দেশজুড়ে

১৪৪ ধারা ভেঙে লক্ষ্মীপুরে মানববন্ধন

লক্ষ্মীপুরে ব্যবসায়ীর ওপর হামলার অভিযোগে প্রতিবাদ জানিয়ে প্রশাসনের জারিকৃত ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে মানববন্ধন করা হয়েছে।

সোমবার (৬ এপ্রিল) বেলা ১১টার দিকে শহরের চকবাজার এলাকায় জেলা ইন্ডাস্ট্রিয়ালিস্ট অ্যান্ড বিজনেসম্যান ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনসহ (আইবিডব্লিউএফ) বিভিন্ন ব্যানারে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।

মানববন্ধনে বাংলাদেশ প্রাইভেট হসপিটাল ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিপিএইচসিডিওএ), লক্ষ্মীপুর আধুনিক হসপিটাল ও সাধারণ ব্যবসায়ীদের ব্যানার নিয়েও অনেকে অংশগ্রহণ করেন।

এতে বক্তব্য রাখেন আইবিডব্লিউএফ’র জেলা কমিটির সেক্রেটারি নিজাম উদ্দিন মাহমুদ, সহ-সভাপতি ফয়েজ আহমেদ, শহর সভাপতি নাসির উদ্দিন, বিপিএইচসিডিওএর সহ-সভাপতি নুরুল হুদা ও ব্যবসায়ী শামছুল ইসলাম প্রমুখ।

ব্যবসায়িক সংগঠনের নেতা নিজাম উদ্দিন মাহমুদ বলেন, আমাদের সভাপতি শহিদুল্লাহ নামাজ পড়ে বের হতেই তার ওপর অতর্কিতভাবে হামলা হয়েছে। এটি সুপরিকল্পিত। উনার বুকে লাথি মারা হয়েছে। উনি হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। আশা করি প্রশাসন ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হামলাকারীকে গ্রেফতার করবে।

বিপিএইচসিডিওএর নেতা নুরুল হুদা বলেন, আধুনিক হাসপাতালের ডিএমডি শহিদুল্লাহ একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী। চকবাজার এলাকায় তার অফিস রয়েছে। প্রতিদিনের মতো তিনি চকবাজার মসজিদে আসরের নামাজ পড়ে বের হলে তার ওপর হামলা হয়। একটি কুচক্রীমহল লক্ষ্মীপুরকে অশান্ত করতে চায়।

ব্যবসায়ী শামছুল ইসলাম বলেন, ছাত্রদলের নেতাকর্মী কর্তৃক শহিদুল্লাহর ওপর হামলা চালানো হয়েছে। ব্যবসায়ীদের গায়ে হাত দিয়ে সুন্দর পরিবেশ ঘোলাটে করার চেষ্টা চলছে।

এ ব্যাপারে জুলাই ফাইটার্সের ব্যানারে লক্ষ্মীপুর প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করা হয়েছে। এতে জুলাই ফাইটার্স ও ছাত্রদল নেতা মেহেদী হাসান নিরব বলেন, ‘ভিডিওতে আমরা দেখেছি শহিদুল্লাহসহ কয়েকজন মুসল্লিদেরকে মারার জন্য তেড়ে যায়। তাদের সংঘবদ্ধ অনেকেই মসজিদে ঢুকে পড়ে। তাৎক্ষণিক মুসল্লি ও বাজারের ব্যবসায়ীরা তাকে প্রতিহত করে।’

এদিকে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ক্যাথোয়াইপ্রু মারমা বলেন, এখনো ১৪৪ ধারা বলবৎ রয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনা করে ১৪৪ ধারা ওঠানো হবে। মানববন্ধনের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলার জন্য বলেন।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) হোসাইন মোহাম্মদ রায়হান কাজেমী বলেন, ১৪৪ ধারা গতকালই শেষ হয়েছে। এ বিষয়ে ইউএনওর সঙ্গে কথা বলবো।

প্রসঙ্গত, বৈষম্যবিরোধী নেতা হাবিবুর রহমান ফাহিমকে মারধর ও জুলাই ফাইটার্সের নেতা আকবর হোসেন মুন্নার ওপর হামলার অভিযোগে দু’পক্ষ রোববার (৫ এপ্রিল) বিকেলে শহরের চকবাজার এলাকায় পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি দেয়। এতে বিকেলে সাড়ে ৪টা থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য সদর উপজেলা প্রশাসন ঘটনাস্থলে ১৪৪ ধারা জারি করে। এ ঘটনায় বাজারে মাইকিংও করা হয়। এরপরও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের লোকজন সেখানে উপস্থিত হয়ে বিভিন্ন স্লোগান দেয়। একপর্যায়ে পুলিশের সঙ্গে তাদের হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। ঘটনার সময় নৈরাজ্যের প্রতিবাদে জুলাই ফাইটার্সের ব্যানারে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা শহরে মিছিল করে। এসব ঘটনার সময় ব্যবসায়ী শহিদুল্লাহ মারধরের শিকার হন।

কাজল কায়েস/এফএ/এএসএম