জাতীয়

শুরু হচ্ছে কর্মব্যস্ততা, কমলাপুরে ঢাকামুখী যাত্রীদের ভিড়

পবিত্র ঈদুল ফিতরে টানা সাত দিনের ছুটি শেষে ২৪ মার্চ থেকে অফিস-আদালত খুলেছে। তবে ২৪ ও ২৫ মার্চ কর্মদিবস হলেও ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে সরকারি ছুটি ছিল। এরপর টানা দুই দিনের সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় অনেক কর্মজীবী মানুষ ২৪ ও ২৫ মার্চ অতিরিক্ত ছুটি নিয়েছিলেন। ফলে তাদের অনেকের কর্মস্থলে যোগদান শুরু হচ্ছে আগামীকাল রোববার থেকে। এ কারণে আজ শনিবার (২৮ মার্চ) রাজধানীর কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ঢাকায় ফেরা যাত্রীদের ব্যাপক ভিড় দেখা গেছে।

এদিন বিভিন্ন ট্রেনে উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। অনেক ট্রেনের বগির ভেতর যাত্রী ছিল কানায় কানায় পূর্ণ। এমনকি কিছু ট্রেনের ছাদেও যাত্রীদের অবস্থান করতে দেখা গেছে। অন্যদিকে, যাদের অফিস ঢাকার বাইরে, বিশেষ করে চট্টগ্রাম কিংবা অন্যান্য অঞ্চলে তাদেরও একটা অংশকে ঢাকা ছাড়তে দেখা গেছে।

যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দু-একটি অভিযোগ ছাড়া এবারের ঈদযাত্রা মোটামুটি স্বস্তিদায়ক ও সুশৃঙ্খল ছিল। বিশেষ করে ঈদের আগমুহূর্তে চিলাহাটি এক্সপ্রেসের একটি বগি লাইনচ্যুত হওয়ার ঘটনায় উত্তরবঙ্গগামী কিছু ট্রেনের যাত্রা বিলম্বিত হলেও অন্যান্য রুটের বেশিরভাগ ট্রেন সময়মতো স্টেশন ছেড়েছে এবং নির্ধারিত সময়ে গন্তব্যে পৌঁছেছে।

কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে চুয়াডাঙ্গার দর্শনা থেকে আসা সুন্দরবন এক্সপ্রেসের যাত্রী সাহাবুল ইসলামের সঙ্গে কথা হয়। তিনি জানান, তিনি একটি ব্যাংকে কর্মরত। অতিরিক্ত দুই দিন ছুটি নিয়ে গ্রামের বাড়িতে গিয়েছিলেন।

তিনি বলেন, আগামীকাল থেকে আমার অফিস শুরু হবে। বাচ্চাদের স্কুলও এ সপ্তাহেই খুলবে। তাই একদিন আগেই ঢাকায় চলে এসেছি। শুধু আমি নই, আমার মতো শত শত যাত্রী ট্রেনে করে ঢাকায় ফিরছেন। নিরাপদ ও আরামদায়ক যাত্রা হিসেবে অনেকেই ট্রেনকে বেছে নিয়েছেন। তবে ট্রেনের ভেতর ও ছাদে উপচে পড়া ভিড় চোখে পড়েছে।

একই ট্রেনের আরেক যাত্রী আসমা আক্তার অভিযোগ করে বলেন, তার এসি কামরার টিকিট ছিল। কিন্তু দাঁড়িয়ে যাত্রা করা অনেক যাত্রী এসি কামরায় ঢুকে পড়ায় কিছুটা অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি হয়।

তিনি বলেন, আমি ঠিকভাবে বসেছিলাম, কিন্তু দাঁড়ানো টিকিটের যাত্রীরা এসি কামরার ভেতরে চলে আসে। এতে যেমন অস্বস্তি হয়েছে, তেমনি ঝুঁকিও ছিল। কারণ অনেক মালামাল ছিল আমাদের সঙ্গে। কেউ যদি টান দিয়ে নামিয়ে নিতো, তাহলে সেটি ঠেকানোর উপায় ছিল না। আমার মনে হয় এসি কামরায় আসনবিহীন যাত্রী ওঠানামার বিষয়টি কর্তৃপক্ষের আরও নজরদারি করা উচিত।

নওগাঁ থেকে আসা চিলাহাটি এক্সপ্রেসের যাত্রী সাইমুম বলেন, অনেক কষ্ট করে ট্রেনে উঠেছি। আমার নির্দিষ্ট আসন ছিল, কিন্তু অন্তত তিনটি স্টেশন পর্যন্ত আমি সেখানে বসতে পারিনি। কারণ ট্রেনের ভেতর প্রচণ্ড ভিড় ছিল। অধিকাংশই ছিল আসনবিহীন টিকিটের যাত্রী। পরে অবশ্য বসতে পেরেছি, তবে ঠাসাঠাসি করে কমলাপুর পর্যন্ত আসতে হয়েছে। আলহামদুলিল্লাহ, নির্ধারিত সময়েই পৌঁছাতে পেরেছি।

একই ট্রেনের আরেক যাত্রী সুমন আহমেদ একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। তিনি বলেন, আসনবিহীন টিকিট কাটতে চেয়েছিলাম, কিন্তু কোনোভাবেই টিকিট পাওয়া যায়নি। তাই ট্রেনের ছাদে উঠে ঢাকায় এসেছি। এখন কমলাপুর স্টেশন থেকে বের হওয়ার সময় টিকিট কেটে নেবো। কারণ রেলওয়ে রাষ্ট্রীয় সম্পদ, এর রক্ষণাবেক্ষণ সবার দায়িত্ব।

চিলাহাটি থেকে আসা আয়েশা আক্তার জানান, তার অফিস এরইমধ্যে শুরু হয়েছে। অতিরিক্ত দুই দিন ছুটি নেওয়ার পর আগামীকাল থেকে তাকে অফিসে যোগ দিতে হবে।

তিনি বলেন, ঈদের ছুটির সঙ্গে অতিরিক্ত একদিন ছুটি নিয়েছিলাম। আজ ট্রেনে করে ঢাকায় ফিরলাম। বাসায় গিয়ে ফ্রেশ হয়ে সব ঠিক থাকলে আগামীকাল ইনশাল্লাহ অফিস করবো। ভালো লাগছে যে নির্ধারিত সময়েই ঢাকায় পৌঁছাতে পেরেছি। এর আগে, চিলাহাটি এক্সপ্রেস দুর্ঘটনার কারণে ঈদের আগে বাড়ি যেতে আমাদের প্রায় চার ঘণ্টা বেশি সময় লেগেছিল।

ইএআর/এএমএ