জাতীয়

চেয়ারম্যান-কমিশনার না থাকায় ‘ঝিমোচ্ছে’ দুদক, আলোচনায় যারা

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান ও দুই কমিশনার একসঙ্গে পদত্যাগ করার পর তিন সপ্তাহ ধরে কমিশনে অচলাবস্থা বিরাজ করছে। গত ৩ মার্চ তিন সদস্যের কমিশন পদত্যাগ করে। জানা গেছে, নতুন কমিশন গঠনের জন্য এখনো বাছাই কমিটি (সার্চ কমিটি) গঠন করা হয়নি।

দুদক সূত্র জানায়, কমিশন না থাকায় অভিযোগ অনুসন্ধানের অনুমোদন, নতুন মামলা করা, চার্জশিট অনুমোদন, সম্পত্তি ক্রোক এবং অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞার মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া যাচ্ছে না। এতে দুর্নীতিবিরোধী কার্যক্রমের গতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।

জানতে চাইলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুদকের একজন পরিচালক জাগো নিউজকে বলেন, দুদক পরিচালিত হয় ওয়ান ম্যান শো-এ। অর্থাৎ পুরো কমিশন অনুমোদন না দিলে অনুসন্ধান, মামলা অনুমোদন করা সম্ভব হয় না। পুরো কমিশন নতুন নেতৃত্বের অপেক্ষায়।

এ বিষয়ে দুদকের মহাপরিচালক আক্তার হোসেন বলেন, কমিশন ছাড়া দুদক আইনে নির্ধারিত অনেক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব নয়। ফলে কার্যক্রমে একধরনের অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। কমিশন থাকার সময় যেসব অনুসন্ধান ও তদন্ত অনুমোদিত হয়েছিল, সেগুলো সীমিত পরিসরে চলমান।

দুদকের আরেক কর্মকর্তা বলেন, কমিশন না থাকায় আদালতে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চাওয়ার মতো পদক্ষেপও নেওয়া যাচ্ছে না। এতে অভিযুক্তদের আত্মগোপন বা দেশত্যাগের ঝুঁকি সৃষ্টি হচ্ছে।

গত ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনে জয়লাভ করে বিএনপি। দলটি সরকার গঠনের দুই সপ্তাহ পরই পদত্যাগ করে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে নিয়োগ দেওয়া ড. মোহাম্মদ আবদুল মোমেনের নেতৃত্বাধীন কমিশন।

আরও পড়ুনদুদকের চেয়ারম্যান ও দুই কমিশনারের পদত্যাগ

অন্তর্বর্তী সরকার ২০২৪ সালের ১০ ডিসেম্বর ড. মোমেনকে দুদকের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেয়। একই সময়ে কমিশনার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয় সাবেক জেলা জজ মিঞা মুহাম্মদ আলী আকবার আজিজী এবং ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) হাফিজ আহসান ফরিদকে।

পাঁচ বছরের জন্য নিয়োগ পাওয়া এই কমিশন নিজেদের মেয়াদের মাত্র এক বছর দুই মাস দায়িত্ব পালন শেষে গত ৩ মার্চ পদত্যাগ করে।

এ বিষয়ে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, বিগত কমিশনের বিদায়ের ফলে দুদকে যে শূন‍্যতা ও স্থবিরতা সৃষ্টি হয়েছে, তা থেকে উত্তরণে অবিলম্বে সার্চ কমিটি গঠনের মাধ্যমে নতুন কমিশন গঠন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। 

আলোচনায় যারাদুদকে নতুন চেয়ারম্যান ও দুই কমিশনার হিসেবে কারা আসছেন এ নিয়ে জল্পনা-কল্পনা শুরু হয়েছে। এর মধ্যে নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে ঢাকা মহানগর আদালতের সাবেক সিনিয়র স্পেশাল জজ মোতাহার হোসেনের নাম শোনা যাচ্ছে সবচেয়ে বেশি। 

জানা যায়, বিদেশে অর্থপাচার সংক্রান্ত দুর্নীতির মামলায় বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ২০১৩ সালের ১৭ নভেম্বর বেকসুর খালাস দিয়েছিলেন বিচারক মোতাহার হোসেন। সে সময় তিনি ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৩ এর বিচারক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ওই বছরের ডিসেম্বরে তিনি অবসরে যান।

এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহর আপন ভাই প্রশাসন ক্যাডারের ৮৫ ব্যাচের কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল বাকী, সাবেক আয়কর কমিশনার (চলতি দায়িত্ব) ও বর্তমানে ফাইন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং কাউন্সিলের (এফআরসি) চেয়ারম্যান ড. সাজ্জাদ হোসেন ভূইয়া, সাবেক যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ খন্দকার আবুল হোসেনের নামও দুদক চেয়ারম্যান বা কমিশনের সদস্য হিসেবে শোনা যাচ্ছে। 

এসএম/এমকেআর