ব্যবসা-বাণিজ্য ফেলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও তেল পাচ্ছি না। গত পরশু দীর্ঘ কয়েক ঘণ্টা অপেক্ষা করে লাইনের একদম সামনে যাওয়ার পর শুনি প্যাম্পের তেল শেষ। আজকে আবারও দাঁড়ালাম। এই ভোগান্তির শেষ কোথায়?
এভাবে নিজের ভোগান্তির কথা বলছিলেন বাগেরহাটের ট্রাভেল এজেন্সি ব্যবসায়ী আসাদুজ্জামান মিঠু। শুধু মিঠুই নয় তার মতো এমন ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন এ জেলার চালক থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীরাও।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) ভোর থেকে বাগেরহাট শহরের পাম্পগুলোতে তেল নিতে আসা শত শত মোটরসাইকেল ও যানবাহনের দীর্ঘ সারি লক্ষ্য করা গেছে। দীর্ঘ সময় অপেক্ষায় থেকেও চাহিদামতো তেল না পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন তারা।
জেলার ২৩টি ফিলিং স্টেশনে তেলের জন্য এমন হাহাকার দেখা দিয়েছে। মঙ্গলবার সকালে শহরের খারদ্বার এলাকার খানজাহান আলী ফিলিং স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, পেট্রোল ও ডিজেল নিতে শত শত মানুষের ভিড়। কেউ মধ্যরাত থেকে, আবার কেউ ফজরের আজানের পর থেকেই লাইনে দাঁড়িয়েছেন। ৪-৫ ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও অনেকে তেল না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন।
শহরের মিষ্টি ব্যবসায়ী সৌরভ সাহা জানান, প্রতিদিন ভোরে ২৫ কিলোমিটার দূর থেকে মোটরসাইকেলে দুধ আনতে হয় তাকে। কিন্তু আজ তেলের অভাবে তিনি যেতে পারেননি। তিনি বলেন, ভোর থেকে ৪ ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে আছি, দোকানের কাজ ফেলে তেলের জন্য বসে থাকতে হচ্ছে।
একই চিত্র কচুয়া থেকে আসা আবুল হাসানের ক্ষেত্রেও। তিনি বলেন, গতকাল তেল নিতে এসে তেল পাইনি। আজ ফজরের আজানের পর থেকেই এখানে সিরিয়াল দিয়েছি। দুই-চার ঘণ্টার মধ্যে তেল পাব কিনা সন্দেহ। সবাই কোনো না কোনো কাজ ফেলে তিন-চার ঘণ্টা ধরে দাঁড়িয়ে থেকে তেল নিচ্ছে। এখন পাম্পগুলো যদি একটু বেশি করে তেল দেয় তাহলে আমাদের এরকম বারবার সিরিয়াল দিয়ে তেল নিতে হতো না। সবারই একটা সময়ের মূল্য আছে। এই সময়ের মূল্য কে দিবে?
খানজাহান আলী ফিলিং স্টেশনের স্বত্বাধিকারী বদিউজ্জামান খোকন বলেন, ডিপো থেকে প্রাপ্তি সাপেক্ষে আমরা তেল সরবরাহ করছি। বর্তমানে যানবাহন চালকেরা প্রয়োজনের তুলনায় বেশি তেল নিচ্ছেন বলে কিছুটা সংকট তৈরি হয়েছে।
নাহিদ ফরাজী/কেএইচকে/জেআইএম