ঈদুল ফিতরের বাকি আর মাত্র চার-পাঁচদিন। ঈদ সামনে রেখে প্রয়োজনীয় বাজার সারছেন ভোক্তারা। তবে কিছু পণ্যের দাম ক্রেতাদের অস্বস্তিতে ফেলেছে। বিশেষত, তিন ধরনের বাদাম ও আলুবোখারার বাজার এখন বেশ চড়া। অন্যদিকে, আগে থেকেই দামে আগুন লেগে থাকা মসলাজাতীয় পণ্যেও স্বস্তি ফেরেনি।
বিক্রেতারা বলছেন, ঈদ এলে বাদাম ও মসলা পণ্যের চাহিদা বাড়ে, সঙ্গে বাড়ে দামও। এবার মসলা পণ্যের মধ্যে সেমাই রান্নায় প্রয়োজনীয় বাদাম ও পোলাওয়ে ব্যবহার করা আলুবোখরার দাম যেটুকু বেড়েছে সেটিকে তারা ‘অস্বাভাবিক’ বলছেন।
রাজধানীর রামপুরা ও মালিবাগ এলাকার বাজার ও মহল্লার বেশ কিছু দোকান ঘুরে এবং বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।সরেজমিনে দেখা গেছে, কিছুদিন আগে প্রতি কেজি কাঠবাদাম ১২০০ থেকে ১৩০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হলেও এখন কেজিপ্রতি ২০০ টাকা বেড়ে ১৪০০ থেকে ১৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ১২০০ টাকা কেজির কাজুবাদাম এখন বিক্রি হচ্ছে ১৪০০ টাকায়। মাত্র এক মাসের ব্যবধানে এই পণ্যগুলোর দাম বেড়েছে বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা।
মাসখানেক আগেও এক কেজি চিনাবাদামের দাম ছিল ১৮০ টাকা। কেজিপ্রতি ৪০ টাকা বেড়ে এখন বিক্রি হচ্ছে ২২০ টাকায়। একইভাবে মানভেদে ১৭০০ থেকে ২৪০০ টাকায় বিক্রি হওয়া পেস্তা বাদামের কেজি এখন ২৬০০ থেকে ৩৮০০ টাকা।
মসলা বিক্রেতা মনি মিয়া জাগো নিউজকে বলেন, ‘সেমাই রান্নায় বাদাম প্রয়োজন। ঈদের এই সময়টাতে পণ্যটির চাহিদা অনেক বেড়ে যায়। পাইকারি বাজারেও দাম বাড়ে। আমরা বেশি দামে কিনে এখন খুচরায় বেশিতে বিক্রি করছি।’
তিনি বলেন, ‘এবার তিন ধরনের (কাঠবাদাম, চিনাবাদাম ও পেস্তা বাদাম) বাদামের দাম বাড়ার প্রবণতা মসলার চেয়ে বেশি। এছাড়া এসব পণ্যের বহুবিদ ব্যবহারও বাড়ছে। চাহিদাও এখন অনেক বেশি।’
এদিকে পোলাও, বিরিয়ানি, মুরগির রোস্ট, খাসির রেজালা, আচারসহ নানান পদের খাবারে মসলা হিসেবে আলুবোখারা ব্যবহৃত হয়। ঈদ কিংবা যে কোনো উৎসব-পার্বণে অনেকে এসব খাবার রান্না করেন। স্বাদে ভিন্নতা আনতে মসলাজাতীয় এ ফলেরও বহুবিধ ব্যবহার আছে। ঈদ সামনে রেখে বাজারে প্রতি কেজি ৬০০ থেকে ৮০০ টাকার আলুবোখারা এখন ১২০০ থেকে ১৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা।ঈদ ঘিরে কেজিপ্রতি প্রায় ১০০ টাকা বেড়ে কিসমিস বিক্রি হচ্ছে ৯০০ থেকে ১০০০ টাকায়। ঈদে সেমাই থেকে শুরু করে বাহারি খাবার তৈরিতে কিসমিসেরও বহুবিধ ব্যবহার হয়ে থাকে।
