ম্যানচেস্টার সিটির তারকা স্ট্রাইকার আরলিং হালান্ড ফুটবলের বাইরে এবার ভিন্ন এক জগতে বিনিয়োগ করে চমক দেখালেন। ফুটবলের বাইরে তিনি এবার দাবা বিশ্বচ্যাম্পিয়নশিপে বড় অঙ্কের অর্থ বিনিয়োগ করেছেন, যা আগামী বছর থেকে শুরু হওয়ার কথা।
নরওয়ের ব্যবসায়ী মর্টেন বোর্গের সঙ্গে যৌথভাবে ‘চেস মেটস’ নামে একটি কোম্পানি গঠন করেছেন হালান্ড। এই প্রতিষ্ঠান নরওয়ে চেস এবং নতুন ফরম্যাটের ‘টোটাল চেস ওয়ার্ল্ড চ্যাম্পিয়নশিপ’-এ গুরুত্বপূর্ণ অংশীদারিত্ব নেবে।
নতুন এই প্রতিযোগিতায় অন্তত ২.৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের পুরস্কার রাখা হবে, যা দাবা বিশ্বের অন্যতম বড় আয়োজন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
হালান্ড বলেন, ‘দাবা একটি অসাধারণ খেলা। এটি আপনার চিন্তাশক্তিকে তীক্ষ্ণ করে এবং ফুটবলের সঙ্গে এর অনেক মিল রয়েছে। দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে হয়, নিজের অনুভূতির ওপর বিশ্বাস রাখতে হয় এবং কয়েক ধাপ আগেই পরিকল্পনা করতে হয়। কৌশলই এখানে সবকিছু।’
এই চ্যাম্পিয়নশিপ বছরে চারটি টুর্নামেন্ট নিয়ে গঠিত হবে এবং খেলোয়াড়রা তিনটি ভিন্ন ফরম্যাটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন- ফাস্ট ক্লাসিক, র্যাপিড এবং ব্লিটজ।
এই প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারেন নরওয়েরই বিশ্বখ্যাত দাবাড়ু ম্যাগনাস কার্লসেন, যিনি আগেও নিজেকে হালান্ডের সঙ্গে তুলনা করেছিলেন।
সাম্প্রতিক সময়ে ফুটবল ও দাবা জগতের মধ্যে সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হচ্ছে। ইংলিশ ফুটবলার এবেরেচি এজে একটি অপেশাদার দাবা প্রতিযোগিতায় জয়ী হয়ে পুরস্কারও জিতেছেন। এছাড়া হালান্ডের কোচ পেপ গার্দিওলা এবং লিভারপুল তারকা মোহাম্মদ সালাহও দাবা খেলতে পছন্দ করেন বলে জানিয়েছেন।
হালান্ড আরও বলেন, ‘আমি নরওয়ে চেসে বিনিয়োগ করেছি কারণ আমি বিশ্বাস করি, নতুন এই টোটাল চেস ওয়ার্ল্ড চ্যাম্পিয়নশিপ দাবাকে বিশ্বব্যাপি আরও জনপ্রিয় করে তুলতে পারে। এই আয়োজনের পেছনের দল ইতিমধ্যেই অসাধারণ কাজ করেছে, তাই এই প্রকল্পে যুক্ত হওয়া আমার জন্য দারুণ সুযোগ।’
সব মিলিয়ে, ফুটবল মাঠের বাইরেও নিজের প্রভাব বিস্তার করছেন হালান্ড- এবার দাবা বিশ্বেও বড় পরিবর্তনের অংশ হতে যাচ্ছেন এই নরওয়েজিয়ান তারকা।
আইএইচএস/