সকাল ৬টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত চলে রুটি তৈরি ও বিক্রির কাজ । গত ১১ বছর ধরে তিনি এ কাজ করছেন। বলছিলাম নওগাঁ সরকারি বিএমসি মহিলা কলেজের প্রাচীরের মূল সড়কের পাশে টিনের ছাউনি ও বাঁশের বেড়া দিয়ে ঘেরা দোকানে রুটি বিক্রি করা রহিদুল ইসলামের কথা। এলাকায় এখন তিনি রুটি মামা বলে পরিচিত। রুটি বিক্রি করেই এখন তার আর্থিক অবস্থার উন্নয়ন হয়েছে।রুটির সঙ্গে রয়েছে আলু বা ডাল ঘাঁটি, আলুর ভর্তা, কাঁচা মরিচের চাটনি, সবজি, গুড় ও ডিম ভাজি। দোকানের নিয়মিত ক্রেতা ভ্যান ও রিকশাচালক। এছাড়াও স্কুল, কলেজের ছাত্রছাত্রী ও চাকরিজীবীরাও তার দোকানের ক্রেতা।জানা যায়, প্রতিদিন সর্বনিম্ন ১৫ কেজি ময়দা/আটার রুটি বিক্রি হয়। তবে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার সময় দেড় মণের মতো বিক্রি হয়ে থাকে। প্রতিটি রুটি পাঁচ টাকা। প্রতি কেজি থেকে ১২টার মতো রুটি তৈরি হয়। রিকশাচালক লুৎফর রহমান বলেন, সকালে বাড়ি থেকে রিকশা নিয়ে কিছু না খেয়ে বের হতে হয়। বেলা ৮/৯টা হলে রুটি মামার দোকানে আসি। দাম কম হওয়ায় স্বল্প টাকায় খেয়েও তৃপ্তি পাওয়া যায়।বন্ধুদের সঙ্গে রুটি খেতে আসা সুমন বলে, সকালে বাড়িতে কিছু খেয়ে স্যারের কাছে প্রাইভেট পড়তে আসি। প্রাইভেট শেষে স্কুলে যাওয়ার আগে রুটির দোকানে মাঝে মধ্যে রুটি খেয়ে স্কুলে যায়।রুটি মামা রহিদুল ইসলাম বলেন, গত ১১ বছর যাবত রুটি বিক্রি করছি। এর আগে খড়ি চেরার কাজ করতাম। পরিশ্রম বেশি হলেও টাকা তেমন পাওয়া যেত না। খড়ি চেরার কাজ বাদ দিয়ে রুটির দোকান দেই। মুদি দোকানের খরচ বেশি। পুঁজিও বেশি লাগে। এছাড়া বাকীও রাখে ক্রেতারা। বাধ্য হয়ে রুটির দোকান দিয়েছি। সপ্তাহের সাতদিনই রুটি বিক্রি করা হয়। রুটির দোকানে এখন একটু বেশি ভীড় হওয়ায় পনেরশ টাকা বেতনে আরিফ নামে ১২ বছরের এক ছেলেকে কাজে নিয়েছি।তিনি আরো বলেন, রুটির দোকানের আয় থেকে সাত বছর আগে পৌরসভার মধ্য চকপ্রসাদ এলাকায় আড়াই কাঠা জমি সাত লাখ টাকা দিয়ে কিনেছি। সেখানে তিন লাখ টাকা খরচ করে তিন রুম বিশিষ্ট ইটের আধাপাকা বাড়ি করেছি।স্ত্রী মরজিনা বেগম সংসার দেখেন ও হাস মুরগি পালন করে। আর দুই ছেলে মমিনুল চতুর্থ শ্রেণি এবং রাব্বানা প্রথম শ্রেণিতে পড়ে। অভাবের সংসারে আট ভাই বোনের মধ্যে বড় হওয়ায় নিজে তেমন লেখাপড়া করতে পারি নাই। তবে ছেলেদের কষ্ট করে হলেও লেখাপড়া শেখাবো।তিনি আরো বলেন, সরকারি জায়গায় ছোট্ট একটা দোকান দিয়েছি। তার জন্য ৮০০ টাকা ভাড়া দিতে হয়। স্থানীয় কিছু মাস্তান আছে প্রতি মাসে এসে টাকা নিয়ে যায়। ভাড়ার টাকা দিবো না বলে সরকার দলীয় এমপি পর্যন্ত গিয়েছিলাম। কিন্তু কাজ হয়নি।আব্বাস আলী/এসএস/এমএস