সোশ্যাল মিডিয়া

প্রধানমন্ত্রী বলেছেন হাত-পা যেন না ভাঙে: আশিক চৌধুরী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কর্মযজ্ঞ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্ট দিয়েছেন বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) ও বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক বিন মাহমুদ হারুন। সেখানে তিনি তার প্যারাসুট নিয়ে ঝাঁপ দেওয়ার কথা নিয়ে এটাও লেখেন, আমার কার্টুনিস্ট ফ্যানদের জন্য সুখবর। আমি সামনেও প্যারাসুট নিয়ে ঝাঁপ দেবো। প্রধানমন্ত্রী হাসি মুখে হাত-পা না ভাঙার শর্তে অনুমতি দিয়েছেন।

আশিক চৌধুরী আরও লেখেন, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আমার কোনো সেলফি নেই। প্রতিবারই এত কাজের মাঝে ছবি তোলা হয়ে ওঠে না।

মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) দুপুর পৌনে ১২টার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টে তিনি এসব কথা লেখেন।

আশিক চৌধুরী আরও লিখেছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে আমার পূর্বে কাজ করার অভিজ্ঞতা নেই। কিন্তু গত এক মাসে অনেকগুলো আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকে এবং ওয়ান-অন-ওয়ান রিভিউতে তার সঙ্গে সময় কাটানোর সুযোগ হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর কিছু লিডারশিপ ক্যারেক্টার আমাকে আশাবাদী করেছে।

‘প্রথমত, হি ইজ আ গুড লিসেনার। উনি সবার কথা ধৈর্য ধরে শুনছেন। কাউকে কিছু চাপিয়ে দিচ্ছেন না। দ্বিতীয়ত, প্রধানমন্ত্রী রেজাল্ট ওরিয়েন্টেড আলোচনা করছেন। আপনার এই উদ্যোগে কী ফল পাওয়া যাবে এবং কত দ্রুত পাওয়া যাবে’, সবাইকে এসব প্রশ্ন করছেন। এবং তৃতীয়ত, উনি দৃষ্টান্ত স্থাপন করে নেতৃত্ব দেওয়ার চেষ্টা করছেন। সমায়নুবর্তিতা, শিষ্টাচার, অনাড়ম্বর মানসিকতা এসব নিজে চর্চা করছেন।’

বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান বলেন, যাহোক, গতকালকের ক্যাচ-আপ এ আমরা ওনাকে আমাদের ১৮০ দিনের প্ল্যান শেয়ার করেছি। আমি আগেও বলেছি, সরকারি সংস্থাগুলোতে জবাবদিহিমূলক কালচার আনা জরুরি। এরই ধারাবাহিকতায় আমাদের আগামী ছয় মাসের প্রতিশ্রুতি আপনাদের শেয়ার করছি:

বৈশ্বিক অস্থিরতার ফলস্বরূপ বিশ্বব্যাপী এফডিআই নিম্নমুখী। তাই আমাদের প্রচেষ্টা থাকবে বিদেশি বিনিয়োগের পাশাপাশি দেশি বিনিয়োগের প্রতি মনোযোগ দেওয়া তথা কর্মসংস্থান তৈরিতে সাহায্য করা। কিন্তু অন্যান্য চ্যালেঞ্জের পাশাপাশি সম্ভাব্য জ্বালানি ঘাটতি আমাদের দেশের ব্যবসায়ীদের শঙ্কায় ফেলে দিয়েছে। এগুলোকে মাথায় রেখেই আমাদের ২৫টি পদক্ষেপ (ডিটেইল কমেন্টে)। তার মধ্যে কয়েকটি উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ হচ্ছে:

• সরকারি বন্ধ ও রুগ্ন শিল্প কারখানাগুলোকে পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ মডেলে প্রাইভটাইজেশন।

• ফ্রি ট্রেড জোন ও সমরাস্ত্র শিল্প নীতিমালা প্রকাশ।

• বিকল্প জ্বালানি ব্যবস্থা অনুসন্ধান।

• দুর্নীতি রোধে ও লিড টাইম কমাতে সমুদ্র ও বিমানবন্দরে আধুনিক ব্যবস্থাপনা চালুকরণ।

• প্রধানমন্ত্রীর জন্য প্রাইভেট সেক্টর অ্যাডভাইসরি কাউন্সিল গঠন।

• ব্যবসা সংক্রান্ত সরকারি সার্ভিসের একক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম বাংলাবিজ-এর সম্প্রসারণ।

• বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বে কোরিয়া-বাংলাদেশ ফ্রি ট্রেড অ্যাগ্রিমেন্ট সম্পন্ন।

সবশেষ আশিক চৌধুরী লেখেন, ছয় মাস শেষে আমরা আবার একটা রেজাল্ট কার্ড করবো আমাদের সাফল্য ও ব্যর্থতা নিয়ে।

পুনশ্চ ১: আমার কার্টুনিস্ট ফ্যানদের জন্য সুখবর। আমি সামনেও প্যারাসুট নিয়ে ঝাঁপ দেবো। প্রধানমন্ত্রী হাসি মুখে হাত-পা না ভাঙার শর্তে অনুমতি দিয়েছেন।

পুনশ্চ ২: প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আমার কোনো সেলফি নেই। প্রতিবারই এত কাজের মাঝে ছবি তোলা হয়ে ওঠে না।

স্ট্যাটাসে ১৮০ দিনের অগ্রাধিকার নিয়ে একটি ফটোকার্ডও শেয়ারও করেন বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান।

এসএনআর/জেআইএম