জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম বলেছেন, গণঅভ্যুত্থানের দুই বছর পরও আমরা সবাই এক জায়গায় আছি। আমরা সেই ঐক্যের জায়গায় আছি যে বাংলাদেশকে সংস্কারের মধ্য দিয়ে পরিবর্তন করতে হবে। এই পরিবর্তনের পথে প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে বর্তমান বিএনপি সরকার।
তিনি বলেন, সরকার কখনো জুলাই যোদ্ধা, কখনো একাত্তরের নাম ব্যবহার করে তাদের বিভিন্ন কাজের বৈধতা দিচ্ছে। কিন্তু চব্বিশ এবং একাত্তর কোনোটিকেই তারা আসলে ধারণ করে না।
রোববার (১২ এপ্রিল) রাজধানীর কাকরাইলের ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে এক মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন তিনি। জুলাই শহীদদের পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের সঙ্গে এ মতবিনিময় করে এগারো দলীয় জোট।
সরকার কখনো সংস্কার বাস্তবায়ন করবে না মন্তব্য করে নাহিদ ইসলাম বলেন, আমরা চেয়েছিলাম সংসদে সবকিছুর সমাধান হবে। কিন্তু সংসদকে ব্যর্থ করে দেওয়া হয়েছে। এবার আমাদের গণআন্দোলনের প্রস্তুতি নিতে হবে। গণআন্দোলন ছাড়া সরকার সংস্কার বাস্তবায়ন করবে না। তবে এবার আমাদের পরিকল্পনা মোতাবেক রাজপথে নামতে হবে। এবার আর ব্যর্থ কিংবা অর্ধেক সফল হতে চাই না।
আরও পড়ুনস্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ‘মব কালচার’ শেষ করার ঘোষণা দিলেও থামাতে ব্যর্থ ‘জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না হলে রাজপথেই সমাধান’
তিনি বলেন, সংস্কার কোনো দলের না। এটা বাংলাদেশ রক্ষার দাবি। আমরা ঐক্যবদ্ধ আছি। এবার আমরা মঞ্চে যারা বসে আছি তারা সামনে দাঁড়াবো। গুলি আসলে আগে আমাদের বুকে লাগবে। আপনারা সহযোগিতা করবেন। ইনশাআল্লাহ, নতুন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা হবে। সংস্কার বাস্তবায়ন করা হবে। বিএনপি কিংবা কোনো বিদেশি শক্তি বাধা দিলে তাদের পরাজিত করা হবে।
শহীদদের পরিবারকে সরকার ব্যবহার করছে অভিযোগ করে এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, জুলাই শহীদ ও আহতরা এ দেশের সম্পদ। তাদের নিয়ে আমরা রাজনীতি করতে চাই না। আমাদের দাবি সমর্থন করলে আমাদের সহযোগিতা করবেন। সরকার কখনো জুলাই যোদ্ধা, কখনো একাত্তরের নাম ব্যবহার করে তাদের বিভিন্ন কাজের বৈধতা দিচ্ছে। কিন্তু চব্বিশ এবং একাত্তর কোনোটিকেই তারা আসলে ধারণ করে না।
বিএনপি সরকার গঠনের পর থেকেই বাংলাদেশ পেছনের দিকে হাঁটছে অভিযোগ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, এ দেশের গণআন্দোলনের সুফল বিএনপি ভোগ করেছে। নব্বইয়ের গণঅভ্যুত্থানের সুফল তারা ভোগ করেছে। কিন্তু ক্ষমতায় বসে তিন জোটের রূপরেখাকে ছুঁড়ে ফেলে দিয়েছে। এখনো জুলাই সনদ এবং অধ্যাদেশ প্রত্যাখ্যান করছে।
অনুষ্ঠানে এগারো দলীয় জোটের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
এনএস/কেএসআর