ঈদের সময় খাবারের আয়োজন সাধারণত অন্য সময়ের চেয়ে অনেক ভারী হয়। মাংস, বিরিয়ানি, মিষ্টি, তেল-চর্বি সমৃদ্ধ খাবারে হজমের চাপ বেড়ে যায়। এমন সময় হজমে সহায়ক পানীয় গ্রহণের প্রথা অনেকেরই জানা। তবে এই ধরনের পানীয় সবসময় হজমে সহায়ক বা স্বাস্থ্যকর হয় না।
অনেক ক্ষেত্রে ভারী, মিষ্টি বা অতিরিক্ত ক্রিমযুক্ত পানীয় গ্রহণ করলে হজমে সমস্যা দেখা দিতে পারে এবং শরীরের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে।
হজমে সহায়ক পানীয় ও পানি খাওয়ার সময়খাবার খাওয়ার পর যে তরল পান করা সবচেয়ে ভালো, তা হলো পানি। পানি হজমকে সহজ করে, শরীরের পানিশূন্যতা দূর করে এবং অতিরিক্ত চর্বি বা মিষ্টির প্রভাব কমায়। তবে খাবার খাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নয়, বরং খাবার শেষ হওয়ার অন্তত ১৫ থেকে ২০ মিনিট পর পানি বা অন্য কোনো পানীয় নেওয়াই স্বাস্থ্যসম্মত। এতে খাবারের সঙ্গে পানীয় মিশে হজমে সমস্যা বা বদহজম হওয়ার ঝুঁকি কমে।
টক দই, বোরহানি ঈদের হজম জন্য স্বাস্থ্যকর এবং হালকা পানীয় তৈরি করা যায়। বাড়িতে সহজেই টক দই দিয়ে হালকা পানীয় তৈরি করা যেতে পারে। চাইলে এতে খানিকটা মিষ্টি দই মিশিয়ে নিতে পারেন। এটি হজমে সহায়ক। এছাড়া বোরহানিও বেশ স্বাস্থ্যকর পানীয়, যা ঈদের সময় পান করলে শরীরকে ঠান্ডা রাখতে সাহায্য করে।
লেবুর রস ও লবণভারী খাবারের পর হালকা পানীয় পান করতে চাইলে, লেবুর রস এবং সামান্য লবণ মিশিয়ে নিতে পারেন।এতে চাইলে কিছু পুদিনাপাতাও যোগ করা করুন, যা খাবার হজম করতে সাহায্য করবে। এছাড়া সামান্য বিট লবণ মিশিয়ে তেঁতুলপানি খেলেও হজমে ভালো হবে।
হজমের জন্য জিরাপানিজিরাপানিও খাওয়া যায়। তবে বাড়িতে তাজা জিরা ব্যবহার করা উচিত, প্যাকেটজাত বা প্রক্রিয়াজাত জিরা ব্যবহার করা ঠিক নয়। বাড়িতে তৈরি জিরাপানি হজমে সাহায্য করে এবং অতিরিক্ত ভারী পানীয়ের চেয়ে হালকা ও স্বাস্থ্যকর।
ফলের স্মুদি ও মিল্কশেকফল দিয়ে তৈরি পানীয়ও ঈদে জনপ্রিয়। কাঁচা বা পাকা আম, মাল্টা, কলাসহ নানা ফল দিয়ে মিল্কশেক বা স্মুদি তৈরি করা যায়। তবে এই ধরনের পানীয় তুলনামূলকভাবে ভারী হওয়ায়, তা খাবারের সঙ্গে নয় বরং বিকেল বা সন্ধ্যার সময় খাওয়া ভালো। এতে হজমে সমস্যা কম হয় এবং শরীরও ভারী অনুভব করে না।
চিনি ছাড়া পানীয় ও পানি খাওয়ার অভ্যাসচিনি ছাড়া পানীয় গ্রহণের অভ্যাস করা উচিত। অতিরিক্ত চিনি হজমকে কঠিন করে, শরীরে অযথা ক্যালরি যোগ করে এবং ডায়াবেটিস বা ওজন বৃদ্ধির ঝুঁকি বাড়ায়। খাবারের মধ্যে অতিরিক্ত তরল গ্রহণও এড়িয়ে চলতে হবে; প্রয়োজন হলে সামান্য পানি নেওয়া যেতে পারে।
সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস, হেলথলাইন
আরও পড়ুন:বেশি খেয়ে হাঁসফাঁস লাগছে? জানুন করণীয় ঈদে হঠাৎ রক্তচাপ বেড়ে গেলে কী করবেন?এসএকেওয়াই