জাতীয়

বাসে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ ভিত্তিহীন, দাবি মালিক সমিতির

এবারের ঈদযাত্রায় বাসে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব মো. সাইফুল আলম। অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগকারী মোজাম্মেল হকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

শুক্রবার (২০ মার্চ) এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে এ দাবি করেন তিনি। ব্রিফিংয়ে মালিক সমিতির কার্যকরী সভাপতি এম এ বাতেন, বাংলাদেশ বাস-ট্রাক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি জি আর শহীদ ও সাধারণ সম্পাদক মো. হানিফ, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি আব্দুর রহিম বক্সদুদু ও সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান উপস্থিত ছিলেন।

লিখিত বক্তব্যে সাইফুল আলম বলেন, যাত্রীদের নির্বিঘ্নে বাড়ি পৌঁছানো নিশ্চিত করতে সরকার, প্রশাসন, পুলিশ এবং মালিক-শ্রমিক সংগঠন যৌথভাবে কাজ করছে। রাজধানীর মহাখালী, গাবতলী, সায়েদাবাদ, ফুলবাড়িয়া ও গুলিস্তানসহ গুরুত্বপূর্ণ বাস টার্মিনালে সার্বক্ষণিক মনিটরিং করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, প্রতিটি টার্মিনালে র‍্যাব, পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার পাশাপাশি বিআরটিএর নির্বাহী ও জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া শৃঙ্খলা বজায় রাখা ও যাত্রীদের সহায়তায় পর্যাপ্ত সংখ্যক স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুনঈদযাত্রায় বাড়তি ভাড়া আদায়ে ২০ বছরের রেকর্ড ভঙ্গের পথেঈদযাত্রায় বাসে বাড়তি ভাড়া নেওয়া হচ্ছে না: মালিক শ্রমিক পরিষদ

সাইফুল বলেন, অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বা কোনো অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এরই মধ্যে বিভিন্ন টার্মিনাল ও কাউন্টারে অভিযান চালিয়ে বেশ কিছু অনিয়মের প্রমাণ পাওয়ায় সংশ্লিষ্টদের জরিমানা ও সতর্ক করা হয়েছে। এক ক্ষেত্রে একজন কাউন্টার ম্যানেজারকে গ্রেফতার করে শাস্তি দেওয়া হয়েছে।

ঈদযাত্রায় স্বল্প সময়ে বিপুল সংখ্যক যাত্রী পরিবহন একটি বড় চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সাইফুল আলম বলেন, এ সেবা কাজ চ্যালেঞ্জ হলেও সংশ্লিষ্ট সবাই আন্তরিকভাবে দায়িত্ব পালন করছেন। তারপরও যাত্রী কল্যাণ সমিতির নামে মো. মোজাম্মেল হক ঈদযাত্রায় ১৪৮ কোটি টাকা অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ করেছেন। এটি ‘মিথ্যা, কাল্পনিক ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’।

এ ধরনের বক্তব্য দেশবাসীকে বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টা উল্লেখ করে এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব। পাশাপাশি মোজাম্মেল হকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

এছাড়া আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তার অভিযোগের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ উপস্থাপনের আহ্বান জানিয়েছেন। অন্যথায় তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তারা।

এমএমএ/বিএ