খেলাধুলা

কাবুলে হামলা: পাকিস্তানকে ইসরায়েলের সঙ্গে তুলনা আফগান ক্রিকেটারের

আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে ভয়াবহ বিমান হামলায় অন্তত ৪০০ জন নিহত এবং প্রায় ২৫০ জন আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার চালানো এই হামলাকে সাম্প্রতিক ইতিহাসে দেশটির অন্যতম প্রাণঘাতী ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। অভিযোগ উঠেছে, হামলাটি চালিয়েছে পাকিস্তান।

এই হামলার পর তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন আফগানিস্তানের ক্রিকেটাররা। জাতীয় দলের পেসার নাভিন-উল হক সামাজিক মাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করে পাকিস্তানের সঙ্গে ইসরায়েলের তুলনা করেন। নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পোস্টে তিনি লেখেন, ‘ইসরায়েল এবং পাকিস্তানের শাসনব্যবস্থার মধ্যে কোনো পার্থক্য খুঁজে পাওয়া কঠিন।’

উল্লেখ্য, এই হামলাটি ২০২১ সালে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের সময় কাবুল বিমানবন্দরে হওয়া আত্মঘাতি বিস্ফোরণের পর সবচেয়ে বড় প্রাণহানির ঘটনা। সেই হামলায় অন্তত ১৬৯ জন আফগান বেসামরিক নাগরিক এবং ১৩ জন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছিলেন।

বর্তমান হামলার পর আরেক তারকা ক্রিকেটার রশিদ খানও তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, বেসামরিক মানুষের বাড়িঘর, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কিংবা চিকিৎসা কেন্দ্র লক্ষ্য করে হামলা চালানো- ইচ্ছাকৃত হোক বা ভুলবশত, এটি সরাসরি যুদ্ধাপরাধ। বিশেষ করে পবিত্র রমজান মাসে এমন হামলা মানবতার জন্য গভীর উদ্বেগের বিষয় বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

রশিদ খান আরও বলেন, ‘মানবজীবনের প্রতি এমন অবহেলা ঘৃণ্য এবং বিভাজন ও সহিংসতা আরও বাড়াবে।’ একই সঙ্গে তিনি জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর প্রতি এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের আহ্বান জানান।

আফগানিস্তানের সাবেক অধিনায়ক মোহাম্মদ নবিও এই হামলার তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি জানান, কাবুলের একটি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা তরুণদের ওপর এই হামলা চালানো হয়েছে, যা অত্যন্ত মর্মান্তিক। অনেক মা হাসপাতালের বাইরে দাঁড়িয়ে তাদের সন্তানদের নাম ধরে ডাকছিলেন; কিন্তু তারা আর ফিরে আসেনি।

এই ভয়াবহ হামলা এমন এক সময়ে ঘটলো, যখন পুরো মুসলিম বিশ্ব পবিত্র রমজান মাস পালন করছে। ফলে ঘটনাটি ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে নিন্দার ঝড় উঠেছে।

সব মিলিয়ে, কাবুলের এই বিমান হামলা শুধু প্রাণহানির দিক থেকেই নয়, বরং মানবিক ও রাজনৈতিক দিক থেকেও গভীর সংকট তৈরি করেছে। এখন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের পদক্ষেপ এবং তদন্তের দিকেই তাকিয়ে রয়েছে বিশ্ববাসী।

আইএইচএস/