দেশজুড়ে

রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে হাম ছড়িয়ে পড়েছে: বিএনপি নেতা

দেশজুড়ে নতুন করে হাম রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ার পেছনে রোহিঙ্গা ক্যাম্পকে অন্যতম উৎস হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিএনপির স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম।

তিনি বলেন, চলতি বছরের ৪ জানুয়ারি প্রথমবারের মতো রোহিঙ্গা ক্যাম্পে হাম শনাক্ত হওয়ার পর থেকেই ধীরে ধীরে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এর বিস্তার ঘটে।

সোমবার (২০ মার্চ) রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পরিদর্শন করেন বিএনপির স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম। পরিদর্শনকালে তিনি হাসপাতালের সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন। পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।

রফিকুল ইসলাম বলেন, ‌‘আমরা অনেকটাই বলতে পারতাম যে, সেটি ইরাডিকেশন (নির্মূল) হয়েছিল। কিন্তু আপনারা জানেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এবছরের ৪ জানুয়ারি সেটি কিন্তু প্রথম ধরা পড়ে। তারপর থেকেই ওই সময়কার তৎকালীন সরকার তারা সচেতন ছিলেন কীভাবে এটিকে পরবর্তীতে যেন না ছড়িয়ে পড়ে। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয় মিজেলসের (হাম) যে ভ্যাকসিন, সে ভ্যাকসিন ক্রয়ের যে জটিলতা, তখনকার ইন্টেরিম গভর্মেন্টের সময় হয়েছিল। সেই কারণেই আজকে হয়তোবা এই প্রাদুর্ভাবটি দেখা দিয়েছে।’

আরও পড়ুন: হামের বিশেষ টিকাদান ক্যাম্পেইন শুরু হচ্ছে জুনে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

তিনি বলেন, ‘বিশেষ করে রাজশাহীসহ দেশের অন্তত সাতটি অঞ্চলে বর্তমানে হামের সংক্রমণ উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। দীর্ঘদিন নিয়ন্ত্রণে থাকা এই রোগ আবার ফিরে আসার পেছনে টিকাদান কার্যক্রমে বিঘ্ন, সরবরাহ জটিলতা এবং জনসচেতনতার ঘাটতি বড় কারণ হিসেবে কাজ করছে।’

হাম অত্যন্ত সংক্রামক একটি রোগ উল্লেখ করে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘একজন আক্রান্ত ব্যক্তি থেকে ১০ থেকে ১৫ জন পর্যন্ত সংক্রমিত হতে পারে। তাই প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।’

তিনি জানান, দেশে নিয়ম অনুযায়ী ৯ মাস ও ১৫ মাস বয়সে এমআর টিকা দেওয়া হলেও বর্তমানে ছয় মাসের নিচের শিশুরাও আক্রান্ত হচ্ছে, যা নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিষয়টি নিয়ে দ্রুত গবেষণা প্রয়োজন।

এসময় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল পিকে এম মাসুদ-উল-ইসলাম, শিশু বিভাগের প্রধান ডা. শাহিদা ইয়াসমিনসহ হাসপাতালের চিকিৎসকরা উপস্থিত ছিলেন।

সাখাওয়াত হোসেন/এসআর/এএসএম