দেশজুড়ে

‘টিভিতে দেখি ভাড়া বাড়বে না, কিন্তু বাস কাউন্টারে গেলেই চিত্র উল্টো’

টিভিতে দেখি ভাড়া বাড়বে না, কিন্তু বাস কাউন্টারে গেলেই চিত্র উল্টো। ৪৫০ টাকার টিকিট কাটতে হচ্ছে ৭০০ টাকায়।— এভাবেই ক্ষোভ প্রকাশ করছিলেন ঢাকা থেকে বরিশাল ফেরা বেসরকারি চাকরিজীবী শাহিন হাওলাদার। শুধু শাহিন নন, নাড়ির টানে দক্ষিণবঙ্গে ফেরা হাজারো মানুষের মুখে এখন একই অভিযোগ। ঈদযাত্রায় সরকারি নানা আশ্বাসের পরও ঢাকা-বরিশাল রুটে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের ‘মহোৎসব’ চলছে।

বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) বরিশাল নগরীর নথুল্লাবাদ বাস টার্মিনালে গিয়ে দেখা যায়, প্রতি দুই-চার মিনিট পরপরই ঢাকা থেকে যাত্রী বোঝাই বাস আসছে। হানিফ, গোল্ডেন লাইন, শ্যামলী, সুগন্ধা ও বিএমএফসহ বিভিন্ন পরিবহনে আসা যাত্রীরা জানান, নিয়মিত যে পথে ভাড়া ৩৫০ থেকে ৫০০ টাকা, সেখানে এখন নেওয়া হচ্ছে ৬৫০ থেকে ৭০০ টাকা।

আরেক যাত্রী সোহেল জোমাদ্দার বলেন, সবসময় ৪৫০ টাকায় যাতায়াত করি। এখন ঈদ আসতেই ভাড়া দ্বিগুণ। প্রতিবাদ করতে গেলে শ্রমিকদের সাথে ঝগড়া লেগে যায়, তাই বাধ্য হয়েই বাড়তি টাকা দিয়ে ফিরতে হচ্ছে। অথচ কয়েকদিন আগে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম আশ্বস্ত করেছিলেন যে, ঈদে কোথাও বাড়তি ভাড়া নেওয়া হবে না। কিন্তু বাস্তব চিত্র পুরোপুরি ভিন্ন।

তবে ভাড়া বৃদ্ধির দায় নিতে নারাজ বাসের চালক ও শ্রমিকরা। তাদের দাবি, যারা কাউন্টার পরিচালনা করেন তারা মালিকদের কাছ থেকে ঈদ উপলক্ষে বাস ইজারা নিয়েছেন। এই তৃতীয় পক্ষই মূলত বাড়তি ভাড়া আদায় করছে।

এ বিষয়ে বরিশাল জেলা বাস মালিক গ্রুপের সভাপতি মোশারফ হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, বরিশাল থেকে কোনো বাড়তি ভাড়া নেওয়া হচ্ছে না। ঢাকা থেকে আসা বাসে বেশি ভাড়া রাখলে সেই দায় আমাদের নয়। এছাড়া বিআরটিএ থেকে এবার কোনো ভাড়ার তালিকা টাঙিয়ে দেওয়া হয়নি বলেও তিনি দাবি করেন।

এদিকে ঈদে ঘরমুখো যাত্রীদের ও নগরবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিতে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের আড়াই হাজার পুলিশ সদস্য নিয়োজিত রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন পুলিশ কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম। এছাড়া নগরীর বিভিন্ন স্থানে ২৬২ টি সিসি ক্যামেরা স্থাপন করে নগরীর সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, মেট্রোপলিটন এলাকায় ঘরমুখো মানুষ যেন নিরাপদে এবং ভোগান্তি ছাড়া ফিরতে পারে তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের সার্বক্ষণিক নজরদারি চলছে। সড়কে যেন গাড়ি রেখে কেউ ভোগান্তি না তৈরি করে এজন্য সঠিক নির্দেশনা দেওয়া আছে। ভোগান্তিমুক্ত যাত্রার নিশ্চয়তা দিতে আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা করছি। শাওন খান/কেএইচকে/এমএস