মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ মালয়েশিয়ায় উৎসাহ-উদ্দীপনা ও গভীর ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে পবিত্র ঈদুল ফিতরের নামাজ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ উপলক্ষে মসজিদগুলো ঈদের প্রধান জামাতের কেন্দ্রে পরিণত হয়।
শনিবার (২১ মার্চ) ঈদের দিন সূর্য ওঠার আগেই রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মসজিদগুলো মুসল্লিদের উপস্থিতিতে কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। মালয়েশিয়ান মুসল্লিদের পাশাপাশি বাংলাদেশ, পাকিস্তান, ভারত, ইন্দোনেশিয়াসহ বিভিন্ন দেশের প্রবাসীরাও নামাজে অংশ নেন। স্থানীয় মুসলিম পুরুষদের ঐতিহ্যবাহী পোশাক ‘বাজু মালায়ু’ ছিল এ দিনের বিশেষ আকর্ষণ।
রাজধানী কুয়ালালামপুরে জাতীয় মসজিদ নেগারায় সকাল সাড়ে ৮টায় প্রধান ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয়। গ্র্যান্ড ইমাম এহসান মোহাম্মদ হোসনির ইমামতিতে বাংলাদেশিসহ বিভিন্ন দেশের মুসল্লিরা এতে অংশগ্রহণ করেন।
একই সময়ে মালয়েশিয়ার রাজা ইয়াং দি-পেরতুয়ান আগং সুলতান ইব্রাহিম এবং রানি রাজা পেরমাইসুরি আগং রাজা জারিথ সোফিয়াহ ইস্তানা নেগারার প্রধান সুরাউতে ঈদের নামাজ আদায় করেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী দাতুক সেরি আনোয়ার ইব্রাহিম ও তার স্ত্রী দাতুক সেরি ড. ওয়ান আজিজাহ ওয়ান ইসমাইল, উপ-প্রধানমন্ত্রী দাতুক সেরি ড. আহমাদ জাহিদ হামিদি, যোগাযোগমন্ত্রী দাতুক ফাহমি ফাদজিলসহ মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা ও বিভিন্ন সংস্থার শীর্ষ ব্যক্তিরা।
খুতবায় মুসলিম উম্মাহর মধ্যে ভ্রাতৃত্ব, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, সহনশীলতা ও ঐক্য জোরদারের আহ্বান জানানো হয়। নামাজ শেষে দেশ, জাতি এবং বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সুখ ও সমৃদ্ধি কামনায় বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।
ঈদ উপলক্ষে দেওয়া বাণীতে রাজা সুলতান ইব্রাহিম জাতীয় ঐক্যবিরোধী যেকোনো কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে আপসহীন থাকার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, শুধু আইন প্রয়োগ বা নেতৃত্বের আলোচনায় নয়, বরং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন আচরণে শালীনতা ও নৈতিকতা চর্চার মাধ্যমেই প্রকৃত সামাজিক স্থিতি নিশ্চিত করা সম্ভব।
তিনি রুকুন নেগারার মূলনীতিগুলো স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, শিষ্টাচার ও নৈতিকতার চর্চা সমাজে শান্তি বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সাম্প্রতিক কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, এ ধরনের আচরণ সমাজে বিভাজন, ঘৃণা ও অস্থিরতা সৃষ্টি করে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে মালয়েশিয়ার শান্তিপূর্ণ পরিবেশের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘ঐক্যে বল, বিভাজনে পতন’ এই চেতনা ধারণ করেই দেশকে এগিয়ে নিতে হবে। পাশাপাশি সংবেদনশীল বিষয়গুলো মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সতর্ক, ন্যায়নিষ্ঠ ও দৃঢ় ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।
ঈদ উপলক্ষে তিনি বিশ্বজুড়ে নির্যাতিত মুসলমানদের জন্য দোয়া করার আহ্বান জানান এবং অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে সবাইকে উৎসাহিত করেন। এছাড়া রমজানের শিক্ষাকে জীবনে ধারণ করারও আহ্বান জানান।
নামাজ শেষে মুসল্লিরা একে অপরের সঙ্গে কোলাকুলি ও শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এবং প্রবাসীরা মোবাইল ফোনের মাধ্যমে দেশে থাকা স্বজনদের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা আদান-প্রদান করেন। মালয়েশিয়ার বিভিন্ন প্রদেশেও প্রবাসী বাংলাদেশিদের অংশগ্রহণে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়।
এদিকে মালয়েশিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাই কমিশনার মঞ্জুরুল করিম খান চৌধুরী প্রবাসী বাংলাদেশিসহ সকল মুসলমানকে ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি প্রবাসীদের পরিবারের সদস্যদের প্রতিও শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করেন এবং মালয়েশিয়ার আইন মেনে পবিত্র ঈদুল ফিতরের আনন্দ ভাগ করে নেয়ার আহ্বান জানান।
এমআরএম