ছুটি শেষে ঢাকায় ফিরছিলেন আবুল কালাম। দৌলতদিয়া টার্মিনাল থেকে তিনি ডুবে যাওয়া সৌহার্দ্য বাসে উঠেছিলেন। গন্তব্য রাজধানীর বাড্ডা। বাড্ডায় তিনি বেসরকারি একটি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন।
আবুল কালাম বাসে উঠে ১০-১৫ মিনিট বসে ছিলেন। ফেরিঘাটের আগে যানজটের কারণে দুর্ঘটনার দুই মিনিট আগে বাস থেকে নেমে পড়েন। বাস থেকে নামলেও তার কাঁধে থাকা ব্যাগটি ছিল বাসের মধ্যেই।
কালাম জাগো নিউজকে বলেন, আমার সামনেই বাসটি ধীরে ধীরে নদীতে তলিয়ে যায়। তখন আমি মোবাইল বের করে ভিডিও করবো, না কী করবো বুঝতে পারছিলাম না।
তখন অনেকটা হতভম্ব হয়ে পড়েন কালাম।
তিনি বলেন, আমার ব্যাগে ছিল জীবনের সবচেয়ে বড় সম্পদ—মূল সার্টিফিকেট, এনআইডি, কোরিয়া যেতে প্রস্তুতি নেওয়ার কাগজপত্র ও নগদ সাড়ে ৪ হাজার টাকা।
পুলিশের মাধ্যমে নিজের ব্যাগটি ফেরত পান আবুল কালম-ছবি জাগো নিউজ
বাস ডুবে যাওয়ার পর ঢাকায় ফেরা হয়নি কালামের। অপেক্ষা করছিলেন তার ব্যাগের জন্য। অবশেষে তার ব্যাগটি বাস থেকে উদ্ধার হয়। এমন অন্তত ২৫ জন বা তার বেশি যাত্রীর ব্যাগ উদ্ধার করা হয়েছে। ব্যাগগুলো দৌলতদিয়া নৌ পুলিশ ফাঁড়িতে রাখা হয়েছে। যথাযথ প্রমাণ দিলে ব্যাগ ফেরত দিচ্ছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সকালে দৌলতদিয়া নৌ পুলিশ ফাঁড়িতে ব্যাগের খোঁজ পান কালাম। পুলিশের মাধ্যমে ব্যাগটি ফেরত পান তিনি।
কালাম বলেন, যখন যাত্রীসহ বাস ডুবে গেল, আমি ভাবতে পারিনি ব্যাগ ফেরত পাবো। তারপরও আশা করেছিলাম, হয়তো পাবো। আমি বাসে থাকলে হয়তো আজকে মারা যেতাম।
ব্যাগের ভেতর কী কী ছিল জানতে চাইলে তিনি বলেন, নগদ সাড়ে ৪ হাজার টাকা, মূল সার্টিফিকেট, এনআইডি কার্ড, অফিসের কাগজপত্র ও কোরিয়া যাওয়ার কাগজপত্র ছিল ব্যাগে।
ব্যাগ ফেরত পেলেও বাসে থাকা যাত্রী মারা যাওয়ার ঘটনায় কালামের মন ভারাক্রান্ত। তিনি বলেন, ‘মারা যাওয়া যাত্রীদের মধ্যে আমিও থাকতে পারতাম, যদি দুই মিনিট আগে বাস থেকে না নামতাম।’
তিনি বলেন, ফেরিঘাটের কর্তৃপক্ষের ত্রুটি আছে। কারণ ফেরি আসার আগেই গাড়িগুলো ছেড়ে দেওয়া হয়। ফেরি থাকলে হয়তো বাসের এই দৃশ্য দেখতে হতো না।
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দের দৌলতদিয়া ফেরিঘাটের পন্টুন থেকে যাত্রীবাহী বাস পদ্মা নদীতে পড়ে যাওয়ার ঘটনায় এখন পর্যন্ত ২৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। জীবিত উদ্ধার হয়েছেন ৮ জন। এখনো আনুমানিক ৬ জন নিখোঁজ রয়েছেন। তাদের উদ্ধারে কাজ করছেন ফায়ার সার্ভিস ও নৌবাহিনীর ডুবুরি দলের সদস্যরা।
উদ্ধার অভিযানে ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট ও ১০ জন ডুবুরি অংশ নিয়েছেন। এছাড়া সেনাবাহিনী, পুলিশ, বিআইডব্লিউটিএ, কোস্টগার্ড ও স্থানীয় প্রশাসনের সদস্যরাও যৌথভাবে উদ্ধার কাজে সহযোগিতা করছেন।
বুধবার (২৫ মার্চ) বিকেল সোয়া ৫টার দিকে ফেরিঘাটের ৩ নম্বর পন্টুন থেকে যাত্রীবাহী সৌহার্দ্য পরিবহনের বাসটি নদীতে পড়ে ডুবে যায়।
টিটি/এসএইচএস