন্দিন লেনদেনে নগদের বিকল্প হিসেবে ক্রেডিট কার্ডের ব্যবহার ক্রমেই বাড়ছে। এই ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন জটিলতা কমানো, নতুন সুবিধা যুক্ত করা এবং ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা জোরদারের লক্ষ্যে আগের নীতিমালা হালনাগাদ করে পূর্ণাঙ্গ নতুন নীতিমালা জারি করা হয়েছে। এর মাধ্যমে ভোক্তা অধিকার সুরক্ষা, দায়িত্বশীল ঋণ প্রদান এবং স্বচ্ছ নগদহীন আর্থিক লেনদেন ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
সুদ ও মাশুলনতুন নীতিমালায় ক্রেডিট কার্ড ঋণের সর্বোচ্চ সুদের হার ২৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে সুদ কেবল বকেয়া টাকার ওপর আরোপ করা যাবে, পুরো বিলের ওপর নয়। এছাড়া পণ্য বা সেবা কেনার ক্ষেত্রে সুদমুক্ত সময়সীমা থাকলেও নগদ অর্থ উত্তোলনের ক্ষেত্রে এই সুবিধা প্রযোজ্য হবে না।
ফি বা মাশুলের ক্ষেত্রেও কিছু নতুন বিধান যুক্ত করা হয়েছে। কার্ড সক্রিয় করার আগে কোনো ধরনের ফি নেওয়া যাবে না। বিল পরিশোধে দেরি হলে বিলম্ব ফি একবারের বেশি আরোপ করা যাবে না। সুদের হার বা অন্য কোনো চার্জ পরিবর্তন করা হলে তা অন্তত ৩০ দিন আগে লিখিত বা ইলেকট্রনিক মাধ্যমে কার্ডধারীকে জানাতে হবে।
গ্রাহক সুরক্ষাপাওনা টাকা আদায়ের ক্ষেত্রে গ্রাহকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে নতুন নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কোনো ব্যাংক বা রিকভারি এজেন্ট গ্রাহককে মানসিক বা শারীরিকভাবে হয়রানি বা হুমকি দিতে পারবে না। এমনকি কার্ডধারীর পরিবার, বন্ধু বা রেফারেন্স হিসেবে দেওয়া ব্যক্তিদের গোপনীয়তাও রক্ষা করতে হবে। পাওনা আদায়ের জন্য ফোন বা সরাসরি যোগাযোগ অফিস সময়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখতে হবে। কার্ড হারিয়ে গেলে বা চুরি হলে দ্রুত ব্লক করার জন্য ২৪ ঘণ্টার হেল্পলাইন চালু রাখতে হবে।
কারা পাবেন ক্রেডিট কার্ডনতুন নীতিমালা অনুযায়ী, ক্রেডিট কার্ড পেতে আবেদনকারীর বয়স কমপক্ষে ১৮ বছর হতে হবে। তবে ১৬ বছর বয়সী শিক্ষার্থীরা প্রধান কার্ডধারীর অধীনে সাপ্লিমেন্টারি কার্ড ব্যবহার করতে পারবে। এছাড়া আবেদনকারীর ই-টিন সনদ থাকতে হবে এবং তার সিআইবি রিপোর্ট পরিষ্কার হতে হবে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, আর্থিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং একটি স্বচ্ছ ক্যাশলেস পেমেন্ট ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যেই এই নতুন নির্দেশনা কার্যকর করা হয়েছে। এর মাধ্যমে ২০০৪ সালের আগের ক্রেডিট কার্ড নীতিমালা বাতিল করা হয়েছে।
ইএআর/এএমএ