গণভোটের গণরায়কে প্রত্যাখ্যান করার পরিণতি সরকারকে ভোগ করতে হবে জানিয়ে এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম বলেছেন, আমাদের এখন যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করার কথা। জাতীয় স্বার্থ কীভাবে ঐক্যবদ্ধভাবে সুরক্ষিত করবো। হামের মতো দুর্যোগ কীভাবে মোকাবিলা করবো। জ্বালানি সংকট সমাধান নিয়ে সেমিনার করার কথা। কিন্তু আমাদের দুর্ভাগ্য গত ১৬ বছর যে সংস্কারের কথা বলতে হয়েছে, অন্তর্বর্তী সরকার যে সংস্কারের আলোচনা করেছে, এখনো আমাদের সেসব নিয়ে পড়ে থাকতে হচ্ছে।
তিনি বলেন, জাতিকে এই দুর্যোগে টেনে এনেছে বিএনপি। ফলে বিএনপিকে এর দায়ভার এবং পরিণতি ভোগ করতে হবে। এর পরিণতি খুব সহজ হবে না।
সোমবার (১৩ এপ্রিল) রাজধানীর কাকরাইলে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স মিলনায়তনে ‘গণভোটের রায়ের বিরুদ্ধে সরকার: সংকটের মুখোমুখি দেশ’ শীর্ষক জাতীয় সেমিনারে এসব কথা বলেন তিনি। সেমিনারের আয়োজন করে ১১ দলীয় ঐক্য।
নাহিদ ইসলাম বলেন, গণঅভ্যুত্থান পরবর্তীসময়ে দেশে দুটি প্রশ্ন দেখা দেয়। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের দাবি ছিল ফ্যাসিবাদের বিলোপ। বিএনপি চেয়েছিল নির্বাচন। আমরা সংস্কারের জন্য গণপরিষদের দাবি জানিয়েছিলাম। পরে বিএনপি সংস্কারের আলোচনায় অংশ নেয়। এজন্য আমরা গণপরিষদের পরিবর্তে সংস্কার পরিষদের দাবি মেনে নেই।
বিএনপি একটি কৃত্রিম বিরোধ তৈরি করছে উল্লেখ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘বিএনপি জুলাই সনদ আর জুলাই আদেশকে আলাদা করার চেষ্টা করছে। কারণ জুলাই সনদকে তারা নিজেদের দলীয় ইশতেহারে পরিণত করেছে। এজন্য গণভোটের প্রশ্ন দেখা দেয়। কারণ সংবিধানের ফ্রেমওয়ার্কের মধ্যে সংবিধানের মৌলিক কাঠামো পরিবর্তন সম্ভব নয়। এজন্য গাঠনিক ক্ষমতা সংস্কার পরিষদের কথা এসেছে। ঐকমত্য কমিশনের আলোচনায় বিএনপি এসব মেনে নিয়েছে। এখন বিএনপি কথার বরখেলাপ করেছে। গণভোটের গণরায়কে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়েছে।’
গণভোটের গণরায়কে প্রত্যাখ্যান করার পরিণতি সরকারকে ভোগ করতে হবে জানিয়ে বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ বলেন, আমাদের এখন যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করার কথা। জাতীয় স্বার্থ কীভাবে ঐক্যবদ্ধভাবে সুরক্ষিত করবো। হামের মতো দুর্যোগ কীভাবে মোকাবিলা করবো। জ্বালানি সংকট সমাধান নিয়ে সেমিনার করার কথা। আমাদের দুর্ভাগ্য গত ১৬ বছর যে সংস্কারের কথা বলতে হয়েছে, অন্তর্বর্তী সরকার যে সংস্কারের আলোচনা করেছে, এখনো আমাদের সেসব নিয়ে পড়ে থাকতে হচ্ছে। জাতিকে এই দুর্যোগে টেনে এনেছে বিএনপি। ফলে বিএনপিকে এর দায়ভার এবং পরিণতি ভোগ করতে হবে। এর পরিণতি খুব সহজ হবে না।
সংকট সমাধানে দ্রুত সংস্কার পরিষদ বাস্তবায়নের দাবি জানিয়ে এনসিপি আহ্বায়ক বলেন, সরকারকে বলবো দ্রুত সংবিধান সংস্কার পরিষদ করে এই সংকটের সুরাহা করেন। জাতীয় ঐক্যকে টিকিয়ে রাখুন। না হলে এর পরিণতি আপনাদের ভোগ করতে হবে।
সেমিনারের প্রধান অতিথি ছিলেন বিরোধী দলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক। বিশেষ অতিথি উপস্থিত ছিলেন এলডিপির চেয়ারম্যান কর্নেল অলি আহমদ, জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমসহ ১১ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতারা।
এনএস/এমআইএইচএস