ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের চলমান সামরিক অভিযান বা যুদ্ধ ‘শেষের পথে’ বলে দাবি করেছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। সংঘাত পঞ্চম সপ্তাহে গড়ানোর মুহূর্তে তিনি জানান, খুব শিগগির এই যুদ্ধের সমাপ্তি ঘটতে যাচ্ছে। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) ফক্স নিউজের ‘হ্যানিটি’ শোতে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন।
রুবিও বলেন, ‘আমরা যুদ্ধের সমাপ্তিরেখা দেখতে পাচ্ছি। এটা আজ কিংবা আগামীকালই ঘটবে না, তবে খুব শিগগির তা আসছে।’
তিনি আরও জানান, ‘উপযুক্ত সময়ে’ ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে সরাসরি বৈঠক করার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছে না ওয়াশিংটন।
রুবিওর এই মন্তব্যের কিছুক্ষণ আগেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে গুটিয়ে নিতে পারে যুক্তরাষ্ট্র। মঙ্গলবার এক বক্তব্যে ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা এখন কাজ শেষ করার পর্যায়ে আছি। আমার মনে হয় দুই সপ্তাহ বা তার সামান্য কিছু বেশি সময়ের মধ্যে আমরা আমাদের লক্ষ্য পূরণ করতে পারবো। তারা (ইরান) যা কিছু গড়ে তুলেছিল, আমরা তার সবকিছুই গুঁড়িয়ে দিতে চাই।’
ইরানের সঙ্গে কোনো সমঝোতা বা আলোচনার সম্ভাবনা আছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে রুবিও জানান, আলোচনার পথ সবসময় খোলা। তবে ট্রাম্প প্রশাসন কোনোভাবেই ‘ভুয়া আলোচনা’র মাধ্যমে ইরানকে সময়ক্ষেপণের সুযোগ দেবে না।
রুবিও বলেন, ‘বিগত ৪৭ বছর ধরে তারা যেকোনো আলোচনার চেষ্টাকে এড়িয়ে গেছে বা প্রত্যাখ্যান করেছে। তার মানে এই নয় যে আমরা চেষ্টা বন্ধ করে দেবো। বর্তমানে বিভিন্ন মাধ্যমে বার্তা আদান-প্রদান চলছে। তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আলোচনাকে সময় কেনার কৌশল হিসেবে ব্যবহার করতে দেবেন না।’
হরমুজ প্রণালি ও বৈশ্বিক সংকটহরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ার শঙ্কা নিয়ে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী কিছুটা নির্ভার ভঙ্গিতে কথা বলেন। তিনি দাবি করেন, এই প্রণালির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নির্ভরতা ‘খুবই সামান্য’।
আন্তর্জাতিক আইনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আন্তর্জাতিক জলসীমায় চলাচলে বাধা দেওয়া সরাসরি আইনের লঙ্ঘন। যদি ইরান অবৈধভাবে হরমুজ প্রণালি নিয়ন্ত্রণ করতে চায়, তবে তা পুরো বিশ্বের সমস্যা। যারা আন্তর্জাতিক আইন নিয়ে কথা বলেন, সেই দেশগুলোর উচিত সামনে এগিয়ে আসা এবং একে অসহনীয় হিসেবে ঘোষণা করা।’
রুবিও আরও বলেন, হরমুজ প্রণালিতে কোনো হস্তক্ষেপ হলে যুক্তরাষ্ট্র সাহায্য করবে কি না, তা সম্পূর্ণ প্রেসিডেন্টের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে। তবে বৈশ্বিক তেল ও গ্যাস রপ্তানি সচল রাখতে বিশ্বের অন্যান্য দেশগুলোকেই দায়িত্ব নিতে আহ্বান জানান তিনি।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ানকেএএ/