আন্তর্জাতিক

ট্রাম্পের আহ্বানে জাহাজ পাঠানোর পরিকল্পনা নেই জাপান-অস্ট্রেলিয়ার

হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ পাঠিয়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কোনো পরিকল্পনা করছে না জাপান ও অস্ট্রেলিয়া। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মিত্র দেশগুলোর ওপর চাপ বাড়ালেও এখন পর্যন্ত তাদের সাড়া মিলছে না।

ইরানের পদক্ষেপে কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়া হরমুজ প্রণালি বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় ধাক্কা দিয়েছে। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে তেলের সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যও বেড়ে গেছে।

রোববার (১৫ মার্চ) ট্রাম্প জানান, তার প্রশাসন ইতোমধ্যে সাতটি দেশের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। এর আগে তিনি চীন, ফ্রান্স, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাজ্যসহ বিভিন্ন দেশকে এই মিশনে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান।

জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানাই তাজকাইচি সংসদে বলেন, এ মুহূর্তে আমরা কোনো যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেইনি। আইনি কাঠামোর মধ্যে থেকে আমরা কী করতে পারি তা যাচাই করছি। এছাড়া তিনি আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্র এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো সহায়তার অনুরোধই জানায়নি।

একই সুরে জাপানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী শিনজিরো কোইজোমি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর পরিকল্পনা নেই। জাপানের সংবিধানগত সীমাবদ্ধতা এবং শান্তিবাদী অবস্থানের কারণে এ ধরনের সিদ্ধান্ত রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল।

জাপান তার জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে উদ্‌বিগ্ন। দেশটি মধ্যপ্রাচ্য থেকে প্রায় ৯০ শতাংশ তেল আমদানি করে, যার ৭০ শতাংশ হরমুজ প্রণালী দিয়ে আসে। পরিস্থিতি সামাল দিতে ইতোমধ্যে তারা মজুদকৃত তেলের ব্যবহার শুরু করেছে।

অন্যদিকে, অস্ট্রেলিয়াও জানিয়েছে তারা এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক অনুরোধ পায়নি। দেশটির পরিবহনমন্ত্রী ক্যাথরিন কিং বলেন, আমরা হরমুজ প্রণালির গুরুত্ব বুঝি, তবে সেখানে জাহাজ পাঠানোর পরিকল্পনা নেই।

অস্ট্রেলিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী রিচার্ড মার্লেস নিশ্চিত করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র তাদের সহযোগিতা চেয়েছে। তবে বিরোধী দলও এ বিষয়ে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে এবং জাতীয় স্বার্থ বিবেচনার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে।

সব মিলিয়ে, যুক্তরাষ্ট্রের আহ্বান সত্ত্বেও এখন পর্যন্ত কোনো বড় মিত্র দেশ সরাসরি সামরিক সহায়তায় এগিয়ে আসেনি, যা এই সংকটকে আরও অনিশ্চিত করে তুলছে।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

কে এম