আন্তর্জাতিক

বিশ্ববাজারে হু হু করে বাড়ছে তেলের দাম

মধ্যপ্রাচ্যের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ থাকায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়েই চলেছে। সরবরাহ ব্যবস্থা দ্রুত স্বাভাবিক হওয়ার লক্ষণ না থাকায় বাজারে চরম অস্থিরতা বিরাজ করছে। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের বেঞ্চমার্ক ব্রেন্টের দাম সোমবারও (১৬ মার্চ) ঊর্ধ্বমুখী।

গত রোববার ব্রেন্ট ক্রুডের দাম তিন শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ১০৬ মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে গিয়েছিল। সোমবার কিছুটা কমলেও বাংলাদেশ সময় সকাল সাড়ে ১০টা নাগাদ ১ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ১০৪ দশমিক ৬৩ ডলারে লেনদেন হচ্ছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে বিশ্ববাজারে তেলের দাম এ পর্যন্ত ৪০ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে, যা বিশ্ব অর্থনীতিতে মন্দার আশঙ্কা জাগিয়ে তুলছে।

আরও পড়ুন>>ইরান যুদ্ধে ১৫০০ কোটি ডলারের আয় হারিয়েছে প্রতিবেশীরা, বেশি ক্ষতি সৌদিরহরমুজ প্রণালি খোলা রাখতে অনেক দেশ যুদ্ধজাহাজ পাঠাবে, আশা ট্রাম্পেরচীনা মুদ্রায় তেল কিনলে হরমুজ প্রণালি ব্যবহার করতে দিতে পারে ইরান

বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালি দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকতে পারে— এমন আশঙ্কা থেকেই বাজারে তেলের দাম বাড়ছে।

প্রণালিতে অচলাবস্থা

ইরান ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান উত্তেজনার জেরে ইরান এই নৌপথটি কার্যত অচল করে দিয়েছে। আন্তর্জাতিক শক্তি সংস্থা (আইইএ) একে ইতিহাসের বৃহত্তম ‘জ্বালানি সরবরাহ বিপর্যয়’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে।

ইউনাইটেড কিংডম মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও)-এর তথ্যমতে, আগে প্রতিদিন গড়ে ১৩৮টি জাহাজ এই প্রণালি দিয়ে চলাচল করতো। বর্তমানে প্রতিদিন পাঁচটির বেশি জাহাজ চলাচল করতে পারছে না। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত অন্তত ১৬টি বাণিজ্যিক জাহাজ হামলার শিকার হয়েছে।

ট্রাম্পের আহ্বান ও মিত্রদের নীরবতা

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালি ফের সচল করতে মিত্র দেশগুলোর প্রতি সামরিক সহায়তার আহ্বান জানিয়েছেন। তবে চীন, জাপান, ফ্রান্স এবং যুক্তরাজ্যের মতো দেশগুলোর কাছ থেকে এখনো কোনো ইতিবাচক সাড়া মেলেনি।

জাপান এবং অস্ট্রেলিয়া সোমবার স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, ওই অঞ্চলে যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর কোনো পরিকল্পনা তাদের নেই।

আরও পড়ুন>>ইরান যুদ্ধ শুরুর পর ৮৫ দেশে বেড়েছে তেলের দাম, নেই বাংলাদেশতেলের দাম বাড়লে খাদ্যপণ্যের দাম কেন বাড়ে?তেল-গ্যাস থেকে জ্বালানি ছাড়াও যেসব নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস তৈরি হয়

এ প্রসঙ্গে ‘দ্য ফিন্যান্সিয়াল টাইমস’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছেন, যদি তার এই প্রস্তাবে সাড়া না পাওয়া যায়, তবে ন্যাটোর ভবিষ্যৎ ‘খুবই খারাপ’ হতে পারে।

প্রয়োজনে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজকে নিরাপত্তা দিয়ে প্রণালি পার করানোর কথাও বলেছেন ট্রাম্প। তবে মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইরানের সামরিক সক্ষমতা আরও দুর্বল না হওয়া পর্যন্ত সেখানে যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করা হবে না।

সূত্র: আল-জাজিরাকেএএ/