নারায়ণগঞ্জের ফলের আড়তগুলোতে তরমুজের সরবরাহ অনেক বেশি বেড়েছে। কিন্তু সে অনুযায়ী দাম পাচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা। আড়তগুলোতে পাইকারি ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের তেমন দেখা মিলছে না। গরমের তীব্রতা কম থাকা এবং পর্যাপ্ত ক্রেতা না থাকায় অনেক কম দামে বিক্রি করতে হচ্ছে তরমুজ। অনেক ক্ষেত্রে আবার তরমুজ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এতে লোকসানের আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে ব্যবসায়ীদের মধ্যে।
ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত ফেব্রুয়ারি মাসের মাঝামাঝি সময় থেকে বাজারে তরমুজ আসতে শুরু করে। সেই সঙ্গে রমজান মাস শুরু হলে তরমুজের ব্যাপক চাহিদা বাড়ে। কিন্তু রোজার পরে তরমুজের চাহিদা একেবারের কমে যায়। এখন বরিশাল থেকে তরমুজ আসছে। আর এসব তরমুজ এখান থেকে ময়মনসিংহ, কুমিল্লা, ঢাকা ও মুন্সিগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকায় যাচ্ছে।
আর এ বছর বরিশালে তরমুজের ব্যাপক ফলন হয়েছে। যার কারণে বাজারে অনেক তরমুজ আসছে। এরপর বরগুনা, ভোলা ও পটুয়াখালীসহ দক্ষিণাঞ্চলের তরমুজ আসবে। সবমিলিয়ে আরও প্রায় দেড়মাস তরমুজ বাজারে থাকবে। কিন্তু গরমের তীব্রতা কম থাকলে তরমুজের চাহিদা থাকবে না। ফলে এবার তরমুজ নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বাজার ঘুরে দেখা গেছে, আগে মাঝারি আকারের একটি তরমুজের দাম ছিল ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা। বর্তমানে সেই তরমুজ বিক্রি হচ্ছে ১৫০ থেকে ১৮০ টাকার মধ্যে। একইভাবে বড় আকারের তরমুজ, যা আগে ৫০০ থেকে ৬০০ টাকায় বিক্রি হতো, এখন তা ৩০০ থেকে ৪০০ টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে। আকার ও মানভেদে কোথাও কোথাও আবার দামে তারতম্যও দেখা গেছে।
রহিম আড়তের ব্যবসায়ী জহির বলেন, বর্তমান বাজারে তরমুজের আমদানি বেড়েছে কিন্তু চাহিদা অনেক কমে গেছে। বর্তমানে বরিশাল থেকে তরমুজ আসছে। এ বছর প্রায় সব জায়গাতেই তরমুজের ভালো ফলন হয়েছে। যার কারণে বাজারে অনেক তরমুজ আসছে। যদি গরম থাকে তাহলে কৃষক থেকে শুরু করে সবই যথাযথ দাম পাবে। অন্যথায় সবাইকে লোকসান গুনতে হবে।
মেসার্স আলী আকবর বাণিজ্যলায়নের ব্যবসায়ী আব্দুল কাদির বলেন, বর্তমানে বাজারে অনেক তরমুজ এসেছে। কিন্তু সে পরিমাণ অনুযায়ী চাহিদা নেই। যার কারণে এ বছরের তরমুজের দাম অনেক কমে গেছে। রমজানের সময়ে তরমুজের চাহিদা ছিল। রমজানের পরপরই বৃষ্টি শুরু হয়ে যাচ্ছে। ফলে ক্রেতার সংখ্যা অনেক কমে গেছে।
সর্দার ফার্মের ব্যবসায়ী সিটু বলেন, এবছর প্রতিদিন বরিশাল তরমুজের অনেক ট্রলার আসছে। কিন্তু সে অনুযায়ী বিক্রি হচ্ছে না। মনে হচ্ছে এবছর তরমুজ ব্যবসায় লোকসান গুণতে হবে।
নারায়ণগঞ্জ ফল আড়ৎদার ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. ফারুক হোসেন সরকার বলেন, আবহাওয়ার কারণে তরমুজের ব্যবসা ভালো যাচ্ছে না। এখনও কম্বল দিয়ে ঘুমাতে হয়। বৃষ্টি শুরু হয়েছে। গরম থাকলে তরমুজের চাহিদা থাকে। এ বছর তরমুজ আসছে বেশি কিন্তু ক্রেতা কম। যার কারণে অন্যান্য বছরের তুলনায় এবছর দাম কম পাওয়া যাচ্ছে।
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর নারায়ণগঞ্জ জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক হৃদয় রঞ্জন বনিক বলেন, এবার বাজারে অনেক তরমুজ এসেছে এবং দামও কম। তরমুজের ভালো ফলন হয়েছে। আমরা ফলের আড়তগুলোতে গিয়ে দেখেছি এবার অনেক তরমুজ এসেছে। তরমুজের ভালো ফলন হয়েছে বিধায় তরমুজ আছে এবং দাম কম আছে। চাহিদার তুলনায় জোগান বেশি আছে। যোগান বেশি আছে বলেই অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার দামটা কম আছে। আমরা আড়তগুলোতে তদারকি করছি।
মোবাশ্বির শ্রাবণ/এনএইচআর/এএসএম