অর্থনীতি

ওষুধ-ব্যাংক-আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ঢালাও দরপতন, তবে বেড়েছে লেনদেন

সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসের মতো দ্বিতীয় দিন সোমবারেও (৩০ মার্চ) দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) ব্যাংক খাতের শেয়ারে ঢালাও দরপতন হয়েছে। একই অবস্থা দেখা গেছে ওষুধ, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, বিমা খাত ও মিউচুয়াল ফান্ডে। এতে সার্বিক বাজারে দরপতনের পাল্লা ভারী হয়েছে এবং সবকটি মূল্যসূচক কমেছে। তবে বেড়েছে লেনদেনের পরিমাণ।

অন্য শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) দাম কমার তালিকায় নাম লিখিয়েছে বেশিসংখ্যাক প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট। ফলে এ বাজারটিতেও মূল্যসূচকের পতন হয়েছে। তবে ডিএসইর মতো এখানেও লেনদেনের পরিমাণ বেড়েছে।

এদিন ডিএসইতে লেনদেন শুরু হয় বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার দাম বাড়ার মাধ্যমে। ফলে শুরুতে সূচকের ঊর্ধ্বমুখিতার দেখা মিলে। যে ধারা প্রথম দুই ঘণ্টা অব্যাহত থাকে। তবে দুপুর ১২টার পর থেকে ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, বিমা ও ওষুধ খাতের কোম্পানিগুলোর শেয়ারে ঢালাও দরপতন শুরু হয়। সেই সঙ্গে পতনের মধ্যে পড়ে মিউচুয়াল ফান্ড খাত।

এই খাতগুলোর ঢালাও দরপতন শুরু হলে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে অন্য খাতেও। ফলে দাম কমার তালিকা বড় হওয়ার পাশাপাশি সবকটি মূল্যসূচক কমেই দিনের লেনদেন শেষ হয়। লেনদেন শেষে ডিএসইতে সব খাত মিলে দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে ১১১টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট। বিপরীতে দাম কমেছে ২৩১টির আর ৫১টির অপরিবর্তিত রয়েছে।

ব্যাংক খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে মাত্র একটির শেয়ার দাম বেড়েছে। বিপরীতে কমেছে ২০টির এবং ১০টির অপরিবর্তিত রয়েছে। আর্থিক খাতের ২৩টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ২২টির শেয়ার দাম কমেছে এবং একটির অপরিবর্তিত রয়েছে। কোনো আর্থিক প্রতিষ্ঠানের শেয়ার দাম বাড়েনি।

বিমা খাতের ১৫টি কোম্পানির শেয়ার দাম বাড়ার বিপরীতে ৩৬টির কমেছে এবং সাতটির অপরিবর্তি রয়েছে। ওষুধ খাতের আটটি কোম্পানির শেয়ার দাম বাড়ার বাইরে ২৬টির কমেছে। আর মাত্র একটি মিউচুয়াল ফান্ডের দাম বাড়ার বিপরীতে ২২টির কমেছে।

এদিকে, ভালো কোম্পানি বা ১০ শতাংশ অথবা এর বেশি লভ্যাংশ দেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ৪৭টির শেয়ার দাম বেড়েছে। বিপরীতে ১২৯টির কমেছে এবং ২৯টির অপরিবর্তিত রয়েছে। মাঝারি মানের বা ১০ শতাংশের কম লভ্যাংশ দেওয়া ৩৩টি কোম্পানির শেয়ার দাম বেড়েছে। বিপরীতে কমেছে ৩৪টির এবং ১২টির অপরিবর্তিত আছে।

বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ না দেওয়ার কারণে ‘জেড’ গ্রুপে স্থান হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে ৩১টির শেয়ার দাম বেড়েছে। বিপরীতে কমেছে ৬৮টির এবং ১০টির অপরিবর্তিত রয়েছে।

অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমায় ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ৪১ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ২৩০ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। অন্য দুই সূচকের মধ্যে ডিএসই শরিয়াহ সূচক ৫ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ৬১ পয়েন্টে অবস্থান করছে। আর বাছাই করা ভালো ৩০ কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক আগের দিনের তুলনায় ১৯ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ৯৭৯ পয়েন্টে নেমে গেছে।

সবকটি মূল্যসূচক কমলেও ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণ বেড়েছে। বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ৬৬৩ কোটি ৮৭ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ৬৪৬ কোটি ৪২ লাখ টাকা। এ হিসাবে আগের কার্যদিবসের তুলনায় লেনদেন বেড়েছে ১৭ কোটি ৪৫ লাখ টাকা।

এই লেনদেনে সব থেকে বড় ভূমিকা রেখেছে একমি পেস্টিসাইডের শেয়ার। কোম্পানিটির ১৯ কোটি ১৮ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা ওরিয়ন ইনফিউশনের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ১৮ কোটি ৯৭ লাখ টাকার। ১৭ কোটি ৪১ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে রয়েছে ব্র্যাক ব্যাংক।

ডিএসইতে লেনদেনের দিক থেকে শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে- ইনটেক লিমিটেড, টেকনো ড্রাগস, সানলাইফ ইন্স্যুরেন্স, হাক্কানী পাল্প, এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজ, সামিট এলায়েন্স পোর্ট ও ফাইন ফুডস।

অন্য শেয়ারবাজার সিএসইর সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই কমেছে ১৭ পয়েন্ট। বাজারটিতে লেনদেনে অংশ নেওয়া ২০৬ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৮১টির দাম বেড়েছে। বিপরীতে কমেছে ১০২টির এবং ২৩টির অপরিবর্তিত রয়েছে। লেনদেন হয়েছে ৫৯ কোটি ২০ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ৩২ কোটি ৩১ লাখ টাকা।

এমএএস/একিউএফ