অর্থনীতি

দেশে বিনিয়োগ বাড়াতে চার সংস্থার ২৫ উদ্যোগ

দেশে বিনিয়োগ পরিবেশকে আরও সহজ, কার্যকর ও গতিশীল করতে এ-সংক্রান্ত চারটি প্রধান সংস্থার জন্য যৌথভাবে ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়েছে। যেখানে রয়েছে ২৫টি উদ্যোগ।

সংস্থাগুলো হলো- বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা), বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা), পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ অথরিটি (পিপিপিএ) ও বাংলাদেশ শিল্প উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (মিডা)।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে রোববার (১৫ মার্চ) সন্ধ্যায় এক বৈঠকে এ কর্মপরিকল্পনা উপস্থাপন করা হয়। উপস্থাপন করেন বিডা, বেজা ও মিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান এবং পিপিপিএর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আশিক চৌধুরী।

সোমবার (১৬ মার্চ) বিডার জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রশান্ত কুমার মণ্ডল এ তথ্য জানান।

বিডা জানায়, ১৮০ দিনের এ কর্মপরিকল্পনা তিনটি প্রধান স্তম্ভের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে। মোট ২৫টি উদ্যোগের মধ্যে অবকাঠামো শক্তিশালীকরণে ১৩টি, বিনিয়োগ সহায়তা জোরদারে সাতটি ও বিনিয়োগ উন্নয়নে পাঁচটি উদ্যোগ রয়েছে।

অবকাঠামো শক্তিশালীকরণএ খাতে বন্দর আধুনিকায়ন এগিয়ে নেওয়া, চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চল বাস্তবায়ন, শিল্পপার্কে ‘রেডি-টু-ইউজ’ প্লট সম্প্রসারণ, মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল ও প্রতিরক্ষা অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা, রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানগুলোকে পিপিপি, বিদেশি বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক অঞ্চলে রূপান্তরের মাধ্যমে পুনরুজ্জীবিত করা এবং জ্বালানি খাতে বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।

বিনিয়োগ সহায়তাএ জন্য প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার ও বিনিয়োগকারীদের সেবা উন্নত করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে বিডা, বেজা, বেপজা, বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষ ও পিপিপিএ- এই পাঁচ বিনিয়োগ উন্নয়ন সংস্থাকে একীভূত করার উদ্যোগ বাস্তবায়ন, বাংলাদেশ-দক্ষিণ কোরিয়া মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির (এফটিএ) লক্ষ্যে কার্যক্রম সম্পন্ন করা এবং প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বেসরকারি খাতের উপদেষ্টা পরিষদ গঠনের পরিকল্পনা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

সেই সঙ্গে আছে মন্ত্রণালয়গুলোর মধ্যে সমন্বয় জোরদার, ‘বাংলাবিজ’ নামে একক বিনিয়োগ সেবা প্ল্যাটফর্মের ব্যবহার বৃদ্ধি, বৃহৎ কৌশলগত বিনিয়োগকারীদের সমস্যার লক্ষ্যভিত্তিক সমাধান এবং চীনে বিডার প্রথম বিদেশি কার্যালয় চালুর পরিকল্পনা।

বিনিয়োগ উন্নয়নএতে দেশের শিল্প খাতের ম্যাপিং করা, অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত দেশগুলো থেকে নির্দিষ্ট খাতে প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) আকর্ষণের উদ্যোগ নেওয়া, সুনীল অর্থনীতি উন্নয়নের অংশ হিসেবে গভীর সমুদ্রে মাছ ধরা, মেরিকালচার ও রপ্তানিমুখী চিংড়ি প্রক্রিয়াজাত শিল্প গড়ে তোলা এবং নতুন এফডিআই প্রণোদনা কর্মসূচি চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।

এই ২৫টি উদ্যোগ বাস্তবায়নের মাধ্যমে অবকাঠামো উন্নয়ন, বিনিয়োগ সহায়তা জোরদার ও ভবিষ্যৎ বিনিয়োগের একটি শক্তিশালী পাইপলাইন তৈরির মাধ্যমে বাংলাদেশের বিনিয়োগ পরিবেশ আরও গতিশীল করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী বলেন, ‘আমাদের পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য হচ্ছে বিনিয়োগনির্ভর অর্থনীতি গড়ে তোলা, দ্রুত কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা এবং বাস্তবায়নমুখী সংস্কারের মাধ্যমে বাংলাদেশে দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগের প্রবাহ বাড়ানো।’

তিনি আরও বলেন, ‘বর্তমান বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার প্রেক্ষাপটে আমাদের অগ্রাধিকার হলো স্থানীয় বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগে সহায়তা করা এবং তা আরও দ্রুত গতিতে এগিয়ে নেওয়া। বিদেশি বিনিয়োগকারীদেরও আমরা সহায়তা করে যাবো, তবে আমাদের মূল জোর থাকবে দেশীয় বিনিয়োগকারীদের আরও বেশি বিনিয়োগে উৎসাহিত করা এবং যারা এরই মধ্যে বাংলাদেশে ব্যবসা পরিচালনা করছেন, তাদের কার্যক্রম সম্প্রসারণে সহায়তা করা।’

এসএম/একিউএফ