জাতীয়

উত্তরবঙ্গের বাসগুলো এখনো পৌঁছায়নি গাবতলীতে, যাত্রীদের দুর্ভোগ

বুধবার সন্ধ্যা থেকে উত্তরের জেলা রংপুর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, জয়পুরহাট, বগুড়া, পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও, গাইবান্ধা, নীলফামারী এবং দিনাজপুর রুটে ৩০টি গাড়ি ছাড়া হয়েছে। ঢাকার গাবতলী বাস টার্মিনাল থেকে এসব বাস উত্তরের পথে ছেড়ে যায়। ১৫ থেকে ১৮ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও এই বাসগুলোর অধিকাংশই এখনো গন্তব্যে পৌঁছাতে পারেনি। রওয়ানা হওয়া বাসগুলো যমুনা সেতুর আগের বিভিন্ন পয়েন্টে আটকে আছে।

বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) দুপুরে গাবতলী কাউন্টারগুলো থেকে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।

আহাদ এন্টারপ্রাইজের কাউন্টার ম্যানেজার ইয়াসিন বলেন, রাস্তায় অনেক যানজট। ফলে রাতে যে গাড়ি ছাড়া হয়েছে, সেগুলোর অধিকাংশ এখনো গাবতলীতে ফিরে আসেনি। তবে কিছু গাড়ি চন্দ্রা, বাইপাইলে আটকে আছে। এ কারণে বাড়তি টিকিটও বিক্রি করতে পারছি না। তাদের এসি/নন-এসি মিলে ৩০টি গাড়ি তারা রাতে ছেড়েছেন। এখনো ছাড়ছেন। কিন্তু বাসগুলোর জিপিএস ট্র্যাক বলছে, সেগুলো এখনো যমুনা সেতু পার হতে পারেনি।

এমন ভোগান্তিতে শুধু আহাদ পরিবহনের বাসগুলোই পড়েনি, ভুগছে নামীদামি কমবেশি সব পরিবহনের দূরপাল্লার বাসগুলো। গাবতলী বাস টার্মিনালের কাউন্টারগুলোর পক্ষ থেকে এসব তথ্য জানানো হয়।

তারা জানিয়েছে, সকালে যেসব বাস ছাড়ার কথা ছিল, সেগুলোর অধিকাংশ পথে আটকা। প্রায় ৮০ শতাংশ বাস এখনো গন্তব্যে পৌঁছেনি। এ সমস্যাটা বেশি হয়েছে উত্তরের জেলাগুলোতে রওয়ানা হওয়া বাসগুলোর ক্ষেত্রে। বাসগুলো ফিরে না আসায় তারা যাত্রীদের কাছ থেকে নানা প্রশ্নের মুখোমুখি হচ্ছেন।

তারা আরও জানিয়েছেন, গতকাল রাতে ঢাকা থেকে রওয়ানা হওয়া এসব বাসের একটি বড় অংশই এখনো টাঙ্গাইলের চন্দ্রা, বাইপাইল, করটিয়ায় আটকে আছে। রাস্তার কাজ চলায় এমন ভোগান্তি তৈরি হয়েছে বলে জানান তারা।

গতকাল রাতে শাহ ফতেহ আলী পরিবহনের ২৯টি বাস উত্তরের জেলাগুলোতে রওয়ানা হয়েছে। কিন্তু মাত্র সাতটি ফিরে আসলেও বাকিগুলো এখনো গন্তব্যে যাওয়ার পথে মাঝপথে পড়ে আছে।

কাউন্টারম্যান জাহিদ বলেন, বসে আছি। যাত্রীরা বারবার এসে খোঁজখবর নিচ্ছেন কখন বাস ফিরবে, কিন্তু এটা তো আমাদের ওপর নেই। রাস্তার অবস্থা ভালো না, ফলে এই অবস্থা। একই অবস্থা হানিফ পরিবহনেরও। পরিবহনটির গাবতলীতে থাকা একটি কাউন্টারের ম্যানেজার আমানুল্লাহ জানান, তারা সকাল থেকে ১০টি গাড়ি উত্তরে ছেড়েছেন। বাকি গাড়িগুলো এখনো ফেরেনি।

আসাদ পরিবহনের রিমন বলেন, রাতে তিনটি গাড়ি ছাড়ছি, তিনটিই ব্যাক করেনি। এসআই ট্রাভেল গতরাতে পাঁচটি গাড়ি ছাড়লেও উত্তরের গন্তব্যে এখনো পৌঁছাতে পারেনি বলে জানান কাউন্টার ম্যানেজার সাইফুল ইসলাম।

তিনি বলেন, গতরাত থেকে এ অবস্থা। বাধ্য হয়ে আমি আমার ভাইকে নাবিল পরিবহনে তুলে দিয়েছি। সে সকাল রাত ১০টায় ছিল বগুড়ার ফুড ভিলেজে। এই হলো অবস্থা।

গাবতলীতে আহাদ পরিবহনের কাউন্টারের সামনে উত্তরের জেলা জয়পুরহাট যাওয়ার জন্য বসে আছেন কাইয়ুম আহমেদ দম্পতি। তিনি বলেন, আমাদের গাড়ি ছিল ১টায়। কিন্তু এখনো জানি না কখন আসবে। ওরা তো বলছে গাড়ি ঢুকলে ছাড়বে, কিন্তু কখন!

গতকাল রাতে ছেড়ে যাওয়া অধিকাংশ বাস এখনো ফিরে না আসায় বিপাকে পড়েছেন কাউন্টারে থাকা ব্যক্তিরা। তাদের অনেকে যাত্রীদের প্রশ্নবাণে জর্জরিত হওয়ার ভয়ে কাউন্টার ছেড়ে অন্যত্র সময় কাটাচ্ছেন।

ঢাকার গাবতলী বাস টার্মিনালে যাত্রীর চাপ নেই। অনেকটাই ফাঁকা টার্মিনাল। কাউন্টারগুলোতে বসে গল্পগুজব করে সময় কাটাচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা। আজ সারাদিন এমনই থাকবে বলে মনে করছেন তারা। তাদের ভাষ্য, যারা ঈদে বাড়ি যাচ্ছেন তারা গতকালই চলে গেছেন। আর যারা আটকে ছিলেন, আজ তারা যাচ্ছেন। তবে সেই সংখ্যা কম।

গাবতলী বাস টার্মিনালে চিরচেনা ভিড় নেই। তবুও টিকিটের কৃত্রিম সংকট দেখানো হচ্ছে বাড়তি ভাড়ার আশায়। এর মধ্যে কিছু লোকজন টিকিট খুঁজছিলেন। কিন্তু অধিকাংশ কাউন্টারে টিকিট নেই। কাউন্টারগুলোতে নেই হাকডাকও।

লালমনিরহাটে যাবেন ফিরোজ আহমেদ। গতকাল রাতে যেতে পারেননি বলে আজ এসেছেন। কিন্তু বাস পেলেও ভালো সিট মিলছে না। ফলে দুপুর পর্যন্ত তিনি কোনো বাসেই ওঠেননি।

তবে এর ফাঁকে গত কয়েকদিনের মতো আজও রাস্তা থেকে চলন্ত অবস্থায় যাত্রী তুলছে কিছু পরিবহন। সেগুলোর টিকিটে বাড়তি ভাড়া আদায়ের অভিযোগও মিলেছে।

এমওএস/এসএইচএস