হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার মনতলায় তেলবাহী ট্রেনের পাঁচটি ওয়াগন লাইনচ্যুত হয়ে সিলেটের সঙ্গে সারা দেশের রেল যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এছাড়া রাতে চুরি হওয়া তেল বিভিন্ন বাড়ি থেকে উদ্ধার করেছে বিজিবি।
ঢাকার বিভাগীয় রেলওয়ে ম্যানেজার এবিএম কামরুজ্জামান জানান, বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তাকে প্রধান করে ৫ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তাদেরকে ৩ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য বলা হয়েছে।
তিনি বলেন, আপাতত একটি ক্রেন উদ্ধার কাজ চালাচ্ছে। টেকনিক্যাল সমস্যা, ওভার স্পিড কি না সবকিছুই তদন্তের মধ্যে থাকবে। এখনও পর্যন্ত ৩টি ট্রেনের যাত্রা বাতিল করা হয়েছে। এর মধ্যে ১টি হচ্ছে সিলেট থেকে ঢাকা, ১টি সিলেট থেকে চট্টগ্রাম এবং ১টি চট্টগ্রাম থেকে সিলেট। দুর্ঘটনা কবলিত ট্রেনটির ধারণক্ষমতা ৩৯ হাজার লিটার তেল। তবে আমরা নিশ্চিত নই কতটুকু নষ্ট হয়েছে। আমাদের ধারণা ২টি ওয়াগন পুরোপুরি ঠিক আছে। ১টি ৯০ শতাংশ ঠিক আছে। অন্য দু’টিতে ৭০ শতাংশ তেল ঠিক আছে। ক্ষয়ক্ষতি আপাতত নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি। সেটি তদন্ত কমিটি ঠিক করবে।
জানা যায়, মনতলায় সিলেটগামী ৯৫১ নম্বর তেলবাহী ট্রেনের পাঁচটি অয়েল ট্যাংকার ওয়াগনসহ ৬টি বগি লাইনচ্যুত হয়। বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে মনতলা রেলস্টেশনের অদূরে একটি ব্রিজের কাছে এ দুর্ঘটনা ঘটে। লাইনচ্যুত ৬টি বগির মধ্যে একটি রেল লাইনের পাশের খালে পড়ে যায়। দুর্ঘটনার পর দু’টি ওয়াগন থেকে তেল বের হতে শুরু করলে স্থানীয়রা তা সংগ্রহ করতে থাকেন। এতে ঘটনাস্থলে ভিড়ের সৃষ্টি হয়। রাত সোয়া ২টায় আখাউড়া থেকে একটি রিলিফ ট্রেন ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কাজ শুরু করে। রেলওয়ের পাশাপাশি বিজিবি, সেনাবাহিনী ও পুলিশ সদস্যরা উদ্ধার কাজে সহায়তা করছেন।
স্থানীয়দের দাবি, পুরোনো ও জরাজীর্ণ স্লিপার, লাইনের নিচে পর্যাপ্ত মাটি ও পাথরের অভাব এবং সিঙ্গেল লাইনের কারণে এ দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তাদের আশঙ্কা, যাত্রীবাহী ট্রেন হলে বড় ধরনের হতাহতের ঘটনা ঘটতে পারত। দুর্ঘটনার পেছনে ওভার স্পিডসহ নানা কারণ থাকতে পারে।
সৈয়দ এখলাছুর রহমান খোকন/এফএ/জেআইএম