২০২৬ সালের প্রথম দুই মাসে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি ৮ দশমিক ৫৩ শতাংশ কমে ১ দশমিক ৩৭ বিলিয়ন ডলারে নেমে এলেও দেশটির বাজারে চীনকে পেছনে ফেলে দ্বিতীয় অবস্থানে উঠে এসেছে বাংলাদেশ।
শনিবার (৪ এপ্রিল) প্রকাশিত অফিস অব টেক্সটাইলস অ্যান্ড অ্যাপারেল (ওটেক্সা)-এর তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের পারস্পরিক শুল্ক আরোপের প্রভাবের কারণে চীন শীর্ষস্থান হারালে ২০২৬ সালের জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি সময়ে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রপ্তানিতে চীনকে অতিক্রম করে।
এ সময়ে বাংলাদেশ পোশাক রপ্তানি করে ১ দশমিক ৩৭ বিলিয়ন ডলার আয় করেছে, যা গত বছরের একই সময়ে ছিল ১ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার।
অন্যদিকে, ২০২৬ সালের জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারিতে চীন ১ দশমিক ১৭ বিলিয়ন ডলারের পোশাক রপ্তানি করেছে, যা আগের বছরের ২ দশমিক ৭৭ বিলিয়ন ডলারের তুলনায় ৫৭ দশমিক ৬৫ শতাংশ কম।
এদিকে, ভিয়েতনাম একই সময়ে ২ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলারের পোশাক রপ্তানি করেছে, যা বছরভিত্তিক হিসাবে ২ দশমিক ৮৮ শতাংশ বেশি।
তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রপ্তানিতে চীন তৃতীয় বৃহত্তম রপ্তানিকারক দেশে পরিণত হয়েছে, ভিয়েতনাম শীর্ষে রয়েছে এবং বাংলাদেশ চীনকে টপকে উঠে এসেছে দ্বিতীয় অবস্থানে।
সার্বিকভাবে, আলোচ্য সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ১১ দশমিক ৫৩ বিলিয়ন ডলারের পোশাক আমদানি করেছে, যা বছরভিত্তিক হিসাবে ১৩ দশমিক ৪৭ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। ২০২৫ সালের একই সময়ে এ আমদানির পরিমাণ ছিল ১৩ দশমিক ৫৫ বিলিয়ন ডলার।
আরও পড়ুনযুক্তরাষ্ট্রে ডেনিম রপ্তানিতে বাংলাদেশের রেকর্ড প্রবৃদ্ধিবাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য চুক্তিতে গভীর দুশ্চিন্তায় ভারতঅর্থনীতি চাঙা করতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ-গ্যাস চান ব্যবসায়ীরা
চীনের তুলনায় রপ্তানি মূল্যে অগ্রগতি দেখা গেলেও সামগ্রিক রপ্তানি আয় নেতিবাচক রয়েছে, যা বাংলাদেশের জন্য ভালো লক্ষণ নয় বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম।
তিনি বলেন, শুল্কহার বৃদ্ধি এবং চলমান বৈশ্বিক সংকট—বিশেষ করে যুদ্ধকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট পরিস্থিতি—যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রপ্তানির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। এ কারণেই চীনের তুলনায় অগ্রগতি সত্ত্বেও মোট রপ্তানিতে নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি দেখা যাচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, সরকার যথাযথ নীতিগত সহায়তা প্রদান এবং জ্বালানি সংকট সমাধান করতে পারলে শিগগির এই নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে।
বাংলাদেশের তৈরি পোশাক (আরএমজি) রপ্তানি ২০২৫ সালে দেশের সবচেয়ে বড় বাজার যুক্তরাষ্ট্রে দুই অঙ্কের প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছিল। ওই বছরের জানুয়ারি-ডিসেম্বর সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রপ্তানিতে চীনকে পেছনে ফেলে ভিয়েতনাম শীর্ষ রপ্তানিকারক দেশে পরিণত হয়।
ওটেক্সার তথ্য অনুযায়ী, গত বছর বাংলাদেশি পোশাক রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে ৮ দশকি ২০ বিলিয়ন ডলার, যা ২০২৪ সালের ৭ দশমিক ৩৪ বিলিয়ন ডলারের তুলনায় ১১ দশমিক ৭৫ শতাংশ বেশি।
এ সময়ে বাংলাদেশ ২ দশমিক ৬৬ বিলিয়ন বর্গমিটার (এসএমই) পোশাক রপ্তানি করেছে, যা ২০২৪ সালে রপ্তানিকৃত ২ দশমিক ৩৬ বিলিয়ন বর্গমিটারের তুলনায় ১২ দশমিক ৩৬ শতাংশ বেশি।
আইএইচও/এমকেআর