রাজনীতি

‘মার্কিন নতজানু নীতির কারণে খলিলুর রহমান বিএনপির মধ্যে টিকে আছে’

মার্কিন নতজানু নীতির কারণে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান বিএনপির মধ্যে টিকে আছে বলে অভিযোগ করেছেন গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট আয়োজিত সমাবেশে অংশ নেওয়া বক্তারা। তারা বলেন, যুক্তরাষ্ট্র তাদের অবৈধ চুক্তি বলবৎ রাখতে এই পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে বসিয়েছে।

সোমবার (১৬ মার্চ) জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে আয়োজিত সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিলে বক্তারা এসব অভিযোগ করেন।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে করা বাণিজ্য চুক্তি জাতীয় স্বার্থবিরোধী বলে জানিয়েছে গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট। তারা এ চুক্তি বাতিল ও দেশবিরোধী চুক্তি নিয়ে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করার দাবিও জানিয়েছে।

কর্মসূচিতে বাম গণতান্ত্রিক জোটের সমন্বয়ক ও বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোশরেফা মিশু, বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল কাফি রতন, বাংলাদেশ জাসদের স্থায়ী কমিটির সদস্য মুশতাক হোসেন, বাসদ (মার্কসবাদী) রাশেদ শাহরিয়ার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুনযুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তি বাতিল ও জড়িতদের শাস্তি দাবি

বক্তারা বলেন, গত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ঠিক তিনদিন আগে দেশের ইতিহাসে এক নজিরবিহীন কালো চুক্তি স্বাক্ষর করেছে ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার। আমেরিকার সঙ্গে সম্পাদিত ‘এগ্রিমেন্ট অন রেসিপ্রোকাল ট্রেড’ বা পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব, অর্থনীতি, কৃষি, বাণিজ্য, পররাষ্ট্রনীতিকে হুমকির মধ্যে ফেলা হয়েছে। ইউনূস সরকার তড়িঘড়ি করে এবং কঠোর গোপনীয়তার সঙ্গে এই চুক্তি সম্পাদন করেছে।’

তারা বলেন, অবিলম্বে এ চুক্তি বাতিল করতে হবে, তা না হলে দেশের অর্থনীতি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যের শুল্কমুক্ত সুবিধার কারণে রাজস্ব আদায় কমে যাবে। পররাষ্ট্রনীতি আমেরিকার কাছে কুক্ষিগত হয়ে যাবে।

মুশতাক হোসেন বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এ চুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশে জেনেটিক মডিফায়েড খাবার ঢুকেয়ে দেবে, তাদের বাধা দেওয়া যাবে না। এমনিতে বাংলাদেশ রোগপ্রবণ। তখন আমরা আরও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

তিনি বলেন, ভারত ও চীনের চেয়ে বেশি দাম দিয়ে বস্ত্রখাতের জন্য যুক্তরাষ্ট্র থেকে তুলা আমদানি করতে হবে। অস্ত্র কিনতে হবে ওখান থেকে। আমরা অর্থনৈতিকভাবে ধ্বংস হয়ে যাবো।

মুশতাক হোসেন বলেন, ১৫ বছর যে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়েছি, অন্তর্বর্তী সরকার তেমন একটা কাজ করেছে, যা পুরোপুরি দেশের স্বার্থবিরোধী, কালো চুক্তি। জাতীয় স্বার্থ জলাঞ্জলি দিয়ে এটি করা। কিন্তু এ চুক্তি নিয়ে বিএনপি এখনো কিছুই বলছে না। কোনো বিরোধিতাও করেছে না। তাহলে তারা যে বলে, তাদের কাছে বাংলাদেশ সবার আগে-এই কি তার নমুনা?

এনএইচ/ইএ