এসব পণ্যের তুলনায় গরম মসলার দাম অস্বাভাবিক বাড়েনি। পাড়া-মহল্লার কিছু দোকানে ঈদকেন্দ্রিক বিভিন্ন মসলার দাম কেজিতে ১০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত বাড়িয়ে বিক্রি করতে দেখা গেছে। তবে পাইকারিতে দাম প্রায় আগের মতোই রয়েছে।
তবে ঈদে না বাড়লেও গত দুই বছরে মসলার দাম বেশ বেড়েছে। অর্থাৎ, মসলা এখনো আগের চড়া দামেই আটকে আছে।
ব্যবসায়ীরা বলেছেন, দেশে মসলার বার্ষিক বাজার এখন ১০ হাজার কোটি টাকার ওপরে। এসব পণ্যের বড় অংশই আমদানিনির্ভর। খুচরা বিক্রেতারা জানান, ২০২৪ সালের ঈদুল ফিতরের পর থেকেই বাজারে মসলা পণ্যের দাম বাড়ছে।ওই সময় পাইকারি ব্যবসায়ীরা মসলার মূল্যবৃদ্ধির জন্য মূলত দুটি কারণকে দায়ী করেছিলেন। যার মধ্যে একটি কারণ—বিশ্ববাজারে কিছু মসলা পণ্যের বাড়তি দাম এবং অন্য কারণটি হলো—তখন বাংলাদেশে ডলারের দাম বৃদ্ধি। এসব কারণে সেসময় মসলার যে দাম বেড়েছিল, এখনো সেটা কমেনি।
বাজারে এখনো সবচেয়ে দামি মসলা পণ্যটির নাম এলাচ। খুচরা পর্যায়ে এখন তা বেড়ে সর্বোচ্চ পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত উঠেছে। অথচ দুই বছর আগেও এলাচ বিক্রি হতো ২০০০ টাকা কেজি দরে। সে হিসাবে মাত্র দুই বছরের ব্যবধানে পণ্যটির দাম প্রায় আড়াই গুণের বেশি বেড়েছে।
পাড়া-মহল্লার দোকানে এলাচের দাম আরও কিছুটা বেশি। কথা হলে একজন ক্রেতা জানান, তিনি দোকানে গিয়ে ১০০ টাকার এলাচ দিতে বলেন। দোকানি তাকে ২০ গ্রাম ১২০ টাকায় নিতে বলেন। এ হিসাবে প্রতি কেজি এলাচের দাম পড়ে ৬ হাজার টাকা।
ঈদের সময় দারুচিনির চাহিদাও বেশ বাড়ে। বর্তমানে বাজারে দারুচিনির কেজি ৫৬০ থেকে ৬০০ টাকা। অন্য অনেক মসলা পণ্যের মধ্যে বাজারে এখন প্রতি কেজি লবঙ্গ ১ হাজার ৮০০ টাকা থেকে ২ হাজার টাকা, ধনিয়া ৩০০ থেকে ৩৬০ টাকা এবং তেজপাতা ২০০-৩০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।এছাড়া জয়ত্রী ৪ হাজার টাকা, জায়ফল দেড় হাজার টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ছোট ছোট দোকানে এক মাসের ব্যবধানে এই পণ্যগুলোর দাম কিছুটা বেড়েছে।তবে গত কোরবানির ঈদের আগের তুলনায় দাম খানিকটা কম দেখা গেছে জিরার ক্ষেত্রে। বাজারে এখন প্রতি কেজি জিরা বিক্রি হচ্ছে ৭০০-৮০০ টাকায়। যা আগে ছিল ৯৫০ থেকে ১০০০ টাকা।
এনএইচ/এমকেআর