যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হওয়ায় বিশ্বজুড়ে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। এ বিষয়ে ইসলামাবাদে চূড়ান্ত শান্তি চুক্তির লক্ষ্যে আলোচনা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
মঙ্গলবার ডোনাল্ড ট্রাম্প এই যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেন। এর অংশ হিসেবে ইরান পুনরায় খুলে দেবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি, যার মাধ্যমে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল সরবরাহ হয়।
যুদ্ধবিরতির পর বিশ্বের বিভিন্ন দেশ প্রতিক্রিয়া।
ইরাক:
ইরাকের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যুদ্ধবিরতিকে স্বাগত জানিয়ে বলেছে, স্থায়ী সমাধানের জন্য উভয় পক্ষকে চুক্তি মেনে চলতে হবে এবং উত্তেজনা বৃদ্ধি থেকে বিরত থাকতে হবে।
মিশর:
মিশর বলেছে, এই যুদ্ধবিরতি আলোচনার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ এবং সামরিক কার্যক্রম বন্ধ রেখে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা জোরদার করা উচিত।
ইসরায়েল:
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ট্রাম্পের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেছেন। তবে তিনি বলেছেন, এই যুদ্ধবিরতি লেবাননকে অন্তর্ভুক্ত করে না, যেখানে ইসরায়েলি বাহিনী এখনও অভিযান চালাচ্ছে।
ওমান:
ওমান যুদ্ধবিরতিকে স্বাগত জানিয়ে বলেছে, সংকটের স্থায়ী সমাধানে এখন আরও প্রচেষ্টা জোরদার করতে হবে।
জাতিসংঘ:
জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যানোনিও গুতেরেস সব পক্ষকে যুদ্ধবিরতির শর্ত মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে একটি স্থায়ী ও বিস্তৃত শান্তির পথ তৈরি হয়।
জাপান:
জাপান এই যুদ্ধবিরতিকে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেছে এবং দ্রুত চূড়ান্ত চুক্তির আশা প্রকাশ করেছে।
ইন্দোনেশিয়া:
ইন্দোনেশিয়া উভয় পক্ষকে সার্বভৌমত্ব ও কূটনীতির প্রতি সম্মান প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছে।
মালয়েশিয়া:
মালয়েশিয়া বলেছে, এই যুদ্ধবিরতি উত্তেজনা কমাতে গুরুত্বপূর্ণ এবং সব পক্ষকে দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে।
অস্ট্রেলিয়া:
অস্ট্রেলিয়া সতর্ক করেছে যে দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ বৈশ্বিক অর্থনীতি ও জ্বালানি সরবরাহে বড় প্রভাব ফেলতে পারে এবং মানবিক ক্ষতি বাড়াবে।
নিউজিল্যান্ড:
নিউজিল্যান্ড বলেছে, এটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হলেও স্থায়ী যুদ্ধবিরতির জন্য আরও কাজ বাকি রয়েছে।
জার্মানি:
জার্মানি কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে স্থায়ী সমাধানের ওপর জোর দিয়েছে এবং মধ্যস্থতায় পাকিস্তানের ভূমিকাকে ধন্যবাদ জানিয়েছে।
ইউক্রেন:
ইউক্রেন এই যুদ্ধবিরতিকে স্বাগত জানিয়ে বলেছে, একই ধরনের দৃঢ় পদক্ষেপ রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধ বন্ধ করতেও প্রয়োজন।
সূত্র: আল-জাজিরা
এমএসএম