শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন আজ বিকেলে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (যবিপ্রবি) এক সেমিনারে যোগ দেন। সেখানে তার পাশে বসেছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়টির উপাচার্য (ভিসি) অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল মজিদ।
সেমিনারে ভিসি অধ্যাপক আব্দুল মজিদ যখন শিক্ষামন্ত্রীর পাশে বসেছিলেন, ঠিক তখনই শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। তাতে যবিপ্রবির ভিসি পদ থেকে আব্দুল মজিদকে অব্যাহতি দেওয়ার তথ্য জানানো হয়। অর্থাৎ, মন্ত্রীর পাশে বসেই ভিসি পদ হারিয়েছেন অধ্যাপক আব্দুল মজিদ।
বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে সাংবাদিকরা যখন তাকে কল করেন, তখন তিনি বলেন, ‘আমি এখন শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে একটি প্রোগ্রামে আছি। অব্যাহতির খবর জানি না। আপনাদের কাছ থেকেই শুনলাম।’
শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে বসে থাকা অবস্থায় পদ হারানোর বিষয়টি নিয়ে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (যবিপ্রবি) ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। কয়েকজন শিক্ষকের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সোমবার (১৩ এপ্রিল) বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাস্যুরেন্স সেলের (আইকিউএসি) আয়োজনে যবিপ্রবির অধ্যাপক মোহাম্মদ শরীফ হোসেন গ্যালারিতে সেমিনারের আয়োজন করা হয়। তাতে প্রধান অতিথি ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। এতে সভাপতিত্ব করেন সদ্য অব্যাহতিপ্রাপ্ত ভিসি অধ্যাপক আব্দুল মজিদ।
বিশ্ববিদ্যালয়টির একজন সহযোগী অধ্যাপক নাম প্রকাশ না করে সন্ধ্যায় জাগো নিউজকে বলেন, ‘শোনা যাচ্ছিল ওনাকে রাখা হবে না। কিন্তু আজকের সেমিনারে মন্ত্রী যোগ দেওয়ায় অনেকে ভেবেছিলেন ভিসি মনে হয় টিকে যাবেন। কিন্তু তিনি যখন মন্ত্রীর পাশে বসা, তখনই খবর এলো তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি অলৌকিক মনে হচ্ছে!’
সোমবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, রাষ্ট্রপতি ও চ্যান্সেলরের অনুমোদনক্রমে মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের ২০২৪ সালের ৯ সেপ্টেম্বরের প্রজ্ঞাপনের শর্ত মোতাবেক অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল মজিদকে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর (ভিসি) পদ থেকে অব্যাহতিপূর্বক মূলপদে যোগদানের অনুমতি প্রদান করা হলো।
এদিকে, অধ্যাপক আব্দুল মজিদের স্থলে যবিপ্রবিতে নতুন উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োকেমিস্ট্রি অ্যান্ড মলিকিউলার বায়োলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. ইয়ারুল কবীরকে চার বছরের জন্য উপাচার্য পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
এএএইচ/ইএ