সিরাজগঞ্জে ভুয়া জখমি সনদ (মেডিকেল রিপোর্ট) দেওয়ার অভিযোগে ফয়সাল আহম্মেদ (৪০) নামে এক চিকিৎসককে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।
সোমবার (৩০ মার্চ) দুপুরে সিরাজগঞ্জ অতিরিক্ত চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক সুমন কুমার কর্মকার তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। ফয়সাল আহম্মেদ সিরাজগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের ইমার্জেন্সি মেডিকেল অফিসার (ইএমও) পদে কর্মরত।
আদালতের সরকারি সহকারী কৌঁসুলি (এপিপি) নাসির উদ্দিন জাগো নিউজকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
মামলা সূত্রে জানা গেছে, গত ২০২৫ সালের ২১ মার্চ জমিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে আঘাত প্রাপ্ত হন শাহজাদপুর উপজেলার বলদীপাড়া গ্রামের মহব্বত আলীর ছেলে শাহ জালাল (৩৩)। পরে তার স্বজনরা তাকে চিকিৎসার জন্য সিরাজগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে এনে বর্হি-বিভাগের টিকিট সংগ্রহ করেন। এরপর জরুরি বিভাগে থাকা ফয়সাল আহম্মেদ তাকে চিকিৎসা ও জখমি সনদ প্রদান করেন। পরবর্তীতে চিকিৎসক ফয়সাল ব্যক্তিগতভাবে লাভবান হওয়ার জন্য প্রকৃত রোগী শাহ জালালের স্থানে মোতালেব হোসেন, বাবা মহব্বত আলীর স্থানে আলতাব, বয়স ৩৩ এর জায়গায় ৪০, গ্রাম- বলদীপাড়ার স্থলে কদমতলী, থানা শাহাজাদপুরের জায়গায় বেলকুচি নিজ হাতে সংশোধন করেন। শুধু তাই নয়, একই সিরিয়ালে দুজন ব্যক্তিকে ভর্তি টিকিট ও সুস্থ মস্তিষ্কে জখমি সনদ দেয়।
পরে বেলকুচি উপজেলার কদমতলী গ্রামের মোতালেব হোসেন ওই জখমি সনদ নিয়ে ওয়াজেদ আলীর গংদের বিরুদ্ধে একটি হত্যা চেষ্টা মামলা করেন। এ মামলার আসামিরা ওই বছরের ২৮ আগস্ট জখমি সনদটি ভুয়া দাবি করে আদালতে আবেদন করলে আদালত আবেদনটি আমলে নিয়ে চিকিৎসক ফয়সাল আহম্মেদের বিরুদ্ধে সমন জারি করেন। পরে ১১ সেপ্টেম্বর অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দেন চিকিৎসক ফয়সাল।
এরপর সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট-৩ বিচারক ওবায়দুল হক রুমি আমলী আদালতে নিয়মিত মামলা দায়ের ও ক্ষমতা প্রদান করার জন্য আদালতের বেঞ্চ সহকারী রোজিনা খাতুনকে নির্দেশ দেন। পরে রোজিনা খাতুন চিকিৎসক ফয়সাল আহম্মেদ ও বেলকুচি উপজেলার কদমতলী গ্রামের আলতাব হোসেনের ছেলে মোতালেব হোসেনকে আসামি করে একটি মামলা করেন। এ মামলায় সোমবার চিকিৎসক ফয়সাল আহম্মেদ আদালতে হাজির হলে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
এম এ মালেক/এনএইচআর/জেআইএম