দেশজুড়ে

মধ্যরাত থেকে সিরিয়াল, তেল না পেয়ে ফিরছেন অনেক চালক

রাঙ্গামাটিতে জ্বালানি তেলের সংকট তীব্র আকার ধারণ করায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন মোটরসাইকেল চালকরা। তেল সংগ্রহের আশায় শুক্রবার (৩ এপ্রিল) ভোরের আগেই ফিলিং স্টেশনের সামনে দীর্ঘ সারিতে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায় শত শত চালককে। মধ্যরাত থেকেই সিরিয়ালে মোটরসাইকেল রাখা শুরু হলেও শনিবার (৪ মার্চ) সকাল ৮টা থেকে ফিলিং স্টেশনে তেল দেওয়া শুরু হয়। তবে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় শেষ পর্যন্ত অনেকেই তেল না পেয়ে হতাশ হয়ে ফিরে যান।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রবি, মঙ্গল ও বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত গণপরিবহন ও সাধারণ মানুষ এবং বেলা ২টা থেকে ৩টা পর্যন্ত সরকারি গাড়ি ডিজেল সংগ্রহ করতে পারবে। অন্যদিকে শনি, সোম ও বুধবার একই নিয়মে অকটেন ও পেট্রোল সংগ্রহ করতে পারবে। ২৮ মার্চ বিকেলে এই নতুন নিয়ম চালু করে জেলা প্রশাসন। সেই ধারাবাহিকতায় রাঙ্গামাটি শহরের চারটি ফিলিং স্টেশনে একযোগে অকটেন ও পেট্রোল বিক্রি করা হয়।

ফিলিং স্টেশনের কর্মীরা জানান, আমরা সকাল সাড়ে ৭টা থেকে পাম্প খুলে দেই। এরপর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতিতে সকাল ৮টা থেকে বিক্রি শুরু হয়। সকাল থেকেই মোটরসাইকেলের সিরিয়াল শুরু হয়। হয়তো রাত থেকেই তারা আসেন কিন্তু আমরা দেখি সকালে। আমরা ৫০০ টাকার অকটেন প্রতিটি মোটকরসাকেলে দিয়ে থাকি। সে অনুযায়ী আমাদের মজুত যতটুকু থাকে তা থেকে দেওয়া হয়। এতে হয়তো শেষদিকে কেউ কেউ পান না।

এনজিও কর্মী সুশীল বিকাশ চাকমা জানান, আমি (শনিবার ভোর চারটার দিকে শহরের রাজবাড়ী পেট্রোল পাম্পে (এসএম পেট্রোলিয়াম এজেন্সি) অকটেনের জন্য মোটরসাইকেল নিয়ে যাই। গিয়ে দেখি আমার আগে আরও ১২৯টি মোটরসাইকেল অপেক্ষায় আছে। আমার সিরিয়াল নম্বর ১৩০। পরে পরিচিতজনদের সঙ্গে কথা বলে জানতে পারি তারা রাত ১টা থেকে সিরিয়াল দেওয়া শুরু করে।

ইনস্যুরেন্স কোম্পানির কর্মকর্তা ধ্রুব চৌধুরী জানান, আমি সকাল ৬টা থেকে মোটরসাইকেল নিয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে সাড়ে ৯ টায় তেল নিতে পেরেছি। তবে লাইনে চার-পাঁচশো মোটরসাইকেল ছিল। শেষ পর্যন্ত অনেকেই তেল পায়নি তবে সবাই খুব শৃঙ্খলার সঙ্গে লাইনে ছিল। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা খুব সতর্কতার সঙ্গে কাজ করছে। এভাবে একদিন পর পর পেলে সবাই মোটামুটি প্রয়োজন মেটাতে পারবে।

রাঙ্গামাটির অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট নিশাত শারমিন বলেন, এই প্রথম রাঙ্গামাটির সব পাম্প থেকে একযোগে নিয়ম করে জ্বালানি সরবরাহ করা হচ্ছে। এতে গ্রাহকদের ভোগান্তি কমবে। বিশৃঙ্খলা এড়াতে পাম্পে পুলিশ ও সেনাবাহিনী মোতায়েন করা আছে। সকালে সব কয়টি পাম্প ঘুরে দেখেছি সুশৃঙ্খলভাবে তেল সরবরাহ করা হচ্ছে। কেউ যাতে জ্বালানি তেল মজুত করতে না পারে সে জন্য আমাদের একাধিক মোবাইল টিম মাঠে কাজ করছে।

আরমান খান/এনএইচআর/এমএস