আন্তর্জাতিক

ইরান যুদ্ধের ফলে ভারতের সামনে ‘অভূতপূর্ব চ্যালেঞ্জ’ তৈরি হয়েছে: মোদী

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ইরান যুদ্ধের কারণে ভারতের সামনে ‘অভূতপূর্ব চ্যালেঞ্জ’ তৈরি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এসব চ্যালেঞ্জ অর্থনৈতিক, জাতীয় নিরাপত্তা ও মানবিক- সব দিক থেকেই গুরুত্বপূর্ণ বলেও মনে করেন তিনি। সোমবার (২৩ মার্চ) ভারতীয় সংসদের নিম্নকক্ষ- লোকসভার অধিবেশনে এসব উদ্বেগ প্রকাশ করেন মোদী।

তিনি বলেন, এই সংঘাত বৈশ্বিক অর্থনীতি ও মানুষের জীবনে গুরুতর প্রভাব ফেলছে, তবে ভারত অপরিশোধিত তেল ও গ্যাসের সরবরাহ যাতে বিঘ্নিত না হয়, সে বিষয়ে কাজ করছে।

‘সংঘাতটি তিন সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে চলছে। এর প্রভাব শুধু অর্থনীতিতেই নয়, মানবিক ক্ষেত্রেও পড়ছে। তিনি বলেন, পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। এই সংঘাত তিন সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলছে। এটি বৈশ্বিক অর্থনীতি ও মানুষের জীবনে গুরুতর প্রভাব ফেলছে। তাই বিশ্ব এই সংঘাতের দ্রুত সমাধানের আহ্বান জানাচ্ছে।’

ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী বলেন, যুদ্ধরত ও যুদ্ধপ্রভাবিত দেশগুলোর সঙ্গে ভারতের ব্যাপক বাণিজ্যিক সম্পর্ক রয়েছে। একই সঙ্গে এই অঞ্চলটি ভারতের বৈশ্বিক বাণিজ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি পথ। বিশেষ করে ভারতের অপরিশোধিত তেল ও গ্যাসের বড় অংশ এই অঞ্চল থেকেই আসে।

হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে পণ্যবাহী জাহাজ চলাচলে জটিলতা তৈরি হওয়াকেও বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, এই পথ দিয়ে বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল, গ্যাস, সার ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় পণ্য ভারতে আসে। যুদ্ধ শুরুর পর এই পথে জাহাজ চলাচল কঠিন হয়ে পড়েছে। তারপরও আমরা চেষ্টা করছি যাতে পেট্রোল, ডিজেল ও গ্যাসের সরবরাহ বড় ধরনের প্রভাবের মুখে না পড়ে।

তিনি জানান, সরবরাহ অনিশ্চয়তার কারণে গৃহস্থালি এলপিজি গ্রাহকদের অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে ও দেশে এলপিজি উৎপাদন বাড়ানো হচ্ছে। পাশাপাশি পেট্রোল ও ডিজেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে ধারাবাহিকভাবে কাজ করছে সরকার।

গত ১১ বছরে সংকট মোকাবিলায় অপরিশোধিত তেলের মজুত বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান মোদী। তিনি বলেন, বর্তমানে ভারতের কৌশলগত পেট্রোলিয়াম মজুত ৫ দশমিক ৩ মিলিয়ন মেট্রিক টনের বেশি এবং এটি ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন মেট্রিক টনে উন্নীত করার পরিকল্পনা চলছে।

তিনি আরও বলেন, গত ১১ বছরে দেশীয় শোধনাগারের সক্ষমতাও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে ও বিভিন্ন দেশের সরবরাহকারীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। আগে যেখানে ২৭টি দেশ থেকে তেল আমদানি করা হতো, এখন তা বেড়ে ৪১টি দেশে পৌঁছেছে।

মোদী আরও জানান, উপসাগরীয় দেশগুলোতে প্রায় এক কোটি ভারতীয় বসবাস ও কাজ করেন। সেখানে বিপুলসংখ্যক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল করে ও ভারতীয় নাবিকের সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য। এসব কারণে সংঘাত নিয়ে ভারতের উদ্বেগ স্বাভাবিকভাবেই বেশি।

তিনি বলেন, এই সংকট নিয়ে সংসদ থেকে একটি ঐক্যবদ্ধ বার্তা বিশ্বে পৌঁছানো জরুরি।

সংঘাতপূর্ণ দেশগুলোতে আটকে পড়া ভারতীয়দের সহায়তা দেওয়া হচ্ছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে প্রভাবিত দেশগুলোতে থাকা প্রতিটি ভারতীয়কে সহায়তা দেওয়া হয়েছে। আমি মধ্যপ্রাচ্যের বেশিরভাগ দেশের রাষ্ট্রপ্রধানদের সঙ্গে দুই দফা ফোনে কথা বলেছি। তারা সবাই ভারতীয়দের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আশ্বাস দিয়েছেন।

মোদী আরও জানান, সংঘাতে কিছু ভারতীয় নিহত ও আহত হয়েছেন। তাদের পরিবারকে সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। পর্যটকসহ সব ভারতীয় নাগরিককে সহায়তায় সরকার সক্রিয়। চলমান পরিস্থিতিতে ২৪ ঘণ্টা জরুরি হেল্পলাইন চালু রাখা হয়েছে ও প্রয়োজনীয় নির্দেশনাও দেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।

তিনি বলেন, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ৩ লাখ ৭৫ হাজারের বেশি ভারতীয় নিরাপদে দেশে ফিরেছেন। ইরান থেকে প্রায় এক হাজার ভারতীয় ফিরেছেন, যাদের মধ্যে ৭০০’র বেশি চিকিৎসা শিক্ষার্থী।

গালফ অঞ্চলের স্কুলগুলোতে সিবিএসই বোর্ডের দশম ও দ্বাদশ শ্রেণির পরীক্ষা বাতিল করা হয়েছে এবং শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা চালিয়ে নিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

বক্তব্যের শেষপর্যায়ে মোদী বলেন, এই যুদ্ধের কারণে বিশ্বে যে কঠিন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তার দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়তে পারে। তাই আমাদের প্রস্তুত ও ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। করোনার সময় আমরা যেমন একসঙ্গে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেছি, তেমনি আবারও প্রস্তুত হতে হবে।

সূত্র: এএনআই

এসএএইচ