ঈদযাত্রা কেন্দ্র করে রাজধানীর সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে উপচেপড়া ভিড়ের মধ্যেই অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাই ঠেকাতে সরাসরি মাঠে নেমেছেন নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী রাজিব আহসান। নিজে উপস্থিত থেকে একাধিক লঞ্চ পরিদর্শন করে অতিরিক্ত চাপ থাকা নৌযানগুলোকে দ্রুত ঘাট ছাড়ার নির্দেশ দেন তিনি।
পবিত্র ঈদুল ফিতর সামনে রেখে ঘরমুখো মানুষের ঢল নেমেছে দেশের দক্ষিণাঞ্চলগামী নৌপথে। এরই মধ্যে রাজধানীর সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে যাত্রীদের নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করতে সক্রিয় ভূমিকা নিতে দেখা গেছে নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী রাজিব আহসানকে।
বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) সকালে তিনি সদরঘাটের বিভিন্ন পন্টুনে গিয়ে সরেজমিন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন। এসময় বেশ কয়েকটি লঞ্চ অতিরিক্ত যাত্রী নেওয়ার অপেক্ষায় থাকলেও প্রতিমন্ত্রীর নির্দেশে সেগুলোকে আর দেরি না করে দ্রুত গন্তব্যের উদ্দেশ্যে ছেড়ে দেওয়া হয়।
প্রতিমন্ত্রী নিজেই একাধিক লঞ্চে উঠে যাত্রীসংখ্যা যাচাই করেন। যেখানে যাত্রীর চাপ তুলনামূলক বেশি ছিল, সেসব লঞ্চকে ঘাটে অবস্থান করতে না দিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশ দেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, তার উপস্থিতিতেই অন্তত সাত থেকে আটটি লঞ্চ টার্মিনাল ত্যাগ করে।
শুধু লঞ্চ ছাড়াই নয়, পুরো টার্মিনাল এলাকা ঘুরে যাত্রী নিরাপত্তা নিশ্চিতের দিকেও নজর দেন তিনি। বিআইডব্লিউটিএ’র স্পিডবোট ও কেবিন ক্রুজের মাধ্যমে নদীপথের পরিস্থিতিও পর্যবেক্ষণ করা হয়। বিশেষ করে লঞ্চগুলোর মধ্যে অস্বাস্থ্যকর প্রতিযোগিতা, হুড়োহুড়ি কিংবা অতিরিক্ত যাত্রী তোলার প্রবণতা বন্ধে কঠোর অবস্থান নেন প্রতিমন্ত্রী।
এর আগে আগের দিনের দুর্ঘটনার পরপরই ঘটনাস্থলে গিয়ে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়ানোর নির্দেশনা দেন তিনি। পাশাপাশি নিখোঁজ ব্যক্তিকে উদ্ধারে ডুবুরি দলের কার্যক্রমের অগ্রগতিও খতিয়ে দেখেন।
গণমাধ্যমকর্মীরা নিরাপত্তা ও প্রস্তুতি নিয়ে জানতে চাইলে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য না দিলেও সংশ্লিষ্টদের স্পষ্ট নির্দেশ দেন, কোনোভাবেই যেন অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাই করে লঞ্চ ছাড়তে না পারে এবং ন্যূনতম নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
এমডিএএ/এমআইএইচএস