সর্বনিম্ন মজুরি ১০ হাজার টাকা প্রদানসহ ১৫ দফা দাবিতে অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতি শুরু করেছে নৌযান শ্রমিকেরা। সোমবার দিবাগত রাত ১২টা ১ মিনিট থেকে এই কর্মবিরতি শুরু হয়েছে। আর এতে কার্যত অচল হয়ে পড়েছে সারা দেশের নৌ-যোগাযোগ। এরআগে চলতি বছরের এপ্রিলেও ১৫ দফা দাবিতে ধর্মঘট ডেকেছিল নৌযান শ্রমিক ফেডারেশন ও বাংলাদেশ জাহাজী শ্রমিক ফেডারেশন। এর পাঁচ দিন পর সচিবালয়ে নৌমন্ত্রী শাজাহান খানের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক শেষে ধর্মঘট কর্মসূচি স্থগিতের ঘোষণা আসে শ্রমিকদের তরফ থেকে। এরপর আবার ধর্মঘট শুরু করেন নৌযান মালিকরা। ওই দুই দফা ধর্মঘটে প্রায় ১১ দিন ব্যাহত হয়েছিল বাংলাদেশের নৌ-যোগাযোগ ব্যবস্থা। নৌ-যান শ্রমিকদের চলতি কর্মবিরতির বিষয়ে আমাদের বরিশাল প্রতিনিধি জানিয়েছেন, নৌ-শ্রমিক সংগ্রাম পরিষদের ব্যানারে এই কর্মসূচির ডাক দেয়া হলেও বাকি সংগঠনগুলো সমর্থন জানিয়ে কর্মবিরতি পালন শুরু করেছে। কর্মবিরতির ফলে যাত্রী, পণ্য ও জ্বালানিবাহীসহ দেশের সব ধরনের নৌযান চলাচল বন্ধ থাকবে বলে সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিক ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি মো. শাহ আলম জানান, যুগযুগ ধরে নৌযান মালিকেরা শ্রমিকদের কম মজুরি দিয়ে আসছেন। দেশে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে নৌযান শ্রমিকেরা অসহায় জীবন-যাপন করছেন। তাই শ্রমিকদের সর্বনিম্ন ১০ হাজার টাকা মজুরিসহ ১৫ দফা দাবিতে চলতি বছরের ২৬ জানুয়ারি থেকে লাগাতার ধর্মঘট আহ্বান করা হয়েছিল। ওই সময় নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান জরুরি সভা ডেকে তাদের দাবি মেনে নেয়ার জন্য সময় চাইলে ধর্মঘট স্থগিত করা হয়। কিন্তু মন্ত্রীর আশ্বাস আর বাস্তবায়ন হয়নি।আমাদের চাঁদপুর প্রতিনিধি জানিয়েছেন, অনির্দিষ্টকালের ডাকা নৌ ধর্মঘটে অচল হয়ে পড়েছে চাঁদপুরের নৌ-যোগাযোগ ব্যবস্থা। ধর্মঘটে চাঁদপুর থেকে ঢাকা, বরিশাল, খুলনা, শরীয়তপুরসহ ১৭টি রুটে লঞ্চ চলাচল বন্ধ রয়েছে।বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিক লীগের চাঁদপুর শাখার সভাপতি বিপ্লব সরকার জাগো নিউজকে জানায়, ন্যুনতম মজুরি ১০ হাজার টাকা নির্ধারণসহ চার দফা দাবিতে এই ধর্মঘট ডাকা হয়েছে। যাত্রীবাহী লঞ্চ, পণ্যবাহী লাইটার জাহাজের শ্রমিকরা ধর্মঘটের আওতায় রয়েছেন।জাগোনিউজের খুলনা প্রতিনিধি জানিয়েছেন, নৌযান শ্রমিকদের এই ধর্মঘটের ফলে আউটার অ্যাংকরেজে অবস্থানরত জাহাজে পণ্য ওঠা-নামার কাজসহ মংলা বন্দরের সঙ্গে নৌপথে আমদানি-রফতানি ও পণ্য পরিবহন বন্ধ রয়েছে। এরে ফলে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন মংলা বন্দর ব্যবহারকারী, আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীরা। নৌ শ্রমিক সংগ্রাম পরিষদের মতে, দেশে প্রায় ১৯ হাজার ৫০০ কার্গো, কোস্টার, বার্জ ও লঞ্চসহ অন্যান্য সকল নৌযানের ২ লাখ শ্রমিক দাবি আদায়ে সোমবার রাত ১২টা ১ মিনিট থেকে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট পালন করছে। নৌযান শ্রমিকরা মংলার পশুর, শরণখোলার বলেশ্বর ও মোড়েলগঞ্জের পানগুছি নদীতে নোঙ্গর করে রেখেছে কয়েকশ কার্গো, কোস্টার, বার্জসহ লাইটারেজ জাহাজ।নৌ শ্রমিক সংগ্রাম পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির আহ্বায়ক ওয়েজুল ইসলাম বুলবুল ও বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিক ফেডারেশনের সহ-সভাপতি আবুল কাশেম মাস্টার জানান, সারাদেশের নৌপথে চলাচলকারী পণ্য ও যাত্রীবাহী নৌযানের শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন সর্বনিম্ন ১০ হাজার টাকা বৃদ্ধিসহ ১৫ দফা দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত অনির্দিষ্টকালের এ ধর্মঘট চলবে। তবে তেলবাহী ট্যাঙ্কার এ ধর্মঘটের আওতামুক্ত থাকবে বলেও জানান তারা। এনএফ/পিআর