দেশজুড়ে

রংপুরে প্রতারক চক্রের ৩ সদস্য গ্রেফতার

মোবাইল ফোনে প্রতারণা করে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে প্রতারক চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। রোববার রাতে রংপুর পিবিআই পুলিশের সহায়তায় পিবিআই হেডকোয়ার্টার্স এর একটি বিশেষ দল নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করে। গ্রেফতাররা হলেন- নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার চিরুভিজা গ্রামের মজিবর রহমানের ছেলে আফিউল (২৪), একই উপজেলার দুনদলী গ্রামের ডালিম চন্দ্র শীলের ছেলে প্রতীপ চন্দ্র শীল (২৫) ও বগুড়াগালী গ্রামের মতিজার রহমানের ছেলে আ. খালেক (২৫)। এসময় প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে।সোমবার দুপুর ১২টায় পিবিআই রংপুর জেলার প্রধান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শহিদুল্লাহ কাওসার তার কার্যালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে গ্রেফতারের বিষয়টি জানিয়ে বলেন, গত ৪ জুলাই অপরিচিত একটি মোবাইল ফোন থেকে আবু জাফর আজাদ নামে এক ব্যক্তিকে কল দেয় প্রতারক চক্রটি। এসময় প্রতারক চক্রের এক সদস্য আজাদকে তার বন্ধু সালাউদ্দিন পরিচয় দিয়ে কান্না জড়িত কণ্ঠে বলে যে, সে ওমান থেকে দেশে এসেছে এবং তার মা হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেছে। এ অবস্থায় তার কাছে কোনো টাকা পয়সা নেই। তাই বিকাশে টাকা পাঠানোর জন্য জাফরকে অনুরোধ করা হয়। তার কথা মতো আবু জাফর আজাদ তাৎক্ষণিক ঢাকার আজিজ সুপার মার্কেটস্থ একটি বিকাশ এজেন্ট নম্বরে ২২ হাজার টাকা পাঠিয়ে দেন। প্রেস ব্রিফিংয়ে পিবিআই প্রধান আরো জানান, একই দিনে জাফরের অপর বন্ধু নোয়াখালি জেলার সোনাইমুড়ি উপজেলার বড় কোনা গ্রামের সামসুল হুদা ভুঁইয়াকেও (৬৪) বন্ধু তোফায়েল পরিচয় দিয়ে একই কায়দায় তিন দফায় ৬৫ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয় প্রতারক চক্রটি। পরে আবু জাফর আজাদ খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন তার বন্ধু সালাউদ্দিন দেশে আসেননি। তিনি ওমানেই অবস্থান করছেন।এ ঘটনায় আজাদ গত ২৭ জুলাই শাহাবাগ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে মামলার তদন্ত কার্যক্রম পিবিআই পুলিশের উপর ন্যাস্ত হলে বিভিন্নভাবে অনুসন্ধান চালিয়ে ওই প্রতারক চক্রের তিন সদস্যকে রোববার রাতে গ্রেফতার করা হয়। এসময় তাদের কাছ থেকে ৯টি মোবাইল, বিভিন্ন অপারেটরের ৩০টি সিম কার্ড, নগদ ১৬ হাজার টাকা, বেশ কিছু নাম- ঠিকানাবিহীন বিকাশের রেজিস্ট্রেশন ফরম, ৮টি ভোটার আইডি কার্ড এবং ১টি বায়োমেট্রিক রেজিস্টেশন ডিভাইস জব্দ করা হয় বলেও তিনি জানান।জিতু কবীর/এফএ/পিআর