ঈদ মানে খুশি, আনন্দ। ঈদ আসলে মানুষের জীবনে আসে মনোরম মুহূর্ত। দিনটিকে মজা ও আনন্দ দিয়ে নিজের মতো করে উদযাপন করা। মজা ও আনন্দের সাথে সাথে ঈদ আমাদের বুঝিয়ে দেয় দায়িত্ববোধ ও ভালোবাসার মাত্রা। ছোটবেলায় ঈদ আসলে নিজের মধ্যে যে অনুভূতি তৈরি হতো যৌবনে সেই অনুভূতি অন্যের মধ্যে দেখতে ভালো লাগে।
শৈশবের ঈদ মানে সীমাহীন আনন্দ ও উত্তেজনাপূর্ণ। ঈদের চাঁদ দেখার জন্য ভীষণ উত্তেজনা থাকত। চাঁদ রাতে ভাই-বোন, বন্ধু-বান্ধবদের সাথে মজা করা। তাদের সাথে আতশবাজি ফোটানো, সবাই মিলে হাতে মেহেদি দেওয়া। আবার ভোরে ঘুম থেকে উঠে গোসল করে নতুন পোশাক পড়ে নামাজ আদায় করা। মজার মজার খাবার খাওয়া, বন্ধু-বান্ধবদের সাথে আত্মীয়-স্বজনদের বাড়ি ঘুরতে যাওয়া। নতুন টাকার সালামি গ্রহণ করা এবং বাড়ি ফিরে সালামি গণনা করা ছিল বড় আকর্ষণ। কোনো দায়িত্ব বা চিন্তা ছিল না। শুধু ছিল আনন্দ আর আনন্দ।
আরও পড়ুনঈদের একাল সেকালতারুণ্যের চোখে ঈদঈদের আনন্দে রাজশাহী কলেজ শিক্ষার্থীদের ভাবনাশৈশবের ঈদের সাথে যৌবনে ঈদ- এই তুলনাটা অনেকের কাছে খুবই আবেগের। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে ঈদের অনুভূতিও অনেকটা বদলে যায়। এখন আর সেই ছোটবেলার মতো উত্তেজনা থাকে না। বয়স বাড়ার সাথে সাথে দায়িত্ববোধ বাড়তে থাকে। নিজে না কিনে পরিবারের জন্য কেটাকাটা করতে হয়। একসময় নিজে সালামি পেতাম, এখন ছোটদের সালামি দেওয়া লাগে। পড়াশোনা ও কাজের ব্যস্ততার কারণে ঈদের সময়টা ছোট মনে হয়। আগে বন্ধুদের সাথে বেশি সময় কাটানো হত এখন পরিবারের সাথে সময় কাটাতে হয়। তাদের বিভিন্ন কাজে সহযোগিতা করতে হয়। এতে সময় দ্রুত পার হয়ে যায়, যা বোঝা যায় না।
শৈশবের ঈদ ছিল আনন্দ আর উচ্ছ্বাসে ভরা, আর যৌবনের ঈদে আনন্দের সাথে দায়িত্ব ও বাস্তবতার প্রভাব বেশি থাকে। তবুও ঈদ সব সময়ই মানুষের হৃদয়ে ভালোবাসা, মিলন আর সুখের বার্তা নিয়ে আসে।
মির্জা ফারিহা ইয়াসমিন (স্নেহা)মার্কেটিং ২য় বর্ষরাজশাহী কলেজ, রাজশাহী
এমআইএইচ