চৈত্র মাস মানেই তাপমাত্রা বাড়তে থাকা, বাতাসে শুষ্কতা আর চারপাশে অদৃশ্য ঝুঁকি। এই সময়টাতে ছোট্ট অসতর্কতাও বড় আগুনের ঘটনায় রূপ নিতে পারে।
রান্নাঘর, বৈদ্যুতিক লাইন, এমনকি বাসার ছোটখাটো কাজ - সব জায়গাতেই বাড়ে অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি। তাই এই মৌসুমে একটু বাড়তি সচেতনতা হতে পারে বড় দুর্ঘটনা এড়ানোর সবচেয়ে সহজ উপায়।
চৈত্রের এই সময়টায় যেসব বিষয়ে বিশেষ সতর্ক থাকা জরুরি -১. রান্নাঘরে অসতর্কতা এড়িয়ে চলুনগ্যাসের চুলা জ্বালিয়ে রেখে অন্য কাজে চলে যাওয়া, চুলার পাশে দাহ্য বস্তু রাখা - এগুলো রান্নাঘরে আগুন লাগার প্রধান কারণ। রান্না শেষ হলে গ্যাস বন্ধ হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করুন।
২. বৈদ্যুতিক লাইনে নজর দিনপুরোনো বা নষ্ট তার, একাধিক প্লাগে অতিরিক্ত লোড - এসব থেকেই শর্ট সার্কিট হতে পারে। বিশেষ করে গরমে ফ্যান, এসি বেশি ব্যবহারের কারণে লোডও বাড়ে। তাই নিয়মিত লাইন পরীক্ষা করা জরুরি। ছোট্ট স্পার্কও এড়িছে যাবেন না।
৩. দেশলাই, সিগারেট বা আগুনের উৎস সাবধানে ব্যবহার করুনঅনেক সময় অসাবধানতায় জ্বলন্ত সিগারেট বা দিয়াশলাই ফেলে দেওয়া হয়, যা শুকনো আবর্জনা বা কাপড়ে আগুন ধরাতে পারে।
৪. বাসার আশপাশ পরিষ্কার রাখুনশুকনো পাতা, কাগজ, প্লাস্টিক - এগুলো খুব দ্রুত আগুন ধরে। বাড়ির ছাদ বা বারান্দায় এসব জমতে দেবেন না।
৫. শিশুদের আগুন থেকে দূরে রাখুনলাইটার, ম্যাচ বা আগুনের কোনো উৎস শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন। কৌতূহল থেকেই তারা এগুলো নিয়ে খেলতে গিয়ে বিপদ ডেকে আনতে পারে।
৬. জরুরি প্রস্তুতি রাখুনবাসায় একটি অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র রাখা যেতে পারে। অন্তত পানি বা বালুর ব্যবস্থা রাখুন, যাতে ছোট আগুন দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা যায়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, গরম ও শুষ্ক আবহাওয়ায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। তাই আগুন লাগার পর নিয়ন্ত্রণের চেয়ে আগে থেকেই প্রতিরোধ গড়ে তোলা অনেক বেশি কার্যকর।
মনে রাখতে হবে, ছোট ছোট অসতর্কতা থেকেই বড় বিপদ তৈরি হতে পারে। তাই চৈত্রের এই সময়টায় একটু সচেতন থাকুন, নিরাপদ রাখুন নিজের পরিবার ও বাসস্থান।
সূত্র: বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, ন্যাশনাল ফায়ার প্রোটেকশন অ্যাসোসিয়েশন
এএমপি/এএসএম